রোববার (১২ জুলাই) রাত প্রায় ১১টার দিকে নেত্রকোনা শহরের জয়নগর এলাকায় অবস্থিত ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সজীব মিয়া (পেশায় পিকআপ চালক) শহরের আমগাছতলা এলাকার শুকুর আলীর ছেলে।
স্বজনদের অভিযোগ, রোববার সন্ধ্যায় গ্যাসের ব্যথা নিয়ে সজীবকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও বিদ্যুৎ না থাকার অজুহাতে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. সুজন পাল যথাযথ চিকিৎসা দিতে অবহেলা করেন। একপর্যায়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সজীবের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজন ও স্থানীয় লোকজন হাসপাতালে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে তারা ক্ষোভে হাসপাতালের বিভিন্ন অংশে ভাঙচুর চালান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, হাসপাতাল রোগীদের সেবা দেওয়ার জন্যই রয়েছে। চিকিৎসায় হাসপাতাল বা কোনো চিকিৎসকের গাফিলতি বা ত্রুটি থাকলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সব ধরনের চিকিৎসা দেওয়ার সক্ষমতা আমাদের নেই, কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রোগীর স্বজনদের সঙ্গে তার ফোনে কথা হয়েছে এবং তিনি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। চিকিৎসায় কোনো অবহেলা প্রমাণিত হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি।
নেত্রকোনা মডেল থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়। সদর ফাঁড়ির একটি দলও ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
তবে চিকিৎসকদের অবহেলার অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।