বিপর্যয় কাটিয়ে গ্যাসের সরবরাহ অনেকটা বেড়েছে, তবে পূর্বের অবস্থায় ফিরতে আরও কয়েকদিন সময় লাগতে পারে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেল ৪টায় ২৪২৫ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পেট্রোবাংলা।
গত ২১ জুলাই একটি এফএসআরইউ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পর থেকে কমবেশি ২০০০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ দেওয়া হয়েছে। বিকল এফএসআরইউ ৬ আগস্ট আংশিক সরবরাহ শুরু করলে কিছুটা উন্নতি হচ্ছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) গ্যাসের অভাবে অপর এফএসআরইউ থেকে সরবরাহ বন্ধ হলে পরিস্থিতি আরও জটিলতর পড়ে। বিকল এফএসআরইউ থেকে পুরোমাত্রায় সরবরাহ নিশ্চিত করতে গেলে ২ দিনের নিয়মিত বন্ধে যেতে হবে। তার পরেই কেবল পূর্বের অবস্থায় ফিরতে পারবে।
সামিটের এফএসআরইউ বন্ধের বিষয়ে প্রথমে সাগর উত্তালের কথা বলা হলেও দৃশ্যমান বলছে ভিন্ন কথা। সৌদি আরামকোর পাঠানো এলএনজিবাহী কার্গোটিকে ‘পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ’ বলছে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট। তাই এটি থেকে সামিটের ভাসমান টার্মিনালে এলএনজি খালাসে অস্বীকৃতি জানায় তারা। আমদানিকৃত এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) সরবরাহের জন্য কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল আছে।
এগুলো হলো-মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল এবং দেশীয় কোম্পানি সামিট গ্রুপের সামিট এলএনজি টার্মিনাল। দুটিই পরিচালনা করে এক্সিলারেট।
আমদানি যখন নানা গ্যাঁড়াকলে আটকা তখন দেশীয় উৎপাদনও প্রতিদিন কমছে। পেট্রোবাংলার উৎপাদন বিবরণী অনুযায়ী, ২১ জুলাই দেশীয় ফিল্ডগুলো থেকে গ্যাস উৎপাদন হয়েছিল ১৬৫৬ মিলিয়ন ঘনফুট, ১৪ আগস্ট ১৬৩০ মিলিয়নে নেমে এসেছে। প্রতিদিনই কমছে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন, অন্যদিকে বাড়ছে চাহিদা। বাড়ন্ত চাহিদা সামাল দিতে গিয়ে কয়েক বছর ধরেই হিমশিম খাচ্ছে পেট্রোবাংলা।
এক সময়ে দেশীয় গ্যাস ফিল্ডগুলো থেকে দৈনিক ২৮০০ মিলিয়নের মতো গ্যাস উৎপাদিত হলেও এখন ১৬৩০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে এসেছে। মজুত কমে যাওয়ায় প্রতিনিয়ত কমে আসছে উৎপাদন। বেশি উদ্বেগের বিষয় বড় গ্যাসক্ষেত্র বিবিয়ানার উৎপাদন কমে যাওয়া। ফিল্ডটি থেকে এখনও সাড়ে ৪৫ শতাংশের মতো গ্যাস যোগান আসছে। আর কনডেনসেট পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৬৮ শতাংশ। এক সময়ে ১৩৫০ মিলিয়নের মতো উৎপাদন দিতো, ১৪ আগস্ট ৭৪১ মিলিয়নে নেমে গেছে। মজুত কমে আসায় দ্রুতই কমে যাচ্ছে উৎপাদন। শঙ্কার হচ্ছে যে কোন সময়ে বড় ধরণের ধসের শঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্বাভাবিক সময়ে দৈনিক কমবেশি ২৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। আর চাহিদা বলা হয় ৪০০০ মিলিয়নের মতো। ২০২৫ সালের ৬ জানুয়ারি নতুন শিল্পে গ্যাসের দামবৃদ্ধির প্রস্তাবে উল্লেখ করে পাইপলাইনে সংযুক্ত গ্রাহকের দৈনিক চাহিদা ৫৩৫৬ মিলিয়ন ঘনফুট। এই হিসাবের বাইরে রয়েছে বড় অংকের প্রতিশ্রুত ও অপেক্ষমাণ গ্রাহক।
এক তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ৩৭৯টি শিল্পের বিপরীতে প্রতিশ্রুত লোডের পরিমাণ রয়েছে ৩৮০ মিলিয়ন ঘনফুট। যারা কোটি কোটি টাকা জামানত দিয়ে জুতার তলা ক্ষয় করছেন। সেই প্রতিশ্রুত গ্রাহকের সংখ্যাও সারা দেশে কম নয়। এতে গোড়াতেই গলদ থেকে যাচ্ছে, আর গলদ রেখে সংকট নিরসন করা কঠিন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।