• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৫ অপরাহ্ন
Headline
টয়োটার প্রথম প্রাইভেট কারে উঠলেন প্রধানমন্ত্রী মদিনার যে স্থানে নবী কারিম (সা.) তিনটি দোয়া করেছিলেন সৌদি আরবে প্রবাসী শ্রমিকদের ওপর বর্বর নির্যাতন, মৃত্যুদন্ড ও শিরশ্ছেদ বন্ধ করুন শ্রমিক বিক্ষোভ সমাবেশে সাইফুল হক উৎসবমুখর পরিবেশে ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন  ৫৫ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, দুদকের মামলায় সাবেক চেয়ারম্যানসহ ১০ জন মানবতাবিরোধী অপরাধে হানিফের মৃত্যুদণ্ড, অপর তিন আসামির আমৃত্যু কারাদণ্ড খাদ্যশস্য সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়াতে টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ করতে হবে: খাদ্যমন্ত্রী সেবার মাধ্যমে সত্যিকার অর্থেই ‘জনগণের পুলিশ’ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কাঁঠালিয়ায় শিশু-কিশোর সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি

উপদেষ্টারা মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী থেকে বেশি প্রাধান্য পাবেন প্রধানমন্ত্রীর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর

বর্তমান বাংলাদেশ প্রতিবেদক / ৮৭ Time View
Update : শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬

ছবি সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর ঘিরে কৌতূহল বাড়ছে বিভিন্ন মহলে। শুরু থেকে কৃচ্ছ্রসাধন করে আসা প্রধানমন্ত্রীর এ সফরেও এর আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সফরসঙ্গীর বহর না নিয়ে বেশ সীমিত করা হয়েছে। মালয়েশিয়ায় সংক্ষিপ্ত সফরে ব্যস্ত সময় পার করবেন তারেক রহমান। সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী থেকে উপদেষ্টারাই বেশি প্রাধান্য পাবেন।

প্রধানমন্ত্রী ২১ ও ২২ জুন মালয়েশিয়া সফর করবেন। এরপর ২৩ জুন তিনি কুয়ালালামপুর থেকেই বেইজিং যাবেন এবং ২৬ জুন ঢাকায় ফিরবেন। সফরসঙ্গী সবমিলিয়ে ২০ জনের মতো হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সফরসঙ্গীদের কেউ কেউ আবার মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরবেন। চীনে সফরসঙ্গীর তালিকায় পরিবর্তন আসতে পারে।

বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি রফতানির তালিকায় চতুর্থ দেশ হিসেবে রয়েছে মালয়েশিয়া। তারপরেও দেশটির শ্রমবাজার নিয়ে বিভিন্ন সময় নানা টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে গেছে বাংলাদেশ। সিন্ডিকেটসহ বিভিন্ন কারণে এখনও বাংলাদেশের জন্য বন্ধ আছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। এ বাস্তবতায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর  মালয়েশিয়া সফরে বাংলাদেশের দিক থেকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে শ্রমবাজার বিষয়ে। পাশাপাশি শিক্ষা খাতেও দেশটির সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সম্ভাবনা আছে।

গত এপ্রিলে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন কুয়ালালামপুর সফর করেন। পরে ঢাকায় ফিরে তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশের জনশক্তি পাঠানোর বিষয়ে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

এদিকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম রাষ্ট্রীয় বিদেশ সফর ঘিরে দেশটিতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। দুই দিনব্যাপী সফর কেন্দ্র করে প্রবাসীদের মধ্যে নতুন আকাক্সক্ষারও জন্ম হয়েছে। অনেকেই অবৈধ বাংলাদেশিদের বৈধকরণের উদ্যোগের প্রত্যাশা করছেন। অন্যদিকে মালয়েশিয়ায় অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিনের দাবি ‘গ্র্যাজুয়েট পাস’ সুবিধা চালুর বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতির আশা করছেন। বর্তমানে ৩২টি দেশের শিক্ষার্থীরা এ সুবিধা পেলেও বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা এখনও এর বাইরে রয়েছে।

মালয়েশিয়ায় স্নাতক বা উচ্চতর ডিগ্রি সম্পন্ন করা ৩২টি দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য গ্র্যাজুয়েট পাস চালু থাকলেও বঞ্চিত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা। অনতিবিলম্বে স্পন্সর ছাড়া এক বছর থাকার ও কাজ খোঁজার সুবিধা জন্য ৩৩তম দেশ হিসেবে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের গ্র্যাজুয়েট পাস চালুর দাবি পূরণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া অবৈধভাবে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরাও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বৈধতার বিষয় নিয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার জন্য।

২১ জুন সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন। সফরসূচির অংশ হিসেবে ওই রাতেই তিনি দেশটিতে বসবাসরত প্রবাসী পেশাজীবীদের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভায় অংশ নিতে পারেন।

এ প্রসঙ্গে মালয়েশিয়া শাখা বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার বাদলুর রহমান খান বর্তমান বাংলাদেশকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী ২১ তারিখ রাতে মালয়েশিয়ায় পা রাখবেন। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি হোটেলে চলে যাবেন। রাতেই হয়তো বাংলাদেশি কমিউনিটির সঙ্গে কিছু সৌজন্য সাক্ষাৎ হতে পারে। সফর খুবই সংক্ষিপ্ত হওয়ায় আমাদের আলাদা কোনো কর্মসূচি নেই।

দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাহবুব আলম শাহ বর্তমান বাংলাদেশকে বলেন, স্বল্পসময়ে ব্যস্ত সময় পার করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দ্বিপক্ষীয় কিছু বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হবে। আমরা চেষ্টা করছি ২২ তারিখে বাংলাদেশি কমিউনিটির সঙ্গে মতবিনিময়ের আয়োজন করতে। এ ছাড়া কিছু ব্যবসায়িক অংশীজনের বৈঠক আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এটি সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় সফর হওয়ায় বিমানবন্দরে নেতাকর্মীদের জড়ো হওয়ারও তেমন সুযোগ নেই। মালয়েশিয়ার সরকার তারেক রহমানকে রিসিভ করবেন।

উল্লেখ্য, তারেক রহমান ব্যক্তিগতভাবে প্রথম মালয়েশিয়া সফর করেন ১৯৯৭ সালে। এরপর ২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত তিনি প্রতি বছর সফর করেন। তখন তারেক রহমান বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন; সে সময় বিএনপি সরকারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এরপর লন্ডন থেকে ২০১৪ সালে ২ জুন মালয়েশিয়ায় সফর করেন তারেক রহমান; তখন তিনি ছিলেন বিএনপি সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান।

এবার বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম সরকারি সফরে মালয়েশিয়া হয়ে চীনে যাচ্ছেন, যা নানা বিবেচনায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category