আদালতে মামলার জট কমাতে ও বিকল্প উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থার অংশ হিসেবে আইনি পেশাজীবীদের জন্য দুই দিনব্যাপী বেসিক মিডিয়েটর (মধ্যস্থতা) ট্রেনিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) আয়োজনে এবং আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) শুরু হয়ে শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানী ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে দুই দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ শেষ হয়। এতে স্পেশাল মিডিয়েটর, লিগ্যাল এইড অফিসার ছাড়াও আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অধিদপ্তর (ডিবিএলএ), বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (জাটি) এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের প্রায় ৪০ জন কর্মকর্তা অংশ নেন।
শনিবার আয়োজিত সমাপনী পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বিরোধ নিষ্পত্তির একটি কার্যকর, সহজলভ্য ও জনবান্ধব পদ্ধতি হলো মিডিয়েশন বা মধ্যস্থতা। নতুন প্রতিষ্ঠিত স্পেশাল মিডিয়েটর সিস্টেম আদালতে মামলার জট কমাতে ও জনগণকে সহজে ন্যায্য বিচার পেতে বড় ভূমিকা রাখবে। প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে জনগণের পাশে থাকতে আমি অংশগ্রহণকারীদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাইকা বাংলাদেশের চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ তাকাহাশি জুনকো। এর আগে গত ৩১ জুলাই প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন করেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা।
উদ্বোধনকালে তিনি সবার জন্য ন্যায্য বিচার নিশ্চিতকরণ ও সময়মতো বিরোধ নিষ্পত্তিতে মিডিয়েটর সার্ভিসকে আরো শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
কর্মশালায় প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন জাপানের মিডিয়েশন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মিয়াতাকে মাসাকো। দুই দিনের এই সেশনে তাত্ত্বিক লেকচারের পাশাপাশি রোল-প্লে ও মক মিডিয়েশন সেশনের মাধ্যমে ব্যবহারিক অনুশীলন করানো হয়। অংশগ্রহণকারীরা এতে মিডিয়েটর নীতি ও প্রক্রিয়া, যোগাযোগ কৌশল, সমঝোতার মাধ্যম এবং নৈতিকতা বিষয়ে বিস্তারিত ধারণা অর্জন করেন।
মিডিয়েটর ও দেওয়ানি মামলা পরিচালন পদ্ধতি উন্নয়ন’ (অ্যাক্সেস টু জাস্টিস) প্রকল্পের আওতায় ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে নরসিংদী ও কুমিল্লা জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে একটি পাইলট কার্যক্রম চালানো হয়।
সেখানে ৪২ জন আইনজীবী-মিডিয়েটরকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পর তারা ৮৯৮টি মামলা সফলভাবে নিষ্পত্তি করেন। ওই সফলতার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে ‘লিগ্যাল এইড সার্ভিসেস অ্যাক্ট’ সংশোধন করে ‘স্পেশাল মিডিয়েটর সিস্টেম’ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়।
বাংলাদেশে দেওয়ানি ও পারিবারিক বিরোধ দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে নিষ্পত্তির লক্ষ্য নিয়ে তারা কাজ করছে। ধারাবাহিক এই সহযোগিতার অংশ হিসেবে আগামী ২০২৬ সালের শেষের দিকে স্পেশাল মিডিয়েটরদের দক্ষতা আরো বাড়াতে ‘অ্যাডভান্সড মিডিয়েশন ট্রেনিং’ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।