কক্সবাজারের জনপ্রিয় ও ঐতিহ্যবাহী Traditional AL-Goni Restaurant-এ বারবিকিউ খেয়ে অসুস্থ হওয়া ১১ জন পর্যটক চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ঢাকার পথে রওনা হয়েছেন।
জানা গেছে, সম্প্রতি কক্সবাজার ভ্রমণে এসে ওই পর্যটকরা রেস্টুরেন্টটির কলাতলী শাখায় খাবার গ্রহণ করেন। পরে বারবিকিউ খাওয়ার কিছু সময়ের মধ্যেই তারা পেটব্যথা, বমি ও শারীরিক দুর্বলতাসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগতে শুরু করেন। পরিস্থিতির অবনতি হলে দ্রুত তাদের স্থানীয় হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণের পর বর্তমানে সবাই সুস্থ রয়েছেন। চিকিৎসা শেষে তারা আজ ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে আলোচনা সৃষ্টি হলেও বর্তমানে আক্রান্তদের সবাই আশঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে। তবে ঠিক কী কারণে এ অসুস্থতার ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে।
এদিকে ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু স্থানীয় অনলাইন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ নিয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে Traditional AL-Goni Restaurant কর্তৃপক্ষ।
রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, ১৯৬৯ সাল থেকে আল-গণি রেস্টুরেন্ট স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের আস্থার প্রতীক হিসেবে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। তারা সবসময় মানসম্মত ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার পরিবেশনে গুরুত্ব দিয়ে থাকে।
প্রকাশিত সংবাদ প্রসঙ্গে রেস্টুরেন্টের পক্ষ থেকে বলা হয়, কিছু গণমাধ্যমে ভুল তথ্য প্রচার করা হয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, ঘটনাটি থানার সামনের ব্রাঞ্চে নয়, বরং কলাতলী ব্রাঞ্চে ঘটেছে এবং অতিথিদের খাবারের অর্ডার ছিল BBQ, বিরিয়ানি নয়। এছাড়া ১২০ জনের পুরো ট্যুরিস্ট গ্রুপ হাসপাতালে ভর্তি হয়নি; বরং তাদের তথ্য অনুযায়ী ১২০ জনের মধ্যে মাত্র ৭ থেকে ৮ জন সাময়িক অসুস্থতা অনুভব করেছিলেন।
রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, পর্যটকদের কাছ থেকে তারা জানতে পেরেছেন—১৫ জনের একটি গ্রুপ বারবিকিউ খাওয়ার পর সমুদ্র সৈকতে গিয়ে কাঁকড়া খেয়েছিলেন। তাদের ধারণা, ওই কাঁকড়া খাওয়ার কারণেও ফুড পয়জনিংয়ের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। পাশাপাশি অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ বা ভ্রমণজনিত ক্লান্তির কারণেও শারীরিক অসুস্থতা দেখা দিতে পারে বলে মন্তব্য করেন তারা। তাই নিশ্চিত তথ্য ছাড়া কোনো ঘটনাকে খাবারের মানের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত না করার আহ্বান জানান রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ।
একইসঙ্গে স্থানীয় অনলাইন গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, সংবাদ প্রকাশের আগে পূর্ণাঙ্গ তথ্য যাচাই-বাছাই করা উচিত। কারণ গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতেও খাদ্যের মান ও স্বাস্থ্যবিধি বজায় রেখে সেবার মান অটুট রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।