• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৭ পূর্বাহ্ন
Headline
প্রাথমিকে ৯৩, মাধ্যমিকের ৫৭ শতাংশ বই ছাপা শেষ, নভেম্বরে শতভাগ সরবরাহের লক্ষ্য ৪ বছরে ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষক কার্ড দেবে সরকার ইউপি নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনে প্রার্থিতা বাতিল, সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড জাপানে টয়োটার মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী ডিএফওর বিরুদ্ধে অর্থ ছাড় না দেওয়ার অভিযোগ, পাঁচ মাস ধরে ভাতা বন্ধ লাউয়াছড়ার কর্মীদের তুরাগ নদ থেকে বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার অস্তিত্ব হারানোর পথে আড়িয়াল খাঁ, ময়নাকাটা বিশ্ববাজারে আবার কমল জ্বালানি তেলের দাম বিদায়ের ক্ষণ গুনছেন নেতানিয়াহু নওগাঁর নিয়ামতপুরে আরডিআরএস বাংলাদেশের উদ্যোগে সাড়ে ৭ হাজার গাছের চারা বিতরণ

মোহনগঞ্জে ভর্তি জালিয়াতি: এবার ফেঁসে যাচ্ছেন আরও দুই শিক্ষক

নেত্রকোনা প্রতিনিধি / ৭৩ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬

ছবি-অভিযুক্ত দুই শিক্ষক

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে সহোদর কোটায় দুই শিক্ষার্থীকে ভর্তি নিয়ে অনিয়মের ঘটনায় এবার আরও দুই সহকারী শিক্ষকের নাম এসেছে।

তারা হলেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবু বকর সিদ্দিক (লিটন) ও আব্দুল মালেক আকন্দ।

দুজনই দশম শ্রেণির শ্রেণি শিক্ষক হয়েও সপ্তম শ্রেণির ওই দুই শিক্ষার্থীকে সহোদর কোটায় ভর্তির প্রত্যয়নে স্বাক্ষর করেছেন।

তবে তাঁরা দাবি করেছেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শেখ মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদের চাপেই তাঁরা ওই প্রত্যয়নে স্বাক্ষর করেন।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নিয়ম অনুযায়ী সহোদর কোটায় ভর্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর ভাই-বোন একই বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত—এমন তথ্য যাচাই করে সপ্তম শ্রেণির শ্রেণি শিক্ষককে প্রত্যয়নে সনাক্তকরণের জন্য স্বাক্ষর করতে হয়। কিন্তু ওই দুই শিক্ষার্থী সপ্তম শ্রেণির হওয়া সত্ত্বেও তাঁদের প্রত্যয়নে স্বাক্ষর করেন দশম শ্রেণির দুই শ্রেণি শিক্ষক।

গত জুলাইয়ে বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে উপজেলা প্রশাসন তদন্ত শুরু করে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম এ কাদেরকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। পরে গত সপ্তাহে তদন্ত প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দাখিল করা হয়।

বিদ্যালয় সূত্র জানায়, চলতি বছরের ১৭ এপ্রিল উচ্চ আদালত দুই শিক্ষার্থীকে সহোদর কোটায় ভর্তির নির্দেশ দেন। পরে একই মাসে তাঁদের সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়। তাঁরা হলেন—মোহনগঞ্জ পৌর শহরের টেংগাপাড়া এলাকার মাহমুদুল হাসান চৌধুরী মানিকের মেয়ে মাহফুজা হাসান এবং একই এলাকার মঞ্জুরুল হকের মেয়ে মারিয়া আক্তার মীম।

বিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মাহফুজা হাসান সপ্তম শ্রেণির প্রভাতী শিফটের ‘ক’ শাখায় এবং মারিয়া আক্তার মীম দিবা শিফটের ‘ক’ শাখায় ভর্তি হয়েছে। স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাহফুজা হাসানের কোনো ভাই বা বোন ওই বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত নেই। অন্যদিকে মারিয়া আক্তার মীম তাঁর বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান।

অভিযোগ রয়েছে, ওই দুই শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের সহোদর কোটায় ভর্তির জন্য ভুয়া প্রত্যয়ন দেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শেখ মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ। পরে সেই প্রত্যয়ন দিয়ে উচ্চ আদালতে রিট করা হলে আদালত তাঁদের ভর্তির নির্দেশ দেন।

ভুয়া প্রত্যয়নে স্বাক্ষরের বিষয়টি স্বীকার করে সহকারী শিক্ষক আবু বকর সিদ্দিক (লিটন) বলেন, “প্রধান শিক্ষক বলেছেন স্বাক্ষর করতে, তাই করেছি। কোন শিক্ষার্থীর প্রত্যয়নে স্বাক্ষর করেছি, সেটা খেয়াল করিনি। মূলত প্রধান শিক্ষকের কথার বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। সহোদর কোটার প্রত্যয়নে শ্রেণি শিক্ষকের স্বাক্ষর করতে হয়। যেহেতু আমি দশম শ্রেণির শ্রেণি শিক্ষক, তাই ওই প্রত্যয়নে আমার স্বাক্ষর করা ঠিক হয়নি।”

অপর শিক্ষক আব্দুল মালেক আকন্দও একই ধরনের বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, “প্রধান শিক্ষক স্বাক্ষর করতে বললে তো আর মানা করা যায় না।”

বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, শুধু ওই দুই শিক্ষার্থীই নয়, আরও অনেক শিক্ষার্থীকে এভাবে অনিয়ম করে ভর্তি করা হয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শেখ মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ। তিনি বলেন, “অভিভাবকেরা উচ্চ আদালতের আদেশ নিয়ে এসেছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সভাপতিত্বে ভর্তি কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁদের ভর্তি করা হয়েছে। আমি কোনো ভুয়া প্রত্যয়ন দিইনি। আদালত কীভাবে আদেশ দিয়েছেন, সেটিও আমার জানা নেই।”

মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয়ের ভর্তি কমিটির সভাপতি আমেনা খাতুন বলেন, “তদন্ত প্রতিবেদন ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে।”

এদিকে, গত মার্চে একই বিদ্যালয়ের সরঞ্জাম কেনাকাটায় প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগও ওঠে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শেখ মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category