মৌলভীবাজার জেলায় স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম ভরসাস্থল কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো চালু থাকলেও সরকারিভাবে বিনামূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ঔষধ প্রদানের কথা থাকলেও অধিকাংশ ক্লিনিকেই রোগীদের খালি হাতে ফিরে যেতে হচ্ছে। ফলে গ্রামীণ জনপদের সাধারণ মানুষের মঝে যেমন বাড়ছে বিভিন্ন রোগ তেমনি বাড়ছে হতাশা ও ক্ষোভ।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মৌলভীবাজার জেলায় ৭টি উপজেলাতে কমিউনিটি ক্লিনিকসহ মোট ১৮৪ টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো এখন ট্রাস্টের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে বিভিন্ন রোগের জন্য অন্তত ২৭ ধরনের ওষুধ সরবরাহ থাকার কথা। কিন্তু কয়েক মাস ধরে বেশির ভাগ ক্লিনিকে মাত্র কয়েক ধরনের দুই-তিন ধরনের ওষুধ ছাড়া আর কিছুই নেই। ওষুধ নেই, জনবল সংকট চরমে, আর দায়িত্বপ্রাপ্তদের অনিয়মিত উপস্থিতিতে মুখ থুবড়ে পড়েছে এই জনপদের কয়েক হাজার মানুষের একমাত্র চিকিৎসাস্থল। এতে গর্ভবতী নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠী এই সংকটে সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী। “সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত কমিউনিটি ক্লিনিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উপস্থিত থেকে সেবা প্রদান করার কথা। কিন্তু সময়মতো উপস্থিত না থাকা বা বিনা কারণে অনুপস্থিত থাকা নিয়মের পরিপন্থী এবং এতে সাধারণ রোগীরা সেবা থেকে বঞ্চিত হন।”
ভুক্তভোগী রোগীরা জানান, রোগীরা জানান, কমিউনিটি ক্লিনিকে গেলেও প্রয়োজনীয় ওষুধ পাওয়া যায় না। আট থেকে দশ দিন আগেও ক্লিনিকে এসেছে, কিন্তু কোনো মূল ওষুধ পাই নাই। আমরা চিকিৎসার জন্য কমিউনিটি ক্লিনিক আসি, কিন্তু ঠিকমতো ওষুধ পাই না। কোনো রোগের জন্য দুইটা ওষুধ দিলে একটা পাওয়া যায়, আরেকটা পাওয়া যায় না। আগে কিছু ওষুধপত্র পাওয়া গেলেও এখন সেটাও প্রায় বন্ধ।
মৌলভীবাজার সদর শ্যামেরকোনা কমিনিউটি ক্লিনিক সিএইচসিপি, কর্মরত জান্নাত আরা বেগম, বলেন, “বর্তমানে আমাদের হাসপাতালে ওষুধের তীব্র সংকট চলছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ থাকলে রোগীরা উপকৃত হতেন এবং সদর হাসপাতালের চাপও কিছুটা কমতো। কিন্তু ওষুধ না থাকায় রোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন, আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারও করছেন।
মৌলভীবাজার জেলা সিএইচসিপি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রুবেল আহমেদ বলেন, আমাদের দীর্ঘদিন ধরে দীর্ঘ দুই তিন মাস ধরেই ঔষধের সংকট চলছে কমিউনিটি ক্লিনিকে। আমরা বারবার কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেছি। আমাদের অফিস থেকেও ঢাকাতে যোগাযোগ করেছেন সম্প্রতি। আমাদেরকে বলা হচ্ছে যে দিয়ে দিবেন, দিয়ে দিবেন। এই অবস্থাই চলছে।
রাজনগর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “দীর্ঘদিন ধরেই আমরা দেখছি কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে পর্যাপ্ত ওষুধ না থাকায় চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমাণ ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে রোগীরা ভালো সেবা পাবে এবং এলাকাবাসী উপকৃত হবে।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজার জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমান বলেন, “কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো কমিউনিটি ক্লিনিক ট্রাস্ট নিয়ন্ত্রণ করে, এটি সরাসরি আমাদের অধীনে নয়। বাজেটগুলো সিএইচসিপিদের মাধ্যমে দেওয়া হয়, এজন্য আমাদের নিয়ন্ত্রণ করতে কিছুটা কষ্ট হয়। আমরা কমিউনিটি ক্লিনিক ট্রাস্টের সাথে কথা বলেছি, তারা দ্রুত ঔষধ সরবরাহের আশ্বাস দিয়েছে, কিন্তু এখনো সেটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি।”