• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৩ পূর্বাহ্ন
Headline
নলডাঙ্গায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত, গুরুত্ব পেল জনসচেতনতা যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী মাহমুদুল আলমের উদ্যোগে প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইল চেয়ার, সেলাই মেশিন ও ক্রাচ বিতরণ সান্তাহার পৌর যুবদলের উদ্যোগে নানা আয়োজনে ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত দুই বছরের মধ্যে স্বাস্থ্যখাতে আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্য: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের ৫ অগ্রাধিকার খাতে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে: রাষ্ট্রপতি  বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে সুইজারল্যান্ডের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী  বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে আগ্রহী জাপান উন্নত বাংলাদেশ গড়তে প্রবাসী-দেশবাসীকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

জ্বালানির বহুমুখী সংকটে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নাজুক

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৫০ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

  • মধ্যরাতে সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং
  • দুপুরেও চাহিদার ১৮ শতাংশ ঘাটতি, শিল্প সেচ ও জনজীবনে বিপর্যয়
  • জনগণের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বেড়েছে
  • ‘ভিআইপি এলাকাতেও’ লোডশেড হচ্ছে

গ্যাস, কয়লা ও জ্বালানি তেলের একযোগে সংকটের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বড় কয়েকটি বিদ্যুেকন্দ্রের ইউনিট বন্ধ থাকা। রবিবার রাত ২টায় লোডশেডিং সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫৯৫ মেগাওয়াটে ওঠে। গতকাল সোমবার দুপুর ১টায়ও চাহিদার প্রায় ১৮ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যায়নি। সাবস্টেশন পর্যায়ে লোডশেডের এ তথ্যের চেয়ে গ্রাহক অভিজ্ঞতায় লোডশেডিং আরো বেশি। অর্থাৎ এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা নাজুক বিদ্যুৎ পরিস্থিতি আগস্ট মাস শেষ করল দেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ লোডশেডিং নিয়ে।

তীব্র গরমের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় রাজধানী থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম সবখানেই জনদুর্ভোগ চরমে উঠেছে। গ্যাস ও বিদ্যুতের অভাবে শিল্পকারখানার উত্পাদন বন্ধ বা সীমিত হয়ে পড়ছে। কৃষিপ্রধান এলাকায় ব্যাহত হচ্ছে সেচ। বিদ্যুৎ না থাকায় পোলট্রি ও গবাদিপশুর খামার নিয়েও বিপাকে পড়েছেন উদ্যোক্তারা। সংকটকে কেন্দ্র করে শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের মধ্যেও ক্ষোভ বাড়ছে। আগস্টে কয়েকটি জেলায় সড়ক অবরোধ ও বিদ্যুৎ কার্যালয় ঘেরাওয়ের কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয়রা। হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বিদ্যুৎ সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাতেও।

সোমবারে গড়ে আড়াই হাজার মেগাওয়াট লোডশেড

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলতি আগস্টে দেশে এক দিনে সর্বোচ্চ লোডশেডের রেকর্ড হয়েছে। মাস জুড়েই ছিল রেকর্ড লোডশেড। এলএনজি সরবরাহ না বাড়লে এবং পায়রা ও মাতারবাড়ী বিদ্যুেকন্দ্রের বন্ধ ইউনিট চালু না হলে দ্রুত পরিস্থিতির বড় উন্নতির সম্ভাবনা নেই। কয়লার মজুত এবং তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। আর গরম না কমলে সার্বিক সংকট পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির (পিজিসিবি) ঘণ্টাভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, সোমবার দুপুর ১টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ২৪২ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ করা হয় ১৩ হাজার ৩৩৮ মেগাওয়াট। লোডশেডিং ছিল ২ হাজার ৯০৪ মেগাওয়াট। অর্থাৎ চাহিদার ১৭ দশমিক ৯ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যায়নি।

এর আগে রাত ১টায় ১৬ হাজার ৬৭৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ১৩ হাজার ২৪৮ মেগাওয়াট। ঘাটতি ছিল ৩ হাজার ৪২৭ মেগাওয়াট। রাত ২টায় চাহিদা বেড়ে ১৬ হাজার ৮০৯ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ কমে ১৩ হাজার ২১৪ মেগাওয়াটে নামে। তখন দিনের সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫৯৫ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়। ভোরের পর ঘাটতি কিছুটা কমলেও তা স্থিতিশীল থাকেনি। সকাল ৬টায় লোডশেডিং ছিল ২ হাজার ২৫৫ মেগাওয়াট। সকাল ৯টায় তা ১ হাজার ৯৬৭ এবং সকাল ১১টায় ১ হাজার ৪৪৫ মেগাওয়াটে নামে। কিন্তু মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে দুপুর ১২টায় লোডশেডিং দ্বিগুণের বেশি বেড়ে ৩ হাজার ১০১ মেগাওয়াটে ওঠে। ঐ সময় চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ১৪৬ মেগাওয়াট এবং সরবরাহ ১৩ হাজার ৪৫ মেগাওয়াট। রাত ১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ঘণ্টাপ্রতি হিসাব বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গড়ে প্রায় ২ হাজার ৫০৯ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহের এমন বড় ওঠানামার কারণে বিতরণ কোম্পানিগুলোও নির্দিষ্ট সময়সূচি ধরে লোডশেডিং করতে পারছে না।

রবিবার সরবরাহ হয়নি ৭ কোটি ১৫ লাখ ইউনিট

রবিবারও দিনভর উচ্চমাত্রার লোডশেডিং হয়েছে। পিজিসিবির জাতীয় লোড ডেসপাচ সেন্টারের দৈনিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুপুর ৩টায় উত্পাদন ছিল ১৩ হাজার ৫১৪ মেগাওয়াট। এ সময় লোডশেডিং করা হয় দিনের সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৬৯২ মেগাওয়াট। বিকাল ৪টায়ও ঘাটতি ছিল ৩ হাজার ৬৩৯ মেগাওয়াট।

সন্ধ্যায় তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর উত্পাদন বাড়ানো হলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়। রাত ৯টায় উত্পাদন দিনের সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ৮২৯ মেগাওয়াটে উঠলেও চাহিদা বেড়ে দাঁড়ায় ১৮ হাজার ৩৩০ মেগাওয়াট। ঐ সময় লোডশেডিং ছিল ২ হাজার ৩৯৩ মেগাওয়াট।

পিজিসিবির হিসাবে, রবিবার সারা দিনে ৩৪ কোটি ৪৫ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ উত্পাদন করা হয়েছে। চাহিদা ছিল প্রায় ৪১ কোটি ৬০ লাখ ইউনিট। ফলে ৭ কোটি ১৫ লাখ ইউনিটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যায়নি। অর্থাৎ এক দিনে গ্রাহকের মোট চাহিদার প্রায় ১৭ দশমিক ২ শতাংশ বিদ্যুৎ ঘাটতি ছিল।

গ্যাসের চাহিদার ৩৯ শতাংশ ঘাটতি

দেশের বিদ্যুৎ উত্পাদন ব্যবস্থার প্রধান ভিত্তি গ্যাস। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্রগুলোর সক্ষমতা ১২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। কিন্তু গ্যাসের অভাবে এসব কেন্দ্র থেকে ৪ হাজার ২০০ থেকে ৫ হাজার ১০০ মেগাওয়াটের মতো উত্পাদন হচ্ছে। কখনো তা সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াটেও নেমে যাচ্ছে। পেট্রোবাংলার হিসাবে, দেশে গ্যাসের দৈনিক চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। রবিবার সন্ধ্যায় জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়েছে ২৩২ কোটি ২০ লাখ ঘনফুট। ঘাটতি ছিল প্রায় ১৪৮ কোটি ঘনফুট বা ৩৯ শতাংশ। সরবরাহ করা গ্যাসের মধ্যে দেশীয় উত্স থেকে এসেছে প্রায় ১৬১ কোটি এবং আমদানি করা এলএনজি থেকে ৭১ কোটি ২০ লাখ ঘনফুট।

মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার পর গ্যাসের সংকট তীব্র হয়েছে। এর সবচেয়ে বড় ধাক্কা পড়েছে বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতে। গ্যাসের অভাবে ঘোড়াশাল, সিদ্ধিরগঞ্জ, মেঘনাঘাট ও আশুগঞ্জের একাধিক কেন্দ্র পুরোপুরি বা আংশিক বন্ধ রয়েছে। কিছু কেন্দ্র নিম্নচাপের কারণে সক্ষমতার সামান্য অংশ ব্যবহার করতে পারছে।

রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন এলএনজি কার্গো এলে সেপ্টেম্বরের প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহে সরবরাহ কিছুটা বাড়তে পারে। তবে একটি কার্গো দিয়ে চলমান বড় ঘাটতি পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়।

কয়লার সক্ষমতার প্রায় অর্ধেক অব্যবহূত

 দেশে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্রগুলোর মোট উত্পাদন সক্ষমতা ৮ হাজার ৪২৩ মেগাওয়াট। কিন্তু এসব কেন্দ্র থেকে পাওয়া যাচ্ছে ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট। অর্থাৎ প্রায় অর্ধেক সক্ষমতা ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

পায়রা ও মাতারবাড়ী বিদ্যুেকন্দ্রের একটি করে ইউনিট বন্ধ। দুই কেন্দ্র থেকে অন্তত ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। মাতারবাড়ীর একটি ইউনিট বন্ধ থাকায় উত্পাদন ৫৫০ থেকে ৫৮০ মেগাওয়াটের মধ্যে রয়েছে। পায়রাও অর্ধেক সক্ষমতায় চলছে। রামপাল ও পটুয়াখালীর আরএনপিএল বিদ্যুেকন্দ্রে কয়লার মজুত কম থাকায় পূর্ণ সক্ষমতায় উত্পাদন করা যাচ্ছে না। বড়পুকুরিয়ার একটি ইউনিটও রক্ষণাবেক্ষণে বন্ধ। চট্টগ্রামের বাঁশখালীর এসএস পাওয়ার পূর্ণ সক্ষমতার কাছাকাছি উত্পাদন করলেও অন্য কেন্দ্রগুলোর ঘাটতি পূরণ করা যাচ্ছে না।

ভারতের ঝাড়খণ্ডে আদানি পাওয়ার থেকে পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ আনা যাচ্ছে না। ১৪৭০ মেগাওয়াটের কেন্দ্রটি থেকে পিক আওয়ারেও ১২শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আনা যাচ্ছে না। ররিবার ১ হাজার ১১১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ এসেছে। ফলে আমদানিনির্ভর বিদ্যুৎ দিয়েও ঘাটতি সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া আকস্মিক বন্যার কারণে নেপাল থেকে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানিও বন্ধ রয়েছে।

তেলের কেন্দ্র চালিয়েও মিলছে না স্বস্তি

গ্যাস ও কয়লার ঘাটতি সামাল দিতে ব্যয়বহুল তেলভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্রগুলোর উত্পাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছে পিডিবি। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন গত এক সপ্তাহে এসব কেন্দ্রের জন্য অন্তত ২০ হাজার টন ফার্নেস অয়েল সরবরাহ করেছে। এটি নির্ধারিত সূচির প্রায় দ্বিগুণ।

দেশে ফার্নেস অয়েলচালিত বিদ্যুেকন্দ্রগুলোর উত্পাদন সক্ষমতা ৫ হাজার ৬০০ মেগাওয়াটের বেশি। কিন্তু তেলসংকটে ২৮টি কেন্দ্র পুরোপুরি বা আংশিক বন্ধ রয়েছে। দিনের বেশির ভাগ সময় এসব কেন্দ্র থেকে দেড় হাজার থেকে ২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। সন্ধ্যার সর্বোচ্চ চাহিদার সময় ব্যয়বহুল তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর উত্পাদন বাড়িয়ে ঘাটতি কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

তবে তেলভিত্তিক বিদ্যুতের উত্পাদন ব্যয় অনেক বেশি। ফলে এটি দিয়ে দীর্ঘ মেয়াদে সংকট সামাল দেওয়া আর্থিকভাবে কঠিন। পিজিসিবির হিসাবে, রবিবার প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় উত্পাদন ব্যয় ছিল ৭ টাকা ৭৪ পয়সা। তেলভিত্তিক উত্পাদন বাড়লে এ ব্যয় আরো বাড়বে।

রাজধানীতেও দিনে তিন থেকে ছয় দফা লোডশেডিং

বিদ্যুতের ঘাটতি এতটাই বেড়েছে যে রাজধানীর যেসব এলাকায় আগে তুলনামূলক নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ দেওয়া হতো, সেখানেও নিয়মিত লোডশেডিং হচ্ছে। গুলশান, বনানী, বারিধারা, বসুন্ধরা, ধানমন্ডি, বেইলি রোড ও উত্তরায় দিনে তিন থেকে চার বার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মিরপুর, মোহাম্মদপুর, মগবাজার, বাড্ডা, রামপুরা, পুরান ঢাকা, শ্যামলী ও যাত্রাবাড়ীর অনেক এলাকায় দিনে পাঁচ থেকে ছয় বার পর্যন্ত বিদ্যুৎ যাচ্ছে। একেকবার আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। সন্ধ্যা ও গভীর রাতেও লোডশেডিং হওয়ায় প্রচণ্ড গরমে মানুষের ঘুম ব্যাহত হচ্ছে।

বিদ্যুৎ না থাকায় বাসাবাড়িতে পানির পাম্প, ফ্রিজ, ফ্যান ও বৈদ্যুতিক চুলা চালানো যাচ্ছে না। গ্যাসের নিম্নচাপের কারণে অনেক পরিবার আগে থেকেই বৈদ্যুতিক চুলায় রান্না করছিল। এখন লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ায় সেটিও সম্ভব হচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা এবং ঘরে বসে অনলাইনে কাজও ব্যাহত হচ্ছে।

বিতরণ কোম্পানির কর্মকর্তারা বলছেন, হাসপাতাল, গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনা ও জরুরি শিল্প ছাড়া অন্য এলাকায় তুলনামূলক সমহারে লোডশেডিংয়ের নির্দেশনা রয়েছে। ঢাকায় লোডশেডিং বাড়িয়ে গ্রাম ও উপজেলা শহরের চাপ কমানোর চেষ্টা করা হলেও বড় ঘাটতির কারণে প্রত্যাশিত সুফল মিলছে না।

রবিবার রাত ৯টার অঞ্চলভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি ৫৭৩ মেগাওয়াট লোডশেডিং ছিল ঢাকা অঞ্চলে। ময়মনসিংহে ৫৩০, খুলনায় ৩১১, কুমিল্লায় ২৮২, রাজশাহীতে ২৬২, রংপুরে ২৩৮ এবং সিলেটে ১৭২ মেগাওয়াট ঘাটতি ছিল।

অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকায় এটিএম বুথে গিয়ে টাকা তুলতে পারছেন না গ্রাহক। ফিলিং স্টেশনে সিএনজির জন্য অপেক্ষার সঙ্গেও যুক্ত হয়েছে লোডশেডিং যন্ত্রণা। বিদ্যুৎ না থাকলেও গ্যাস নিতে পারছে না অপেক্ষমাণ গাড়ি।

শিল্পের সংকট শ্রমিকের ক্ষোভে রূপ নিচ্ছে

বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বস্ত্র, ডায়িং, সিরামিক, ইস্পাতসহ জ্বালানিনির্ভর শিল্প। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার কয়েকটি ডায়িং কারখানায় গ্যাস না থাকায় উত্পাদন বন্ধ রাখতে হয়েছে। নরসিংদীর মাধবদীতে অনেক কারখানা আংশিক চলছে। কিছু কারখানার একাধিক বিভাগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

রবিবার বিভিন্ন কারখানার প্রায় ৫ হাজার শ্রমিক মাধবদী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যালয় ঘেরাও এবং ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেন। সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর পর্যন্ত চলা কর্মসূচির কারণে মহাসড়কে যানজট সৃষ্টি হয়। শ্রমিকদের আশঙ্কা, উত্পাদন স্বাভাবিক না হলে বেতন বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি তারা চাকরিও হারাতে পারেন।

দ্রুত স্বস্তির নিশ্চয়তা নেই

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলমান সংকটের কোনো একক কারণ নেই। এলএনজি টার্মিনালের সরবরাহ ব্যাহত হওয়া, দেশীয় গ্যাসের উত্পাদন কমে যাওয়া, কয়লার মজুতসংকট, ফার্নেস অয়েলের স্বল্পতা এবং বড় কেন্দ্রের একাধিক ইউনিট বন্ধ থাকা সব মিলিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছে।

নতুন এলএনজি কার্গো এলে সেপ্টেম্বরের প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহে গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বাড়তে পারে। কিন্তু পায়রা ও মাতারবাড়ীর বন্ধ ইউনিট চালু এবং অন্য কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর জ্বালানি নিশ্চিত না হলে লোডশেডিং দ্রুত সহনীয় পর্যায়ে নামানো কঠিন হবে। গরম অব্যাহত থাকলে সন্ধ্যার সর্বোচ্চ চাহিদার সময় সংকট আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category