• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৩ পূর্বাহ্ন
Headline
নলডাঙ্গায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত, গুরুত্ব পেল জনসচেতনতা যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী মাহমুদুল আলমের উদ্যোগে প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইল চেয়ার, সেলাই মেশিন ও ক্রাচ বিতরণ সান্তাহার পৌর যুবদলের উদ্যোগে নানা আয়োজনে ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত দুই বছরের মধ্যে স্বাস্থ্যখাতে আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্য: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের ৫ অগ্রাধিকার খাতে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে: রাষ্ট্রপতি  বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে সুইজারল্যান্ডের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী  বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে আগ্রহী জাপান উন্নত বাংলাদেশ গড়তে প্রবাসী-দেশবাসীকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

গ্রাহকের বয়স ১০০ বছর হলেও পেনশনের সুযোগ দিচ্ছে মেটলাইফের ‘লাইফলাইন’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক / ৫৭ Time View
Update : সোমবার, ১১ মে, ২০২৬

মেটলাইফ

অবসরের পর কীভাবে চলবে জীবন—মধ্যবিত্ত ও চাকরিজীবীদের জন্য বরাবরই এটি বড় দুশ্চিন্তার বিষয়। সরকারি পেনশন সুবিধার বাইরে থাকা বিপুল জনগোষ্ঠীর মধ্যে তাই দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় ও পেনশনধর্মী বিমাপণ্যের চাহিদা বাড়ছে। ১৯৫৫ সাল থেকে এ অঞ্চলে কাজ করা মেটলাইফ বাংলাদেশের রয়েছে এ ধরনের বিমাপণ্য। ১০ থেকে ২০ বছর মেয়াদি এই বিমার নাম ‘লাইফলাইন।’

আজীবন এমনকি বয়স ১০০ বছর হলেও এই বিমা থেকে সুবিধা পাওয়া যায়। ১৮ থেকে ৫৫ বছর বয়সী যে কেউ ‘লাইফলাইন’ পণ্যের গ্রাহক হতে পারেন। পলিসি হতে পারে ১ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত। মাসিক, ত্রৈমাসিক, ষাণ্মাসিক ও বার্ষিক ভিত্তিতে প্রিমিয়াম দেওয়ার সুযোগ আছে। মোট জমা টাকার বিপরীতে ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ নেওয়া যায়।

‘লাইফলাইন’ মূলত অবসরভিত্তিক জীবনবিমা পণ্য। মেটলাইফ এ পণ্যের জন্য দুটি স্লোগান ঠিক করেছে। একটি হচ্ছে, ‘কর্মক্ষম খাতকেই করুন অবসরজীবনের পরিকল্পনা’, অন্যটি ‘অবসরজীবনেও সুখে থাকুন এখন যেমনটি আছেন।’

পলিসির মেয়াদ, গ্রাহকের বয়স ও কাঙ্ক্ষিত পেনশনের পরিমাণ অনুযায়ী প্রিমিয়াম নির্ধারণ হয়। এর সঙ্গে হাসপাতাল কেয়ার, ক্রিটিক্যাল কেয়ার, দুর্ঘটনা বিমা বা প্রিমিয়াম ছাড়ের মতো অতিরিক্ত সুবিধাও যুক্ত করা যায়। এসব সুবিধা যুক্ত হলে প্রিমিয়ামও বেড়ে যায়। যদিও বোনাস নিশ্চিত হয় কোম্পানির আর্থিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে।

দেশে সরকারি চাকরির বাইরে থাকা মানুষের সংখ্যাই বেশি। তাদের জন্য সরকার অবশ্য সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা প্রণয়ন করেছে। বেসরকারি আর্থিক খাতেও পেনশনের সুবিধা দিচ্ছে বিমা কোম্পানিগুলো। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বেসরকারি চাকরিজীবীদের বড় অংশের জন্য বাধ্যতামূলক পেনশন ব্যবস্থা নেই। ফলে মানুষকে নিজের আগ্রহেই এই ব্যবস্থা নিতে হয়।

তবে লাইফলাইনসহ দীর্ঘমেয়াদি বিমা পণ্য নিয়ে গ্রাহকদের মূল প্রশ্ন হলো, এ থেকে কত মুনাফা নিয়ে। অনেকেই পেনশন বা সামগ্রিকভাবে বিমাকে ব্যাংকের ডিপিএস বা এফডিআরের সঙ্গে তুলনা করেন। কিন্তু বিমার সঙ্গে ডিপিএস ও এফডিআরের মূল পার্থক্য হলো, উভয়ের উদ্দেশ্য এক নয়। বিমার উদ্দেশ্য হলো ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দেওয়া, ফলে বিমার মুনাফা ও ডিপিএস/এফডিআরের মুনাফা আলাদা।

কিছু গ্রাহকের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় প্রিমিয়াম দেওয়ার পর প্রত্যাশিত পরিমাণ অর্থ পাওয়া যায় না। আবার কেউ কেউ দাবি করেন, বোনাস ও সম্ভাব্য মুনাফা সম্পর্কে শুরুতে পরিষ্কার ধারণা দেওয়া হয় না। কেউ আবার দ্রুত দাবি নিষ্পত্তি ও সেবার প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ বিলম্ব, কাগজপত্রের জটিলতা বা কম রিটার্ন নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন।

আরেকটি বড় বিষয় হলো, দীর্ঘমেয়াদি দায়। এ ধরনের পলিসিতে অনেক বছর ধরে নিয়মিত প্রিমিয়াম দিয়ে যেতে হয়। বিমার নিয়ম অনুযায়ী মাঝপথে পলিসি বন্ধ করলে আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি থাকে। ফলে আয় অনিশ্চিত—এমন ব্যক্তিদের পক্ষে দীর্ঘ সময় বিমা চালিয়ে যাওয়া কঠিন। সেই সঙ্গে আছে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, এই বিষয়টিও চিন্তার। তা সত্ত্বেও সব দিক বিবেচনা করে বলা যায়, অপ্রত্যাশিত ঘটনা বা ঝুঁকি থেকে ব্যক্তির সুরক্ষায় বিমার প্রয়োজনীয়তা আছে। বিমাকে মুনাফার সাপেক্ষে বিবেচনা না করে ঝুঁকি সুরক্ষার সাপেক্ষে বিবেচনা করলে অনেক বিভ্রান্তি থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।

সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কী করবেন

এ ধরনের পলিসি নেওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় স্পষ্টভাবে বুঝে নেওয়া জরুরি। প্রথমত, মোট কত বছর প্রিমিয়াম দিতে হবে এবং পুরো সময়ে তা চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা আছে কি না। দ্বিতীয়ত, নিশ্চিত মুনাফা কত।

এ ছাড়া পলিসি ভাঙলে কত টাকা ফেরত পাওয়া যাবে, মৃত্যু–সুবিধা কত, সুবিধা বেশি চাইলে বাড়তি প্রিমিয়াম কত ও মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় বাস্তব রিটার্ন কত হতে পারে—এসব বিষয়ও যাচাই করা প্রয়োজন।

শুধু এজেন্টের কথার ওপর নির্ভর না করে প্রাসঙ্গিক কাগজপত্র পড়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে বিকল্প বিনিয়োগ—যেমন সঞ্চয়পত্র, মিউচুয়াল ফান্ড, পেনশন স্কিম বা ব্যাংক আমানতের সঙ্গে তুলনাও গুরুত্বপূর্ণ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category