• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪৫ অপরাহ্ন
Headline
প্রাথমিকে ৯৩, মাধ্যমিকের ৫৭ শতাংশ বই ছাপা শেষ, নভেম্বরে শতভাগ সরবরাহের লক্ষ্য ৪ বছরে ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষক কার্ড দেবে সরকার ইউপি নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনে প্রার্থিতা বাতিল, সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড জাপানে টয়োটার মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী ডিএফওর বিরুদ্ধে অর্থ ছাড় না দেওয়ার অভিযোগ, পাঁচ মাস ধরে ভাতা বন্ধ লাউয়াছড়ার কর্মীদের তুরাগ নদ থেকে বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার অস্তিত্ব হারানোর পথে আড়িয়াল খাঁ, ময়নাকাটা বিশ্ববাজারে আবার কমল জ্বালানি তেলের দাম বিদায়ের ক্ষণ গুনছেন নেতানিয়াহু নওগাঁর নিয়ামতপুরে আরডিআরএস বাংলাদেশের উদ্যোগে সাড়ে ৭ হাজার গাছের চারা বিতরণ

প্রশ্নফাঁসে আরও কঠোর ব্যবস্থা আসছে: গভীর রাতে বার্তা দিলেন মোদি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ৩৭ Time View
Update : শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় দেশজুড়ে শিক্ষার্থী ক্ষোভ এবং ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের মধ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, এ ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে তার সরকার।

বৃহস্পতিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, সরকার ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে এবং শুক্রবার এ বিষয়ে আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

প্রশ্নফাঁস-সংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য এদিন একটি ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের ঘোষণা দেয় দিল্লি হাই কোর্ট।

ভিডিও বার্তায় মোদি বলেন, বন্ধুরা, আমি জানি প্রশ্নফাঁস কোনো সাধারণ বিষয় নয়। এটি লাখ লাখ শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত কষ্টের। তাই গত আড়াই মাসে আমরা অনেক পদক্ষেপ নিয়েছি। দোষীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তারা কারাগারে আছে। আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব ছিল, যেন কোনো শিক্ষার্থীর একটি বছরও নষ্ট না হয়। তাই দ্রুত পরীক্ষাগুলো নেওয়া অত্যন্ত জরুরি ছিল।

মোদির দাবি, সোমবার থেকে সংসদে যে অধিবেশন শুরু হবে সেখানে ওই খসড়া বিল পাশ করানোর চেষ্টা করা হবে। ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা, প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে আগামীকাল মন্ত্রিসভায় কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

সরকার ২২ লাখ শিক্ষার্থীর পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে ‘সর্বোচ্চ ক্ষমতা’ প্রয়োগ করেছে বলে মোদীর ভাষ্য।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে দ্রুত বিচার আদালত গঠনের নির্দেশ দিয়েছিলাম। আজ তারা গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করে অনুমোদন দিয়েছে। আগামীকাল মন্ত্রিসভায় এটি নিয়ে আলোচনা হবে। মন্ত্রিসভার সদস্যদের পরামর্শ যুক্ত করে চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হবে। এরপর পার্লামেন্টে যত দ্রুত সম্ভব বিলটি পাসের চেষ্টা করা হবে।

নতুন ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত মূলত ‘পাবলিক পরীক্ষা (অসদুপায় রোধ) আইনের অধীন অপরাধগুলোর বিচার করা হবে। এ আইনে দায়ের হওয়া সব মামলা অবিলম্বে নতুন আদালতে স্থানান্তর করা হবে।

প্রশ্নফাঁস বা নকল প্রতিরোধে তৈরি করা এই আইনে দোষীদের সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ রুপি জরিমানার বিধান রয়েছে।

দিল্লি হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডি কে উপাধ্যায়ের নির্দেশে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা অনু গ্রোভার বালিগাকে দিল্লির রাউস এভিনিউ আদালত কমপ্লেক্সে এই নতুন আদালতের বিশেষ সিবিআই বিচারকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে দিল্লি হাই কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল জানিয়েছেন।

এদিকে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের পাশাপাশি বৃহস্পতিবার রাতে প্রশাসনের শীর্ষ পদে বড় ধরনের রদবদল এনেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার।

উচ্চশিক্ষা সচিব বিনীত জোশীকে পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রণালয়ে বদলি করে স্কুল ও উচ্চশিক্ষা—উভয় বিভাগের শীর্ষ পদে নতুন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

পশুপালন মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব নরেশ কুমার গাংওয়ারকে উচ্চশিক্ষা সচিব এবং পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব টি কে অনিল কুমারকে স্কুল শিক্ষা বিভাগের সচিব করা হয়েছে।

গত ৩০ জুন সঞ্জয় কুমারের অবসরের পর থেকে বিনীত জোশী স্কুল শিক্ষা বিভাগের সচিবের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসনের দায়িত্বেও ছিলেন।

এদিকে সরকারি সূত্রের বরাতে এনডিটিভি জানিয়েছে, শুক্রবার ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরকারের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

সংগঠনটির নেতৃত্বে দিল্লির যন্তর মন্তরে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করছেন।

ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি মন্তব্যের জেরে গত মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে অভিজিৎ দীপ নামের এক সমাজকর্মীর নেতৃত্বে সামাজিক যোগোযোগ মাধ্যমে গড়ে ওঠে ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি।

আদালতের এক শুনানিতে দেশটির প্রধান বিচারপতি বেকার তরুণ ও সমাজকর্মীদের ‘তেলাপোকা’ বলে কটূক্তি করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। সেজন্যই সংগঠনটির এমন নাম। সঙ্গে ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির নামের ‘জনতা’ নিয়েও কটাক্ষ করা হয়েছে।

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা ও সরকারি চাকরির প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে গত ২০ জুন থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সিজেপি আরো সাংগঠনিক রূপ পায়। তারা প্রশ্নপত্র ফাঁস ও দুর্নীতির অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের দাবি করে। ওই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পুলিশ বল প্রয়োগ করলে আন্দোলন আরো তীব্র হয়।

ওই আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে আমরণ অনশনে বসেছেন ৫৯ বছর বয়সি সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। অসুস্থ হয়ে পড়ায় শনিবার একপ্রকার জোর করে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সিজেপির এই আন্দোলন এখন মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, কলকাতাসহ বিভিন্ন রাজ্যের বড় শহরগুলোয় ছড়িয়ে পড়েছে। ভারতের প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেস তাদের সমর্থন দিচ্ছে।

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী দলীয় নেতারা আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদ করায় রাজনৈতিক উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। দেশটির অনেক সমাজকর্মী, বুদ্ধিজীবী ও বলিউড অভিনেতা অভিনেত্রীরাও সিজেপির আন্দোলনকে সমর্থন দিয়েছেন।

বুধবার রাতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হন। বৃহস্পতিবারও যন্তর মন্তরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি থাকায় ওই এলাকার দেড় কিলোমিটারের ভেতরে মধ্যরাত পর্যন্ত মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এনডিটিভির খবরে বলা হয়, মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বাসভবনের বাইরে ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে।

ভারতের ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা, ২০২৩ এর ১৬৩ ধারা হল জরুরি পরিস্থিতিতে জননিরাপত্তা বজায় রাখতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত পুলিশ কর্তৃক জারি করা বিশেষ নিষেধাজ্ঞা। এটি অনেকটা বাংলাদেশের ১৪৪ ধারার মত কাজ করে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category