ঈদ হলো এমন একটা দিন, যেদিন ধনী-গরিব সবার আনন্দের দিন। এমন দিনে রসুল (সা.) নিষেধ করলেন যার সামর্থ্য আছে, কিন্তু কোরবানি করল না তাকে ঈদগাহেই আসতে। এর থেকে আমরা বুঝতে পারি কোরবানি কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তা ছাড়া কোরবানির সওয়াবও বিপুল। কোরবানির পশুর প্রতিটি লোম ও পশমের বিনিময়ে আল্লাহ সওয়াব দান করেন। তবে সেই কোরবানি হতে হবে লৌকিকতা ও অহংকার প্রদর্শনমুক্ত।
বর্তমান সময়ে কোরবানি এলে আমাদের সমাজে একশ্রেণির মানবিক মানুষের উদ্ভব ঘটে। যারা প্রাণী হত্যার দোহাই দিয়ে কোরবানিকে বর্বরতা হিসেবে আখ্যায়িত করতে চায়। অথচ এই মানুষগুলোর প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় মাংস থাকে। বিশ্বসভ্যতায় খাদ্যশৃঙ্খল ও বাস্তুসংস্থানের ভারসাম্য রক্ষায় পশুপালন ও পশু জবাই একটি স্বাভাবিক ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া। যেটা সব ধর্মের মানুষই করে থাকে। সুতরাং কোরবানির সময় যাদের হৃদয়ে প্রাণিকুলের জন্য মায়া উতলে ওঠে, তাদের মতলব যে ভিন্ন, তা বুঝতে কারোর বাকি থাকার কথা নয়।
আল্লাহর নৈকট্য লাভের পাশাপাশি কোরবানির প্রভূত ইহজাগতিক উপকারিতাও আছে। বাংলাদেশ সরকারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২ সালে ৯৯ লাখ ৫০ হাজার, ২০২৩ সালে ১ কোটি ১ লাখ এবং ২০২৪ সালে ১ কোটি ৪ লাখের বেশি পশু কোরবানি করা হয়েছে। এই কোরবানিকে কেন্দ্র করে দেশে প্রতি বছর ১ লাখ কোটি টাকারও বেশি অর্থনৈতিক লেনদেন হয়। এর মাধ্যমে খামারি, পশু ব্যবসায়ী, পরিবহনশ্রমিক, চামড়াশিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাসহ বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবিকা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল থাকে। কোরবানি না থাকলে এসব খাতের কার্যক্রম ও জীবিকার পরিধি অনেক সীমিত হয়ে যেত।
কোরবানির সবচেয়ে বড় সামাজিক আবেদন হলো দরিদ্রদের এক-দুবেলা গোশত খাওয়ার ব্যবস্থা। আমাদের দেশে এমন অসংখ্য পরিবার আছে, যারা সারা বছরে দুবেলা গরু-ছাগলের গোশত খেতে পারে না। দারিদ্র্যপীড়িত মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে ও তাদের পুষ্টি-আমিষের ঘাটতি মেটাতে প্রতি বছর কোরবানি অভাবনীয় ভূমিকা পালন করে।
আল্লাহর প্রতিটি বিধানের মাঝেই এমন বহুবিধ ফায়দা রয়েছে। মহান আল্লাহ আমাদের তাঁর সব বিধান যথাযথভাবে পালনের তৌফিক দিন।
♦ জুমার মিম্বর থেকে
গ্রন্থনা : নুরুল ইসলাম তানঈম





