২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন বিআইএফএফএলের সাবেক সিইও এস এম ফরমানুল ইসলাম।
মামলায় সালমান এফ রহমান ছাড়াও সাবেক অর্থসচিব ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমসহ মোট ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, বিআইএফএফএলের সিইও থাকাকালে এস এম ফরমানুল ইসলামের ওপর সালমান এফ রহমানের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জন্য বিপুল অঙ্কের ঋণ ও বিনিয়োগ সুবিধা দেওয়ার চাপ দেওয়া হয়। তার মালিকানাধীন তিস্তা সোলার প্রকল্পের জন্য প্রায় ১৮৫ মিলিয়ন ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৮ জুলাই বিআইএফএফএলের ৮০তম বোর্ড সভা চলাকালে চাহিদামতো ঋণ ও বিনিয়োগ সুবিধা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় ফরমানুল ইসলামের ওপর আসামিরা চড়াও হন। একপর্যায়ে তার জামার কলার ধরে টানাহেঁচড়া ও চড়-থাপ্পড় মারা হয়। তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে জোর করে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেওয়া হয়।
এ ছাড়া তার অফিসিয়াল মুঠোফোনের সিম বন্ধ করে দেওয়া, ই-মেইল ব্যবহারে বাধা, ব্যক্তিগত ব্যবহারের গাড়ির চাবি কেড়ে নেওয়া এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানোর অভিযোগও করা হয়েছে।
মামলায় জালিয়াতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, মারধর, চাঁদা দাবি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ থাকায় তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণের পর আসামিদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। আসামিরা আদালতে হাজির না হওয়ায় পরে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরবর্তীতে ৩ নম্বর আসামি মনিরুল ইসলাম খান ও ৫ নম্বর আসামি খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাদের জামিন দেন আদালত।