• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৪ অপরাহ্ন
Headline
মৌলভীবাজারে শ্রীমঙ্গলে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে মৌলভীবাজারে চাঞ্চল্যকর শাবানা হত্যা মামলায় ৪ জনের ফাঁসির রায় কাঁঠালিয়ায় ৪০ গ্রাম গাঁজা ও ৫ পিস ইয়াবাসহ বৃদ্ধ গ্রেপ্তার লগি-বৈঠার নৃশংস হত্যার বিচারের দাবিতে নওগাঁর রাণীনগরে জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ মিছিল মোদি-আদানি নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র ঘিরে তোলপাড়, কী আছে তাতে প্রাথমিকে ৯৩, মাধ্যমিকের ৫৭ শতাংশ বই ছাপা শেষ, নভেম্বরে শতভাগ সরবরাহের লক্ষ্য ৪ বছরে ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষক কার্ড দেবে সরকার ইউপি নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনে প্রার্থিতা বাতিল, সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড জাপানে টয়োটার মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী ডিএফওর বিরুদ্ধে অর্থ ছাড় না দেওয়ার অভিযোগ, পাঁচ মাস ধরে ভাতা বন্ধ লাউয়াছড়ার কর্মীদের

উন্নয়নের ছোঁয়া মেলেনি বিলাশেড় পাড়ে, ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকোই একমাত্র ভরসা

মনজু বিজয় চৌধুরী, মৌলভীবাজার থেকে / ৪৪ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬

মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলের উপজেলার আশিদ্রোন ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বিলাশেড় পাড় গ্রামের মানুষের কাছে উন্নয়ন যেন এখনো অধরাই রয়ে গেছে। স্বাধীনতার বহু বছর পেরিয়ে গেলেও, বদলায়নি গ্রামের মানুষের দুর্ভোগের চিত্র। ৯০’র দশক থেকে একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের আশ্বাস মিললেও আজ পর্যন্ত বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। ফলে একটি জরাজীর্ণ বাঁশের সাঁকোই এখনো শতাধিক পরিবারের একমাত্র ভরসা। এই দুর্ভোগের সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দিক হলো, কোনো মৃত্যু ঘটলেও লাশ পর্যন্ত নৌকায় করে পারাপার করতে হয়।
জানা যায়, “১৯৯০ সাল থেকে একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের আশ্বাস পেলেও আজ পর্যন্ত বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। এই সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ, নারী ও সাধারণ মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করেন। কেউ অসুস্থ হলে কিংবা কোনো মরদেহ কবরস্থানে নিতে হলেও চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। সামান্য অসাবধানতায় পা পিছলে খালে পড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে মাঝেমধ্যে। পাহাড়ি ঢলে অতিরিক্ত পানির চাপে যখন বাঁশের সাঁকোটি ভেঙ্গে যায়। এলাকাবাসীদের নিয়ে আবারও বাশ দিয়ে মেরামত করেন। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করে দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ লাঘব করা হোক। অন্যথায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্বাচন এলেই জনপ্রতিনিধিদের প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি শুরু হয়। কিন্তু নির্বাচন শেষ হলে আর দেখা মেলে না কোনো উদ্যোগের। একাধিকবার আবেদন, মানববন্ধন ও দাবি তোলার পরও স্থায়ী সমাধান মেলেনি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, “১৯৯০ সাল থেকে ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি ব্রিজ হবে। সবাই প্রতিশ্রুতি দেয়, কিন্তু ব্রিজ আর হয় না।” “ব্রিজ না থাকার কারণে ধান নিতে অনেক কষ্ট হয়। “আমার বাবার বাড়ি বিলাশেড় পাড়ে, শ্বশুরবাড়িও এখানে। আমার মা অসুস্থ, তাকে দেখতে প্রায়ই আসতে হয়। ছোটবেলা থেকেই তারা এই দুর্ভোগ দেখে আসছেন। সরকারের কাছে একটি ব্রিজ চাই।”
বিলাশেড় পাড়ে স্থানীয় বাসিন্দা বাছিত মিয়া জানান, “কিছুদিন আগে লাশ নিতে অনেক কষ্ট হয়েছে। অন্য গ্রাম থেকে নৌকা ভাড়া করে আনতে হয়েছে। স্কুলের বাচ্চাদেরও অনেক সমস্যা হয়, অনেকেই পড়ে যায়।” “নদীর এইপারের মানুষ আমরা অনেক কষ্টে আছি।”
স্থানীয় বাসিন্দা হাজেরা বেগম এর স্বামী জানান, “আমার অসুস্থ শ্বশুরকে অনেকদিন হাসপাতালে নিতে পারিনি। তখন সাঁকোও ছিল না। পরে সাঁকো তৈরি হওয়ার পর হাসপাতালে নিলে ডাক্তার বলেছিলেন, আরও আগে আনলে ভালো হতো।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category