জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার দায়িত্বটা ঠিকভাবে পালন করছেন না। আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বোধহয় প্রধানমন্ত্রী হতে চান।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকেলে ময়মনসিংহ নগরীর টাউন হল এডভোকেট তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে তারুণ্যের বাজেট ভাবনা ও গণভোট বাস্তবায়ন শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, আমরা বিভিন্ন সময় শুনি, বিভিন্ন কার্যক্রমে আমাদের কাছে মনে হয়, সংসদে কথা দেখেও মনে হয় যে- আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বোধহয় প্রধানমন্ত্রী হতে চান। কিন্তু তিনি তার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বটা ঠিকভাবে পালন করছেন না। ধর্ষণ থেকে শুরু করে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। যদিও আমরা পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে বার বার শুনেছি, এখন যিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আছেন, তিনিই বলতেন যে- নির্বাচিত সরকার আসলে সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
তিনি বলেন, কিন্তু দুঃখজনক যে, নির্বাচিত সরকার আসার পরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। দেশে যে নৃশংসভাবে শিশু ধর্ষণ এবং হত্যার সংখ্যা বাড়ছে, এটা আমাদের প্রত্যেকের জন্য শঙ্কার। নারীরা এখন রাস্তায় বের হওয়ার ক্ষেত্রে এক ধরনের শঙ্কা এবং ভয়ের এবং আতঙ্কের পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হচ্ছে। আমরা নাগরিকদের পক্ষ থেকে দাবি করতে চাই যে, সর্বপ্রথমে এদেশের নাগরিকের যে নিরাপত্তা সেটা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দিকে বিশেষভাবে নজর দিন। এক্ষেত্রে যদি বিরোধীদলের কোন সহযোগিতার প্রয়োজন হয়, আমরা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছি। কিন্তু আমরা দেখছি যে, আপনাদের মনোযোগ আইনশৃঙ্খলার দিকে না গিয়ে বিভিন্ন স্ট্যান্ডবাজির দিকে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
সেমিনারে আসন্ন বাজেট প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ বলেন, আর্থিক কাঠামোর বড় ধরনের সংস্কার ছাড়া এত বড় বাজেট কিভাবে বাস্তবায়ন করা হবে তা এখনো পরিষ্কার না, বর্তমান প্রশাসনিক সক্ষমতা দিয়ে এই বাজেটের লক্ষ অর্জন সম্ভব নয়। নির্বাচন পরবর্তী সরকারের প্রথম বাজেটে জনগণের প্রত্যাশা ছিলো রাষ্ট্রীয় সংস্কার, গণভোট ও কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রতিফলন থাকবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা দৃশ্যমান নয়। বর্তমান অর্থনীতির মৌলিক সংকটগুলোর মধ্যে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থানের স্থবিরতা, বিনিয়োগ সংকট ও রাজস্ব ঘাটতি নিয়ে বাজেটে সুস্পষ্ট রূপরেখা এখনো দেখা যাচ্ছে না। বরং ফ্যামিলি কার্ড, ফারমার্স কার্ড, খাল খনন এর মত কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা বেশি দেখা যাচ্ছে সরকারকে।
সীমান্ত হত্যায় ক্ষোভ প্রকাশ করে এনসিপির এ নেতা বলেন, পশ্চিমবঙ্গে উগ্রবাদী উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা ক্ষমতায় আসার পর থেকে সীমান্ত হত্যা বেড়ে গেছে। তারা ঘোষণা দিচ্ছে যে, পুশব্যাক করবে তারা। কিন্তু আমরা আজকেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রিফিং দেখলাম, তিনি এই বিষয়ে বলেন- এটা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। কিন্তু যে আইনের ফলে সেখানকার নেতৃবৃন্দরা যে আইন বাস্তবায়নের মাধ্যম হিসেবে বলছেন যে, সেখানে যাদেরকে সন্দেহ হবে তাদের ধরে বাংলাদেশে পুশব্যাক করবে, সেটা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় থাকে না। যখন বাংলাদেশে পুশব্যাক করার বিষয়টা আসে, তখন এটা বাংলাদেশের বিষয় হয়ে যায়।
সেমিনারে জেলা জাতীয় ছাত্র শক্তির আহবায়ক আলী হোসেনের সভাপতিত্বে সদস্য সচিব মাজহারুল ইসলাম রানার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন এনসিপি নেতা জাহিদ আহসান, জাবেদ রাসিন, আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল, অ্যাডভোকেট এটিএম মাহাবুবুল আলম, ইকরাম এলাহী খান প্রমুখ।