• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪১ পূর্বাহ্ন
Headline
নলডাঙ্গায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত, গুরুত্ব পেল জনসচেতনতা যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী মাহমুদুল আলমের উদ্যোগে প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইল চেয়ার, সেলাই মেশিন ও ক্রাচ বিতরণ সান্তাহার পৌর যুবদলের উদ্যোগে নানা আয়োজনে ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত দুই বছরের মধ্যে স্বাস্থ্যখাতে আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্য: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের ৫ অগ্রাধিকার খাতে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে: রাষ্ট্রপতি  বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে সুইজারল্যান্ডের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী  বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে আগ্রহী জাপান উন্নত বাংলাদেশ গড়তে প্রবাসী-দেশবাসীকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

হাম-রুবেলার প্রভাবে ঈদের আনন্দ ম্লান, ফাঁকা মৌলভীবাজারের পর্যটন স্পট

মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি বর্তমান বাংলাদেশ / ১৩৮ Time View
Update : শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬

চায়ের রাজধানীখ্যাত মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে এবার পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে আশানুরূপ পর্যটকের দেখা মেলেনি। ঈদের তৃতীয় দিনেও জেলার বিভিন্ন পর্যটন স্পট, হোটেল-রিসোর্ট ও বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ছিল অনেকটাই ফাঁকা পরিবেশ। মৌলভীবাজার জেলায় রয়েছে ৯২টি চা-বাগান ও শতাধিক পর্যটন স্পট। অনেক ব্যবসায়ী ব্যাংক ঋণ নিয়ে হোটেল ও রিসোর্ট পরিচালনা করছেন।
পর্যটন-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদ বা যে কোনো ছুটিতে মৌলভীবাজারে পর্যটকের ভিড় থাকে। বিশেষ করে দুই ঈদের ছুটিতে রিসোর্ট বা হোটেলগুলো আগাম বুকিং দিয়ে রাখেন পর্যটকরা। তবে এ বছর আগাম বুকিংয়ের সংখ্যা অনেকটা কম ছিল। যদিও শেষ সময়ে আশানুরূপ পর্যটক আসার সম্ভাবনা থাকলেও বিভিন্ন কারণে কমে গেছে পর্যটক আসা। ট্রেনের টিকিট-সংকট, ঈদের ছুটি কম ও হাম-রুবেলার প্রভাব থাকায় পর্যটক কম এসেছে।
সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র ও চা-বাগান ঘুরে দেখা যায়, মৌলভীবাজার জেলায় পর্যটন স্পটগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো-বড়লেখা উপজেলার হাকালুকি হাওর ও মাধবকুন্ড জলপ্রপাত, শ্রীমঙ্গল উপজেলার বাইক্কা বিল হাইল হাওর, বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডশন,বধ্যভূমি-৭১, বিটিআরআই চা বাগান এলাকা, মনিপুরি পাড়া ও টি বোর্ডের নিয়ন্ত্রণাধীন টি রিসোর্টি এন্ড টি মিউজিয়াম, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, বীর শ্রেষ্ট হামিদুর রহমানের স্মৃতি সৌধ, হাম হাম জলপ্রপাত, মাধবপুর লেকসহ এলাকায় স্থানীয় কিছু দর্শনার্থী থাকলেও দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকের সংখ্যা ছিল তুলনামূলক কম। এতে হতাশা বিরাজ করছে হোটেল-রিসোর্ট মালিক ও পর্যটন ব্যবসায়ীদের মাঝে।
শ্রীমঙ্গলে ঘুরতে আসা কয়েকজন দর্শনার্থী জানান, আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় এবার পরিবার নিয়ে অনেকেই বের হননি। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে রোগবালাই ছড়িয়ে পড়ার খবরেও মানুষ কিছুটা আতঙ্কিত।
ঢাকা থেকে আসা শিলা বলেন,বলেন, মৌলভীবাজারে অনেকবার এসেছি। এ জেলায় কৃত্রিম ও প্রাকৃতিক ছোট-বড় অনেক পর্যটনকেন্দ্র রয়েছে। এ ছাড়া রয়েছে অসংখ্য চা-বাগান ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস। এসব দেখার জন্য অন্যান্য সময় পর্যটকের ভিড় থাকলেও এবার ফাঁকা।
তাহমিনা লিজা বলেন, ‘প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এখনো আছে, কিন্তু পর্যটকদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নেই। বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্ন ওয়াশরুম ও বসার স্থান বাড়ানো প্রয়োজন।
আনারস বিক্রেতারা জানান, “অন্য বছর ঈদের সময় মানুষ গাড়ি থামিয়ে আনারস কিনতো। এবার লোকজনই কম, তাই বিক্রিও নাই।” পর্যটক কম থাকায় দিনভর দোকানে বসেও তেমন বিক্রি হচ্ছে না। অনেক আনারস নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও করছেন তারা।
চামুং রেস্তোরাঁর পরিচালক পংকজ ভট্টাচার্য বলেন, ঈদের আগেই অধিকাংশ রুম বুক থাকার কথা থাকলেও এবার অনেক কক্ষ খালি রয়েছে। এতে ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা।
শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার সাবেক সভাপতি ও গ্র্যান্ড সেলিম রিসোর্টের মালিক সেলিম আহমেদ বলেন, দেশজুড়ে হামের সংক্রমণের প্রভাব ও ঈদের ছুটি কম থাকায় জেলায় পর্যটক কম এসেছে। এবার বুকিং হয়েছে মাত্র ৬০ থেকে ৭৫ শতাংশ। অনেক রিসোর্টের অর্ধেক কক্ষ এখনও খালি রয়েছে।

শ্রীমঙ্গল টুরিস্ট পুলিশ জোনের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক প্রজিত কুমার দাস বলেন, পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে শ্রীমঙ্গলের প্রতিটি পর্যটন স্পটে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ টুরিস্ট স্পটগুলোতে টুরিস্ট পুলিশের সদস্য মোতায়েন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পর্যটক ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যাতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পর্যটকরা নির্বিঘ্নে ঘোরাফেরা করতে পারেন এবং নিরাপদে নিজ গন্তব্যে ফিরে যেতে পারেন, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ জিয়াউর রহমান বলেন, পর্যটন কেন্দ্রে আসা মানুষের সার্বিক নিরাপত্তা ও সুব্যবস্থা নিশ্চিতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের এখানকার থানা পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category