• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৯ পূর্বাহ্ন
Headline
নলডাঙ্গায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত, গুরুত্ব পেল জনসচেতনতা যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী মাহমুদুল আলমের উদ্যোগে প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইল চেয়ার, সেলাই মেশিন ও ক্রাচ বিতরণ সান্তাহার পৌর যুবদলের উদ্যোগে নানা আয়োজনে ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত দুই বছরের মধ্যে স্বাস্থ্যখাতে আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্য: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের ৫ অগ্রাধিকার খাতে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে: রাষ্ট্রপতি  বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে সুইজারল্যান্ডের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী  বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে আগ্রহী জাপান উন্নত বাংলাদেশ গড়তে প্রবাসী-দেশবাসীকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

কোরবানি আল্লাহ প্রেমের নিদর্শন

বর্তমান বাংলাদেশ ডেস্ক / ৭২ Time View
Update : শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬

শায়খ আহমাদুল্লাহ

মানুষের জীবনের প্রকৃত সার্থকতা নিহিত স্রষ্টার আনুগত্য ও ভালোবাসার মাঝে। আর আল্লাহর প্রতি বান্দার ভালোবাসা প্রদর্শনের অন্যতম নিদর্শন কোরবানি। কোরবানি শুধু পশু জবাই নয়; বরং এর মর্ম কথা হলো আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের সবচেয়ে প্রিয় বস্তুকে উৎসর্গ করতে প্রস্তুত থাকা। হৃদয়ে কোনো ধরনের দ্বিধা কিংবা সংকোচ না থাকা।
কোরবানির ইতিহাসের দিকে তাকালে আমরা আল্লাহর প্রতি ইবরাহিম (আ.)-এর অকুণ্ঠ ভালোবাসা ও আনুগত্যের এক অনুপম নজির দেখতে পাই। যখন ইবরাহিম (আ.) নিজের আকাক্সিক্ষত ও ভালোবাসার সন্তানকে আল্লাহর জন্য উৎসর্গ করতে আদিষ্ট হলেন। তিনি বিন্দু পরিমাণ কুণ্ঠাবোধ করেননি। বরং আল্লাহর আদেশ পালনে দৃঢ় চিত্তে এগিয়ে গেলেন। সন্তানও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য উৎসর্গিত হতে প্রস্তুত হয়ে গেলেন।পিতা-পুত্রের এই যে অভূতপূর্ব আত্মত্যাগ, এটিই মূলত ইসলামের শিক্ষা। আল্লাহ দেখতে চেয়েছিলেন ইবরাহিম (আ.)-এর হৃদয়ে আল্লাহর স্থান ওপরে, নাকি সন্তানের স্থান। যখন তিনি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেন, আল্লাহ জান্নাত থেকে দুম্বা পাঠিয়ে ইসমাইল (আ.)-কে রক্ষা করলেন এবং এই ত্যাগের স্মৃতিকে কেয়ামত পর্যন্ত বিশ্ববাসীর জন্য আবশ্যকীয় ইবাদত হিসেবে জারি করে দিলেন।কোরবানির রক্ত প্রবাহিত করার মূল উদ্দেশ্যই হলো মানুষের ভিতরের লোভলালসা ও পশুত্বকে বিসর্জন দেওয়া। আমরা যাপিত জীবনে অনেক সময় নফসের খায়েশ বা রিপুর তাড়নায় আল্লাহর বিধানের ব্যাপারে গাফেল হয়ে যাই। এর ফলে আমরা আল্লাহর ভালোবাসা থেকে দূরে চলে যাই। নিজের কষ্টে উপার্জিত হালাল সম্পদ কোরবানির মাধ্যমে আল্লাহর ভালোবাসা নিজের জীবনে প্রতিফলন পাওয়া যায়। কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘আমার নামাজ, আমার কোরবানি, আমার জীবন ও মরণ সবটুকুই বিশ্বজাহানের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য (সুরা আনআম)।’তবে অবশ্যই কোরবানি হতে হবে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, আল্লাহর কাছে তোমাদের কোরবানির পশুর রক্তমাংস কিছুই পৌঁছে না। আল্লাহর কাছে পৌঁছে কেবল তোমাদের তাকওয়া (সুরা হজ)।সামর্থ্যবান প্রত্যেকের ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যারা কোরবানি করবে না তাদের ব্যাপারে রসুল (সা.) বলেছেন, সে যেন ঈদগাহের ধারেকাছেও না আসে (সুনানে ইবনে মাজা)।’

ঈদ হলো এমন একটা দিন, যেদিন ধনী-গরিব সবার আনন্দের দিন। এমন দিনে রসুল (সা.) নিষেধ করলেন যার সামর্থ্য আছে, কিন্তু কোরবানি করল না তাকে ঈদগাহেই আসতে। এর থেকে আমরা বুঝতে পারি কোরবানি কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তা ছাড়া কোরবানির সওয়াবও বিপুল। কোরবানির পশুর প্রতিটি লোম ও পশমের বিনিময়ে আল্লাহ সওয়াব দান করেন। তবে সেই কোরবানি হতে হবে লৌকিকতা ও অহংকার প্রদর্শনমুক্ত।

বর্তমান সময়ে কোরবানি এলে আমাদের সমাজে একশ্রেণির মানবিক মানুষের উদ্ভব ঘটে। যারা প্রাণী হত্যার দোহাই দিয়ে কোরবানিকে বর্বরতা হিসেবে আখ্যায়িত করতে চায়। অথচ এই মানুষগুলোর প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় মাংস থাকে। বিশ্বসভ্যতায় খাদ্যশৃঙ্খল ও বাস্তুসংস্থানের ভারসাম্য রক্ষায় পশুপালন ও পশু জবাই একটি স্বাভাবিক ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া। যেটা সব ধর্মের মানুষই করে থাকে। সুতরাং কোরবানির সময় যাদের হৃদয়ে প্রাণিকুলের জন্য মায়া উতলে ওঠে, তাদের মতলব যে ভিন্ন, তা বুঝতে কারোর বাকি থাকার কথা নয়।

আল্লাহর নৈকট্য লাভের পাশাপাশি কোরবানির প্রভূত ইহজাগতিক উপকারিতাও আছে। বাংলাদেশ সরকারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২ সালে ৯৯ লাখ ৫০ হাজার, ২০২৩ সালে ১ কোটি ১ লাখ এবং ২০২৪ সালে ১ কোটি ৪ লাখের বেশি পশু কোরবানি করা হয়েছে। এই কোরবানিকে কেন্দ্র করে দেশে প্রতি বছর ১ লাখ কোটি টাকারও বেশি অর্থনৈতিক লেনদেন হয়। এর মাধ্যমে খামারি, পশু ব্যবসায়ী, পরিবহনশ্রমিক, চামড়াশিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাসহ বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবিকা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল থাকে। কোরবানি না থাকলে এসব খাতের কার্যক্রম ও জীবিকার পরিধি অনেক সীমিত হয়ে যেত।

কোরবানির সবচেয়ে বড় সামাজিক আবেদন হলো দরিদ্রদের এক-দুবেলা গোশত খাওয়ার ব্যবস্থা। আমাদের দেশে এমন অসংখ্য পরিবার আছে, যারা সারা বছরে দুবেলা গরু-ছাগলের গোশত খেতে পারে না। দারিদ্র্যপীড়িত মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে ও তাদের পুষ্টি-আমিষের ঘাটতি মেটাতে প্রতি বছর কোরবানি অভাবনীয় ভূমিকা পালন করে।

আল্লাহর প্রতিটি বিধানের মাঝেই এমন বহুবিধ ফায়দা রয়েছে। মহান আল্লাহ আমাদের তাঁর সব বিধান যথাযথভাবে পালনের তৌফিক দিন।

♦ জুমার মিম্বর থেকে

গ্রন্থনা : নুরুল ইসলাম তানঈম


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category