বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত শহীদ পরিবারকে অনুদান প্রদান ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে শহীদ জুলাই স্মৃতি সংসদ।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন করা উদ্দেশ্য প্রণোদিত। যে দেশ তাদেরকে বৃহত্তর গণতান্ত্রিক দেশ বলে দাবি করে, তারা এটাকে প্রশ্রয় দিল।
তিনি আরও বলেন, এটার মাধ্যমে আমাদের সার্বভৌমত্ব এবং স্বাধীনতাকে অপমান করা হয়েছে। ইচ্ছাকৃতভাবে এই অনুমতি দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশকে অবজ্ঞা করার জন্য।
রিজভী বলেন, রক্তপান করা দানবকে বাংলাদেশ থেকে তাড়ানো হয়েছে। এখন একটি প্রশ্ন এসেছে, একজন পলাতক আসামী কি সেই দেশ (ভারত) থেকে রাজনীতি করার সুযোগ পেতে পারে। ভারত আশ্রয় দিয়েছে, সেখানে থাকুক। সেখান থেকে বাংলাদেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করার জন্য অনর্গল অডিও রেকর্ড এবং বার্তা পাঠাচ্ছে।
তিনি বলেন, যে তারিখে তার পতন হয়েছে, সেই তারিখেই আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকার এর প্রতিবাদ জানিয়েছে। কিন্তু, ভারতের সরকার বলেছে, এটার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। তবে, এ জাতীয় একটা ইভেন্ট করতে গেলে তো সরকারের অনুমতি লাগে। সরকারের যদি গ্রীন সিগনাল না থাকে, তাহলে একজন খুনি এবং পলাতক আসামী এবং তার ছেলে কিভাবে সংবাদ সম্মেলন করে।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বলেন, যদি বাংলাদেশে আবারও শেখ হাসিনা আসে, তাহলে দেশে রক্তগঙ্গা বয়ে যাবে। তিনি কাউকে বাঁচতে দিবে না।
জুলাইয়ের চেতনা প্রসঙ্গে সিনিয়র এই নেতা বলেন, আমাদেরকে জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে কাজ করতে হবে। জুলাইয়ের ক্রেডিট নিয়ে ভাগাভাগি করলে ক্ষতি সবারই হবে। পরাজিত শক্তির উত্থান ঘটলে, এদেশ চিরদিনের জন্য স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব হারাবে। অতএব সবাইকে ঐকবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে এবং সতর্ক থাকতে হবে।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, বিএনপির সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, মো. কামরুজ্জামান, অ্যাডভোকেট ফাহিমা নাসরিন প্রমুখ।