• শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৪ পূর্বাহ্ন
Headline
কর্মদক্ষতার স্বীকৃতি, ট্রাফিক উত্তর বিভাগের কল্যাণ সভায় পুরস্কৃত হলেন সেরা পুলিশ সদস্যরা ঠাকুরগাঁও-১ উপ-নির্বাচন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীনের ভূমিধস জয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠক  ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের দাম অপরিবর্তিত থাকছে নোয়াখালীতে অস্ত্র তৈরির কারিগর গ্রেপ্তার, বন্দুক ও সরঞ্জাম উদ্ধার যুবদল আপনাদের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, ভাই: বিএনপি নেতাদের সহযোগিতার আহ্বান মুন্নার টয়োটার প্রথম প্রাইভেট কারে উঠলেন প্রধানমন্ত্রী মদিনার যে স্থানে নবী কারিম (সা.) তিনটি দোয়া করেছিলেন সৌদি আরবে প্রবাসী শ্রমিকদের ওপর বর্বর নির্যাতন, মৃত্যুদন্ড ও শিরশ্ছেদ বন্ধ করুন শ্রমিক বিক্ষোভ সমাবেশে সাইফুল হক উৎসবমুখর পরিবেশে ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন 

তিনজনের মৃত্যুদণ্ড পাঁচ বছরের শিশুকে ধর্ষণ-হত্যা ময়মনসিংহে: 

ময়মনসিংহ ব্যুরো / ৪৮ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলায় পাঁচ বছর বয়সী শিশুকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর নদীর পানিতে ছুড়ে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তিন তরুণের মৃত্যুদণ্ড ও এক কিশোরকে ১০ বছরের কারদণ্ড দিয়েছে আদালত। ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার ২৫ দিনের মধ্যে বিচারিক কার্যক্রম শেষে আজ বৃহস্পতিবার পৃথক আদালত থেকে এ রায় দেওয়া হয়।

মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন আসামিরা হলেন, ধোবাউড়া উপজেলার টাঙ্গাহাটি গ্রামের দোলাল মিয়ার ছেলে আরিফ মিয়া (১৯), সাইদুল ইসলামের ছেলে সাঈম মিয়া (১৮) ও তাহের উদ্দিনের ছেলে রাকিব মিয়া (২১)। অপর আসামি রমজান আলীর ছেলে মারুফ মিয়া (১৬) অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় ১০ বছরের কারাদন্ড দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার(৯ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে ময়মনসিংহ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সুদীপ্তা সরকার এই রায় ঘোষণা করেন। আসামী আরিফ মিয়া রাকিব মিয়া ও মো. সাঈম মিয়ার উপস্থিতে রায় ঘোষণা করা হয়। তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেক আসামিকে ২ লাখ টাকা করে অর্থদন্ডের আদেশও দেওয়া হয়।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলার শুনানি পরিচালনা করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) বজলুল করিম চৌধুরী এবং আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মকবুল হোসেন সরকার।

​অন্যদিকে, এই মামলার অপর অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামি (মারুফ মিয়া) দশম শ্রেণির ছাত্রের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম.এল.বি মেছবাহ উদ্দিন আহমেদের আদালতে এ শিশুর রায় দেওয়া হয়। আদালত অভিযুক্তকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

পুলিশ জানায়, ১৪ জুন বিকেলে নিজ বাড়ির পাশ থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুটি নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান পাননি। পরে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে শিশুটির বাড়ি থেকে ৫০০ গজ দূরে স্থানীয় লোকজন কংস নদের বাঁকে তল্লাশি চালিয়ে শিশুটির মরদেহ নদীর তলদেশে পুঁতে রাখা অবস্থায় খুঁজে পান। পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন। রাতেই মরদেহ দাফনের প্রস্তুতি হিসেবে গোসল করাতে নেওয়া হয়। তখন শিশুটির শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে ক্ষত দেখা যায়। ওই অবস্থায় দাফনের প্রস্তুতি বন্ধ রেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাশ নিজেদের হেফাজতে নিয়ে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

পরদিন ১৫ জুন রাতে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে ধোবাউড়া থানায় দলবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ এনে মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করলেও সন্দেহভাজন চার তরুণের নাম উল্লেখ করা হয়। পুলিশ চার তরুণকে গ্রেপ্তারের পর ধর্ষণ ও হত্যার রোমহর্ষ বর্ণনা পায়। পরে চারজন আসামিকে ময়মনসিংহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক তনয় সাহার আদালতে তোলা হলে আসামিরা ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলায় পুলিশ দ্রুত অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার উদ্যোগ নেয়। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও ডিএনএ প্রতিবেদন পাওয়ার পর ২৩ জুন ৪ আসামির বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে পুলিশ। আর উভয় পক্ষের শুনানী শেষে ঘটনার ২৫ দিনের মাথায় রায়ের দিল আদালত। রাষ্ট্র পক্ষে ১৯ জনের স্বাক্ষ্য গ্রহণ করা হয় এবং আসামি পক্ষে চারজন সাফাই স্বাক্ষী দেয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category