• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৪ অপরাহ্ন
Headline
প্রাথমিকে ৯৩, মাধ্যমিকের ৫৭ শতাংশ বই ছাপা শেষ, নভেম্বরে শতভাগ সরবরাহের লক্ষ্য ৪ বছরে ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষক কার্ড দেবে সরকার ইউপি নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনে প্রার্থিতা বাতিল, সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড জাপানে টয়োটার মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী ডিএফওর বিরুদ্ধে অর্থ ছাড় না দেওয়ার অভিযোগ, পাঁচ মাস ধরে ভাতা বন্ধ লাউয়াছড়ার কর্মীদের তুরাগ নদ থেকে বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার অস্তিত্ব হারানোর পথে আড়িয়াল খাঁ, ময়নাকাটা বিশ্ববাজারে আবার কমল জ্বালানি তেলের দাম বিদায়ের ক্ষণ গুনছেন নেতানিয়াহু নওগাঁর নিয়ামতপুরে আরডিআরএস বাংলাদেশের উদ্যোগে সাড়ে ৭ হাজার গাছের চারা বিতরণ

গত ছয় মাসে দেশে ৮৬ শিশু হত্যা, যৌন নির্যাতনের শিকার ৩৩৬ জন

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৩৫ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬

‘শিশুরাই সব’-এর মিডিয়া মনিটরিং প্রতিবেদন

শূন্য থেকে ছয় বছর বয়সি শিশুরা সবচেয়ে বেশি হত্যার শিকার

২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত দেশে অন্তত ৮৬ শিশু হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৩৩৬ জন শিশু।শিশুদের নিয়ে কাজ করা উন্নয়ন সংস্থা ‘শিশুরাই সব’ গণমাধ্যমের সংবাদ পর্যবেক্ষণ করে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে। গতকাল সোমবার ঐ সংস্থা থেকে পাঠানো প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

এতে দেখা যায়—অধিকাংশ অপরাধীরা শিশুদের পরিচিত মানুষ; বাবা-মা, আত্মীয়, প্রতিবেশী, শিক্ষক কিংবা স্থানীয় পরিচিত ব্যক্তি। শিশুদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ হওয়ার কথা নিজ বাড়ি বা পরিচিত পরিবেশ। দেখা গেছে, সেটিই সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান হয়ে উঠেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—২০২৫ সালে সারা বছরে যেখানে ১২৪টি শিশুহত্যা এবং ৩০৮ জন শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিল, সেখানে ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেই পরিস্থিতি উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে—নিহত ৮৬ শিশুর মধ্যে ৪৭ জন মেয়ে, ৩৬ জন ছেলে এবং তিন জনের পরিচয় জানা যায়নি। সবচেয়ে বেশি হত্যার শিকার হয়েছে শূন্য থেকে ছয় বছর বয়সি শিশুরা।

বিশ্লেষণে দেখা যায়—প্রায় ৫০ দশমিক ৫৯ শতাংশ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে পারিবারিক পরিবেশে— নিজ বাড়ি বা আত্মীয়ের বাসায়। অন্যদিকে ৪১ দশমিক ১৮ শতাংশ ঘটনা ঘটেছে রাস্তা, মাঠ, বাজার কিংবা জলাশয়ের মতো জনপরিসরে।

অপরাধীদের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়—১৭টি ঘটনায় বাবা-মা এবং ১১টি ঘটনায় নিকট আত্মীয় জড়িত ছিলেন। এছাড়া ২২টি ঘটনায় অভিযুক্ত ছিলেন প্রতিবেশী বা পরিচিত ব্যক্তি। অর্থাৎ অর্ধেকেরও বেশি শিশুহত্যা সংঘটিত হয়েছে পরিচিত মানুষের হাতে। হত্যার কারণ হিসেবে সবচেয়ে বেশি ওঠে এসেছে রাগ, পারিবারিক কলহ ও ব্যক্তিগত বিরোধ—২২ দশমিক ৯ শতাংশ।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে—৮৬টি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে ৪৪টি ঘটনায় পুলিশ আসামিকে গ্রেফতার করেছে। অধিকাংশ মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে—৩১২টি ঘটনায় ৩৩৬ জন শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ১২৭ জন মেয়ে, ২৪ জন ছেলে এবং ১৮৫ জনের লিঙ্গ পরিচয় গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়নি।

সবচেয়ে বেশি যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৭ থেকে ১২ বছর বয়সি শিশুরা। এই বয়সের ১৭৫ জন শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে, যা মোট ঘটনার ৫২ দশমিক ০৮ শতাংশ। এছাড়া শুন্য থেকে ছয় বছর বয়সি ৯০ জন শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। যৌন নির্যাতনের ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়— ১৯১টি ঘটনা ছিল ধর্ষণ, ৭৫টি ধর্ষণের চেষ্টা, ৪৪টি একাধিক বার ধর্ষণ এবং ২৬টি দলগত ধর্ষণ। নির্যাতনের পর দুই শিশু আত্মহত্যা করেছে, ১১ জন গর্ভধারণ করেছে এবং ৩২ জনকে হত্যা করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—অন্তত ১৬ জন বাক, বুদ্ধি বা শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশু ধর্ষণ, ধর্ষণের চেষ্টা কিংবা একাধিক বার যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

সংস্থার আহ্বায়ক লায়লা খন্দকার বলেন, শিশু অধিকার হরণ একটি জাতীয় সংকটে পরিণত হয়েছে। শিশু সুরক্ষায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা, জাতীয় শিশু কমিশন গঠন, শিশু আইন-২০১৩ কার্যকর বাস্তবায়ন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শিশু সুরক্ষা নীতিমালা বাধ্যতামূলক করার ওপর গুরত্বারোপ করেন তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category