এর আগে দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জুলাই আন্দোলনে আহত যোদ্ধা শেখ আজিজুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) জানান, গণমাধ্যমে ‘গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরও শুধু ছাত্রদল করার কারণে মেলেনি জুলাই যোদ্ধার স্বীকৃতি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর নজরে এলে তিনি অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আজিজুরের সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করা হয়।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ তাঁর দীর্ঘদিনের একটি স্বপ্ন পূরণ করেছে। নিজের সংগ্রামের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনার জন্যও তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এদিকে সকালে সচিবালয়ে নিজের কার্যালয়ে প্রবেশের সময় প্রধানমন্ত্রী গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার আয়শা আক্তার, সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার নীলা খাতুন এবং নড়াইল সদর উপজেলার মো. হাসমত আলীর হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলু বলেন, কর্মসংস্থানের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আত্মনির্ভরশীল করা এবং সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যেই তাঁদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সরাসরি নিয়োগপত্র পেয়ে তিনজনই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
জন্ম থেকেই হাত না থাকা আয়শা আক্তার ও নীলা খাতুন পা দিয়ে লিখে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। নীলা খাতুনকে মিরপুরের জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনে শিক্ষক এবং আয়শা আক্তারকে গাইবান্ধার বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজে ক্লাস সুপারভাইজার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মো. হাসমত আলীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন ইউনিয়ন সমাজকর্মী পদে।
এ সময় সমাজকল্যাণ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল, সমাজকল্যাণসচিব মোহাম্মদ আবু ইউছুফ, বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. তরিকুল আলম এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব উপস্থিত ছিলেন।