• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১৪ অপরাহ্ন
Headline
প্রাথমিকে ৯৩, মাধ্যমিকের ৫৭ শতাংশ বই ছাপা শেষ, নভেম্বরে শতভাগ সরবরাহের লক্ষ্য ৪ বছরে ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষক কার্ড দেবে সরকার ইউপি নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনে প্রার্থিতা বাতিল, সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড জাপানে টয়োটার মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী ডিএফওর বিরুদ্ধে অর্থ ছাড় না দেওয়ার অভিযোগ, পাঁচ মাস ধরে ভাতা বন্ধ লাউয়াছড়ার কর্মীদের তুরাগ নদ থেকে বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার অস্তিত্ব হারানোর পথে আড়িয়াল খাঁ, ময়নাকাটা বিশ্ববাজারে আবার কমল জ্বালানি তেলের দাম বিদায়ের ক্ষণ গুনছেন নেতানিয়াহু নওগাঁর নিয়ামতপুরে আরডিআরএস বাংলাদেশের উদ্যোগে সাড়ে ৭ হাজার গাছের চারা বিতরণ

লোকসভায় অচলাবস্থা, চাপে মোদী সরকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ৭০ Time View
Update : বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬

ভারতের লোকসভায় বর্ষাকালীন অধিবেশনে অচলাবস্থা তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। ছবি সংগৃহীত
ভারতের লোকসভায় বর্ষাকালীন অধিবেশনে অচলাবস্থা তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। বিরোধীদের বিক্ষোভের কারণে লোকসভায় নিয়মিত কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এর মধ্যে অচলাবস্থা কাটাতে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন সংসদবিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। তবে বৈঠকে সরকারের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন রাহুল গান্ধী।
বুধবার (৫ আগস্ট) লোকসভা অধিবেশন শুরু হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিরোধীদের স্লোগানের কারণে অধিবেশন মুলতবি হয়ে যায়। এরপর রিজিজু রাহুল গান্ধীর কক্ষে গিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেন।
সূত্রের দাবি, বর্তমান অধিবেশনে সরকার আবারও আসন পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন বিল এবং নারী সংরক্ষণ সংশোধনী বিল আনতে চায়। এসব বিল নিয়ে কংগ্রেসের সহযোগিতা চেয়েছিলেন রিজিজু। তবে রাহুল গান্ধী সরকারের এই প্রস্তাবে রাজি হননি।
রাহুলের শর্ত
সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, রাহুল গান্ধী রিজিজুকে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন— দুটি বিষয়ে সংসদে আলোচনা না হওয়া পর্যন্ত কোনো কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলতে দেওয়া হবে না। এর মধ্যে রয়েছে রাম মন্দিরের অনুদানের অর্থ চুরির অভিযোগ এবং ২০ জুলাই দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পুলিশের পদক্ষেপ।
রাহুলের দাবি, শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে সংসদে বিবৃতি দিতে হবে। একই সঙ্গে রাম মন্দিরের অনুদান নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়েও আলোচনা করতে হবে।
সরকারের বড় পরিকল্পনায় বাধা
বিরোধীদের অনড় অবস্থানের কারণে চলতি অধিবেশনে ডিলিমিটেশন বিল পাস করার সরকারের পরিকল্পনা বাধার মুখে পড়েছে।
সূত্রের দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস এবং উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা থেকে কিছু সদস্য দলবদল করায় লোকসভায় সরকারের সংখ্যাগত অবস্থান আগের তুলনায় শক্তিশালী হয়েছে। সেই কারণে গত অধিবেশনে পাস করতে না পারা বিতর্কিত ডিলিমিটেশন বিলটি এবার পাস করানোর আশা করছিল সরকার।
কিন্তু বিরোধীদের বিক্ষোভ ও সংসদ অচল করে রাখার কারণে সেই পরিকল্পনা এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
অমিত শাহকে ঘিরে বিরোধীদের বিক্ষোভ
২০ জুলাই দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে কয়েক দিন ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করছে বিরোধীরা। তাদের দাবি, শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে অমিত শাহকে সংসদে বক্তব্য দিতে হবে।
তবে সরকার বিরোধীদের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সরকারের বক্তব্য, কোনো বিক্ষোভে বলপ্রয়োগ করা হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নন, সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট নেন।
রাম মন্দিরের অনুদান নিয়েও উত্তাপ
কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টির নেতৃত্বে বিরোধীরা রাম মন্দিরের অনুদানের অর্থ চুরির অভিযোগ নিয়েও সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। এ বিষয়ে সংসদে আলোচনার দাবি জানিয়ে কয়েক দিন ধরে বিরোধী সংসদ সদস্যরা সংসদ চত্বরে প্রতীকী অনুদানের বাক্স নিয়ে বিক্ষোভ করছেন।
হচ্ছে না প্রশ্নোত্তর পর্বও
২০ জুলাই বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরু হওয়ার পর থেকে লোকসভায় একটি পূর্ণাঙ্গ প্রশ্নোত্তর পর্বও শেষ করা সম্ভব হয়নি। বিরোধীদের হট্টগোলের মধ্যেই এখন পর্যন্ত পাঁচটি বিল কোনো আলোচনা ছাড়াই পাস হয়েছে বলে জানা গেছে।
বুধবারও একই পরিস্থিতি দেখা যায়। অধিবেশন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিরোধী সদস্যরা বিভিন্ন ইস্যুতে স্লোগান দিতে শুরু করেন। এর মধ্যে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের পদক্ষেপের বিষয়টিও ছিল।
স্পিকারের আবেদনেও থামেনি বিক্ষোভ
লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা বিরোধী সদস্যদের নিজেদের আসনে ফিরে গিয়ে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সংসদের ভেতরে বা বাইরে স্লোগান দেওয়া গণতন্ত্রের জন্য ভালো নয়। প্ল্যাকার্ড দেখানো ও স্লোগান দেওয়ার মাধ্যমে সংসদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
স্পিকার আরও বলেন, অনেক সংসদ সদস্য তার কাছে এসে জানিয়েছেন যে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তালিকাভুক্ত রয়েছে। কিন্তু বিরোধীদের বিক্ষোভের কারণে সেগুলো নিয়ে আলোচনা করা যাচ্ছে না।
বৈঠকেও অচলাবস্থা কাটেনি
রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠকের পর কিরেন রিজিজু লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গেও বৈঠক করেন। সংসদের অচলাবস্থা কীভাবে কাটানো যায়, তা নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয় বলে সূত্র জানিয়েছে। তবে রাহুল গান্ধী সরকারের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় আপাতত অচলাবস্থা কাটার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
ফলে ডিলিমিটেশন বিল ও নারী সংরক্ষণ সংশোধনী বিলসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ আইনগুলো চলতি অধিবেশনে পাস করা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে বিরোধীরা তাদের দাবিতে অনড় থাকায় ভারতের সংসদে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category