• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৩ অপরাহ্ন
Headline
যুবদল আপনাদের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, ভাই: বিএনপি নেতাদের সহযোগিতার আহ্বান মুন্নার টয়োটার প্রথম প্রাইভেট কারে উঠলেন প্রধানমন্ত্রী মদিনার যে স্থানে নবী কারিম (সা.) তিনটি দোয়া করেছিলেন সৌদি আরবে প্রবাসী শ্রমিকদের ওপর বর্বর নির্যাতন, মৃত্যুদন্ড ও শিরশ্ছেদ বন্ধ করুন শ্রমিক বিক্ষোভ সমাবেশে সাইফুল হক উৎসবমুখর পরিবেশে ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন  ৫৫ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, দুদকের মামলায় সাবেক চেয়ারম্যানসহ ১০ জন মানবতাবিরোধী অপরাধে হানিফের মৃত্যুদণ্ড, অপর তিন আসামির আমৃত্যু কারাদণ্ড খাদ্যশস্য সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়াতে টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ করতে হবে: খাদ্যমন্ত্রী সেবার মাধ্যমে সত্যিকার অর্থেই ‘জনগণের পুলিশ’ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কাঁঠালিয়ায় শিশু-কিশোর সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত

হবিগঞ্জে এনসিপির ওপর হামলায় ছাত্রদলের চার নেতা-কর্মীকে শনাক্তের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৪৯ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬

 ছবি : দ্য ডিসেন্ট
হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় ছাত্রদল বা বিএনপির কোনো অঙ্গসংগঠনের সম্পৃক্ততা নেই জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমদ রিংগনের এমন দাবির পর ঘটনাটির ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ভিন্ন তথ্য তুলে ধরেছে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম দ্য ডিসেন্ট।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, হামলার ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন পদ-পদবির অন্তত চারজনকে হামলায় অংশ নিতে দেখা গেছে।
ডিসেন্টের প্রতিবেদনে যাদের শনাক্ত করা হয়েছে তারা হলেন-সিলেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী আল সাইমুম আহাদ, বৃন্দাবন সরকারি কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মুজাক্কির হোসেন ইমন, হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সহ-সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক আসিফুল ইসলাম ইমন এবং হবিগঞ্জ সদর থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হোসেন অনি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয়ভাবে তারা সবাই বিএনপি নেতা জি কে গৌছের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
ডিসেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার সময় আল সাইমুম আহাদকে গালিগালাজ করতে করতে এনসিপির নেতা-কর্মীদের বহনকারী গাড়িতে হামলা চালাতে দেখা যায়। একই সঙ্গে তিনি নিজেই হামলার ভিডিও ধারণ করেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, গাড়ি থেকে চালককে নামিয়ে রড দিয়ে একযোগে হামলা করেন আসিফুল ইসলাম ইমন ও মুজাক্কির হোসেন ইমন। পাশাপাশি তারা রড দিয়ে আঘাত করে গাড়ির কাচও ভেঙে ফেলেন। পরে নাজমুল হোসেন অনিকেও চালকের ওপর রড দিয়ে হামলা করতে দেখা যায়। এছাড়া তিনি এনসিপির আরেক কর্মীকেও রড দিয়ে মারধর করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
হামলার সূত্রপাত নিয়ে আল সাইমুম আহাদ নিজের ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, আজমিরীগঞ্জের সমাবেশে এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বিএনপি নেতা জি কে গৌছ ও তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে অশালীন বক্তব্য দেন। পরে হবিগঞ্জের সমাবেশেও একই ধরনের বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি, সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক নেতা-কর্মীদের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনায় না জড়ানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।
একই পোস্টে তিনি আরও দাবি করেন, সমাবেশস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে অবস্থান করার সময় এনসিপির একটি গাড়ি তাদের সামনে আসে। প্রথমে তারা ধারণা করেছিলেন গাড়িটিতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী রয়েছেন এবং তার সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু গাড়িটি দ্রুতগতিতে চলে যাওয়ার সময় তাদের দুই নেতা-কর্মীকে ধাক্কা দেয় এবং তিনিও পায়ে আঘাত পান। এরপর আশপাশের লোকজন গাড়িটিকে ধাওয়া করে। পরে এনসিপির নেতা-কর্মীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে ছাত্রদল প্রতিরোধ গড়ে তোলে বলে তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে, মুজাক্কির হোসেন ইমন হামলা-সংক্রান্ত একটি সংবাদ শেয়ার করে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লেখেন, “কেমন হলো বন্ধুরা”। ডিসেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই পোস্টের মন্তব্যে বিএনপি ও ছাত্রদলের বিভিন্ন নেতা-কর্মী হামলার জন্য তাকে অভিনন্দন জানান। এছাড়া তার অ্যাকাউন্টে এমন একাধিক পোস্ট রয়েছে, যেখানে অন্যরা তাকে ট্যাগ করে এনসিপি নেতা-কর্মীদের মারধরের জন্য প্রশংসা করেছেন।
এছাড়া হামলার একটি ভিডিও শেয়ার করে মুজাক্কির হোসেন ইমন লিখেছেন, আমরা জুলাই বিপ্লবের সময় সম্মুখ সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছি। হবিগঞ্জের রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে আমাদেরও অবদান রয়েছে। তাই আমাদের নিয়ে কোনো অশালীন, কুরুচিপূর্ণ বা অসম্মানজনক মন্তব্য করলে তা হবিগঞ্জের মানুষ মেনে নেবে না। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু সম্মান ও শালীনতার সীমা অতিক্রম করলে তার প্রতিবাদ অবশ্যই করা হবে। মনে রাখতে হবে হবিগঞ্জের মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবসময় ঐক্যবদ্ধ।
ডিসেন্ট আরও জানিয়েছে, আসিফুল ইসলাম ইমনও নিজের ফেসবুক ওয়ালে হামলার একাধিক ভিডিও শেয়ার করেছেন। প্রতিবেদনের দাবি, ওই ভিডিওগুলোতে তাকেও হামলায় অংশ নিতে দেখা যায়।
এর আগে, গতকাল (২৮ জুলাই) সন্ধ্যায় হবিগঞ্জে এনসিপির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনার পর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমদ রিংগন গণমাধ্যমে বলেন, এ ঘটনায় ছাত্রদল বা বিএনপির কোনো অঙ্গসংগঠন জড়িত নয়। তার দাবি, এটি ছিল ‘উসকানিমূলক বক্তব্যের প্রেক্ষিতে সাধারণ ছাত্র-জনতার ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ’ এবং ‘অন্য একটি সংগঠনের সাজানো নাটক’।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category