নওগাঁর মান্দায় ডিবি (গোয়েন্দা পুলিশ) পরিচয়ে বাড়িতে ঢুকে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুটপাট করে পালানোর সময় তিন ভুয়া ডিবি পুলিশকে আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা।
শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার ১৪ নম্বর বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের পারইটুঙ্গী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় আটক ব্যক্তিদের ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেল, একটি হাতকড়া এবং আনুমানিক ২ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়।
আটককৃতরা হলেন,দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার দক্ষিণ দাউদপুর গ্রামের তোজাম্মেল হকের ছেলে এনামুল হক (৩২), একই উপজেলার চাপড়া গ্রামের মফিজ উদ্দিনের ছেলে মানিক হোসেন (৩২) এবং ফুলবাড়ী উপজেলার মুক্তারপুর গ্রামের ইউসুফ খলিফার ছেলে মুন্না হাসান ওরফে মাহবুব (৩৫)।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরে একটি পালসার ও একটি অ্যাপাসি মোটরসাইকেলযোগে অভিযুক্ত তিন যুবক পারইটুঙ্গী গ্রামের বিপুল চন্দ্র প্রামাণিকের বাড়িতে উপস্থিত হয়। তারা নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে বাড়িতে অবৈধ মাদক রয়েছে এবং তা তল্লাশি করতে হবে বলে ভেতরে প্রবেশ করে। তল্লাশির একপর্যায়ে বাড়ির দুজনকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে ঘরের ভেতরে শোকেসের ড্রয়ার ভেঙে সোনার চেইন, গলার হার, কানের দুল, কোমরের বিছাসহ বিভিন্ন স্বর্ণালংকার ও নগদ ৫৬ হাজার টাকা লুট করে নেয়।
লুটপাট শেষে কৌশলে হ্যান্ডকাফ খুলে দিয়ে অভিযুক্তরা বলে, “বাড়িতে কোনো মাদক নেই, ভুল তথ্য ছিল।” এই বলে তারা দ্রুত মোটরসাইকেল নিয়ে কেটে পড়ে। তারা চলে যাওয়ার পরপরই বাড়ির লোকজন লুটপাটের বিষয়টি বুঝতে পেরে চিৎকার শুরু করেন।
পরবর্তীতে স্বজনরা তাৎক্ষণিকভাবে পার্শ্ববর্তী বাগমারা উপজেলার শিমলা বাজার এলাকার লোকজনকে বিষয়টি জানালে স্থানীয়রা ফজরের মোড় সংলগ্ন রাস্তায় দুটি ভ্যান দিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করে। ভুয়া ডিবি সদস্যরা ব্যারিকেডে আটকে গেলে ক্রুদ্ধ জনতা তাদের ধরে গণধোলাই দেয়।
ঘটনাটি মান্দা ও বাগমারা উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় হওয়ায় উভয় থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরবর্তীতে দুই থানার সম্মতিক্রমে তাদের মান্দা থানায় নিয়ে আসা হয়।
এ বিষয়ে মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খোরশেদ আলম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে আটক তিনজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় বাড়ির মালিক বিপুল চন্দ্র প্রামাণিক বাদী হয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আটক আসামিদের রোববার আদালতে পাঠানো হবে।