অন্তত তিন শিক্ষার্থী আহত
শাখা ছাত্রদলে নিন্দা
হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে পাঠকক্ষে অধ্যয়নরত পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হেলাল উদ্দীন বলেন, ‘আমরা এখানে (গ্রন্থাগার) পড়ছিলাম। হঠাৎ তারা অতর্কিতে সবাই রিডিং রুমে ঢুকে পড়ে। তারা যাকে পায়, তাকেই ছাত্রলীগ ট্যাগ দিতে থাকে।’
হেলাল উদ্দীন আরো বলেন, ‘অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের দিকেও তারা হামলা করে। মতের পার্থক্য থাকলেই তাকে ছাত্রলীগ ট্যাগ দিয়ে মেরে ফেলতে চাচ্ছে। ছাত্রলীগ হলেও তাকে মেরে ফেলার অধিকার তো কারো নাই। বিচারের জন্য দেশে আইন রয়েছে।’
হামলার শিকার আনাস বলেন, ‘আজ (সোমবার) আমাদের প্রক্টর অফিসে ডাকা হয়। সেখানে তারা আমাকে ছাত্রলীগ ট্যাগ দেয়। সালাহউদ্দিন আম্মার লোকজন নিয়ে আমাকে মারা শুরু করে। তারপর আমাদের প্রক্টর অফিস থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তারপর আমরা সেখান থেকে লাইব্রেরিতে চলে আসি। এরপর অন্য কেউ হয়তো রাকসুর সামনে তাদের সঙ্গে হাতাহাতি করে। একপর্যায়ে আম্মার লোকজন নিয়ে লাইব্রেরির ভেতরে ঢুকে আমাকে মারধর করে। আমার শরীরে ২০০টিরও বেশি আঘাত করা হয়েছে।’
নিজেকে ছাত্রলীগের সাবেক কর্মী নন দাবি করে আনাস বলেন, ‘অতীতে আমার বন্ধুরা হয়তো ছাত্রলীগ করতো, তাই কোনো এক জায়গায় তাদের সঙ্গে আমার ছবি রয়েছে। তবে ছাত্রলীগের কোনো ব্যানার-ফেস্টুনে আমার ছবি নেই।’
তবে হামলার ঘটনায় ছাত্রশিবিরের জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে শাখা শিবিরের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, ‘এখানে শিবিরের কেউ ছিল না। আমরা আমাদের ভাই রাকসু নেতাদের ওপর হামলার খবর শুনে দ্রুত এখানে আসি। এসে এই পরিস্থিতি দেখতে পাই।’
হামলার ভিডিও ফুটেজে শিবিরের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কোনো মন্তব্য করেননি মেহেদী।
রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘আমাদের রাকসু ভবনে গিয়ে মারধর করেছে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা। প্রশাসনকে আমরা ছাত্রলীগের ওই নেতাকে পুলিশের হাতে দেওয়ার আহ্বান জানাই। কিন্তু তারা কিছুই করেননি। আমাদের ওপর হামলার পর বাধ্য হয়ে আমাদের এখানে আসতে হয়েছে।’
এদিকে, শিক্ষার্থীদের ওপর শিবিরের হামলার নিন্দা জানিয়ে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, ‘যে নারী শিক্ষার্থীকে নিয়ে ঝামেলা শুরু, আমরা জেনেছি তাকে শিবিরের এক নেতা পছন্দ করতেন। এ কারণে একটি নারীঘটিত বিষয়কে গোপনে সমাধান না করে শিবিরের সন্ত্রাসী বাহিনী বিষয়টিকে রাজনৈতিক রূপ দিয়েছে।’
রাহী বলেন আরো বলেন, ‘আমরা আমাদের পবিত্র জায়গা লাইব্রেরিতে শিবিরের এ হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। যারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগ ট্যাগ দিয়ে হামলা চালিয়েছে, তাদের ছাত্র সংসদের পদ ও ছাত্রত্ব বাতিল করতে হবে।’
এ ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।