• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৬ অপরাহ্ন
Headline
নলডাঙ্গায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত, গুরুত্ব পেল জনসচেতনতা যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী মাহমুদুল আলমের উদ্যোগে প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইল চেয়ার, সেলাই মেশিন ও ক্রাচ বিতরণ সান্তাহার পৌর যুবদলের উদ্যোগে নানা আয়োজনে ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত দুই বছরের মধ্যে স্বাস্থ্যখাতে আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্য: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের ৫ অগ্রাধিকার খাতে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে: রাষ্ট্রপতি  বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে সুইজারল্যান্ডের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী  বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে আগ্রহী জাপান উন্নত বাংলাদেশ গড়তে প্রবাসী-দেশবাসীকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

এ বছরই বন্ধ কারখানা চালুর প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক / ২৬ Time View
Update : শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জুলাই যোদ্ধা আজিজুরের সাক্ষাৎ
  • তিন প্রতিবন্ধীর হাতে চাকরির নিয়োগপত্র দিলেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা সরকারি শিল্প-কারখানা পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া ২০২৬ সালের মধ্যেই শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে বন্ধ সরকারি শিল্প-কারখানা পুনরায় চালু, বেসরকারীকরণ কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠকে এ নির্দেশ দেন তিনি।
একই দিনে প্রধানমন্ত্রী জুলাই আন্দোলনে আহত যোদ্ধা শেখ আজিজুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তিনজন শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তির হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেন।প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন জানান, বৈঠকে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা শিল্প-কারখানাগুলো দ্রুত চালুর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করে কার্যক্রমে গতি আনা এবং বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে উৎপাদন শুরু করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। প্রধানমন্ত্রী ২০২৬ সালের মধ্যেই পুরো প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর; বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর; বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম; বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জুলাই আন্দোলনে আহত যোদ্ধা শেখ আজিজুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) জানান, গণমাধ্যমে ‘গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরও শুধু ছাত্রদল করার কারণে মেলেনি জুলাই যোদ্ধার স্বীকৃতি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর নজরে এলে তিনি অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আজিজুরের সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করা হয়।

সাক্ষাৎকালে আজিজুর ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর রক্তক্ষরণ ঠেকাতে জাতীয় পতাকা বেঁধে রাখা সেই রক্তমাখা পতাকাটি প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর চিকিৎসা, লেখাপড়া ও জীবনসংগ্রামের খোঁজখবর নেন। সরকারি বাঙলা কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আজিজুরের বাড়ি নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায়।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ তাঁর দীর্ঘদিনের একটি স্বপ্ন পূরণ করেছে। নিজের সংগ্রামের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনার জন্যও তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় মিরপুর-১০ নম্বর ফ্লাইওভারে জাতীয় পতাকা উড়িয়ে আলোচনায় আসেন আজিজুর। আন্দোলনের এক পর্যায়ে পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হন তিনি। কিন্তু দুই বছর তিনি ‘জুলাই যোদ্ধা’র স্বীকৃতি পাননি। সংসার ও পড়াশোনার খরচ জোগাতে জীবনসংগ্রামের মুখোমুখি হয়ে তাঁকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালাতে হয়েছে।

এদিকে সকালে সচিবালয়ে নিজের কার্যালয়ে প্রবেশের সময় প্রধানমন্ত্রী গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার আয়শা আক্তার, সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার নীলা খাতুন এবং নড়াইল সদর উপজেলার মো. হাসমত আলীর হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেন।

এ বছরই বন্ধ কারখানা চালুর প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলু বলেন, কর্মসংস্থানের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আত্মনির্ভরশীল করা এবং সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যেই তাঁদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সরাসরি নিয়োগপত্র পেয়ে তিনজনই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

জন্ম থেকেই হাত না থাকা আয়শা আক্তার ও নীলা খাতুন পা দিয়ে লিখে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। নীলা খাতুনকে মিরপুরের জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনে শিক্ষক এবং আয়শা আক্তারকে গাইবান্ধার বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজে ক্লাস সুপারভাইজার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মো. হাসমত আলীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন ইউনিয়ন সমাজকর্মী পদে।

এ সময় সমাজকল্যাণ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল, সমাজকল্যাণসচিব মোহাম্মদ আবু ইউছুফ, বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. তরিকুল আলম এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category