কিশোরগঞ্জে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যা। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী রেজাউল করিম রাজুর বিরুদ্ধে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অভিযুক্ত রেজাউল করিম রাজু (৪১) ফরিদপুর জেলার চরভদ্রাসন উপজেলার লোহারটেক গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে কিশোরগঞ্জ সদরের ঝিকরজোড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। নিহত মাকসুদা আক্তার (৩২) তার স্ত্রী। তারা কিশোরগঞ্জ শহরের পশ্চিম তারাপাশা এলাকায় আতরজান স্কুল সংলগ্ন কামাল আরেফিন সাইফুলের বাসায় ভাড়া থাকতেন।
নিহতের বাবা মামুনুর রশিদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে আমার মেয়েকে যৌতুকের জন্য শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিলেন রাজু। তিনি দাবি করেন, মেয়ের সুখের চিন্তা করিয়া আমি কিছু টাকা পয়সা দেই এবং আমার বড় মেয়ে ইতালি প্রবাসী বিভিন্ন সময়ে প্রায় ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা পাঠিয়েছে তার একাউন্টে । সেই টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যেই আমার মেয়ে মাকসুদাকে হত্যা করা হয়েছে বলে তার সন্দেহ।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, মেয়ের মরদেহ দেখতে গেলে তদন্ত কর্মকর্তা তাকে বাধা দেন এবং তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এমনকি মরদেহ গ্রহণ নিয়েও জটিলতা তৈরি করা হয়। এ সময় উত্তেজনার একপর্যায়ে নিহতের ভাই তার দুলাভাইকে চড় মারলে উল্টো তাদের বিরুদ্ধে হয়রানির হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (১৫ মে) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে। পুলিশ জানায়, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা মাকসুদার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ওসি (তদন্ত) হাবিবুল্লাহ বলেন,প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর নিশ্চিতভাবে বলা যাবে এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যা। নিহতের বাবার অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।”
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। নিহতের পরিবার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।