পার্বত্য চট্টগ্রামে সম্ভাব্য বন্যার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের জন্য আগাম মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ-সংবেদনশীল সামাজিক সুরক্ষা (এসআরএসপি) কর্মসূচি চালু করেছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)। কর্মসূচির আওতায় বান্দরবানের বন্যাপ্রবণ এলাকায় ১৫ হাজার ৬০০-এর বেশি পরিবারকে নগদ সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
রোববার (১২ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডব্লিউএফপি জানায়, আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও পূর্বনির্ধারিত সূচকের ভিত্তিতে দুর্যোগ আঘাত হানার আগেই সহায়তা পৌঁছে দিতে আগাম সহায়তা (অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন) কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর আওতায় বন্যার উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকে মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে পাঁচ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় থাকা ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকেও দুর্যোগ-সংবেদনশীল সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অংশ হিসেবে অতিরিক্ত জরুরি নগদ সহায়তা (টপ-আপ) দেওয়া হয়েছে।
ডব্লিউএফপির সহযোগী সংস্থা বলিপাড়া নারী কল্যাণ সমিতির (বিএনকেএস) মাধ্যমে বাস্তবায়িত এই কর্মসূচির আওতায় বান্দরবান সদর ও লামা উপজেলার ১৫ হাজার ৬০০-এর বেশি পরিবার, অর্থাৎ প্রায় ৭৫ হাজার মানুষ এ সহায়তা পেয়েছেন।
সংস্থাটি জানায়, টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী কয়েক দিন ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে, ফলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ডব্লিউএফপির বাংলাদেশ প্রতিনিধি ও কান্ট্রি ডিরেক্টর কোকো উশিয়ামা বলেন, জলবায়ুজনিত দুর্যোগের ঘনত্ব ও তীব্রতা বাড়তে থাকায় দুর্যোগের আগেই পদক্ষেপ নেওয়া আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আগাম সহায়তার মাধ্যমে পরিবারগুলোকে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, জীবিকা ও সম্পদ রক্ষা করতে সহায়তা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে জাতীয় সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগিয়ে সংকটের সময়ে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
ডব্লিউএফপি জানায়, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা বিশ্বের অন্যতম দেশ বাংলাদেশ। ঘন ঘন ও তীব্র বন্যা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামেও মানুষের জীবন, জীবিকা ও খাদ্য নিরাপত্তার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।
২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশ সরকারের নেতৃত্বে বিভিন্ন অংশীদারের সহযোগিতায় দেশে আগাম সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে ডব্লিউএফপি। সংস্থাটির গবেষণা অনুযায়ী, আগাম সহায়তায় প্রতি ১ মার্কিন ডলার বিনিয়োগে দুর্যোগ-পরবর্তী প্রচলিত জরুরি সহায়তার তুলনায় সর্বোচ্চ ৭ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো এবং অতিরিক্ত সুফল অর্জন করা সম্ভব।