“প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে স্লোগান এক, বাস্তবতা ভিন্ন” মৌলভীবাজার জেলার উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল এর থেকে গবাদি পশুর জন্য বিনামূল্যে সরকারি ওষুধ না পাওয়ার অভিযোগ সাধারণ মানুষ জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এদিকে হাসপাতালের ভেতরে সাংবাদিক দেখে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা পালিয়ে যান। সরকারি হাসপাতালের পরিবেশে এ ধরনের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। “সরকারি হাসপাতালে যদি ওষুধ না থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হওয়া দরকার।”
সরিজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মৌলভীবাজার জেলা উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের দেয়ালে লেখা রয়েছে “দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারুণ্যের একতা: গড়বে আগামীর শুদ্ধতা”। তবে বাস্তব চিত্র যেন ঠিক উল্টো; সেখানে দুর্নীতি ও অনিয়মের যেন শেষ নেই।
মৌলভীবাজার জেলার উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল এর প্রয়োজনীয় ওষুধ না থাকায় গবাদি পশু ও পোষা প্রাণীর চিকিৎসা না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। হাসপাতালে আসা একাধিক সেবাগ্রহীতার অভিযোগ, চিকিৎসকরা ইনজেকশন ও বিভিন্ন ওষুধ লিখে দিলেও সেগুলো হাসপাতালের স্টোরে পাওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে বাইরে ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে। এদিকে হাসপাতালের ভেতরে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের উপস্থিতিও দেখা যায় বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকারি হাসপাতালের পরিবেশে এ ধরনের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। “সরকারি হাসপাতালে যদি ওষুধ না থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হওয়া দরকার।”
সাধারণ মানুষ চিকিৎসা নিতে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান,আমরা গরু-ছাগল অসুস্থ হলে সরকারি পুশু হাসপাতালে আসি।, হাসপাতালে চিকিৎসা পেলেও প্রয়োজনীয় ওষুধ মিলছে না। ফলে বাইরে থেকে অতিরিক্ত খরচে ওষুধ কিনতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।সরকারি হাসপাতালে এসেও সরকারি ওষুধ না পেয়ে হতাশ হয়েছেন তারা। আমরা বুঝতে পারি কোথাও না কোথাও অনিয়ম হচ্ছে।

এক খামারি জানান, গরুর চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসার পর দুইটি ইনজেকশন দেওয়া হলেও বাকি ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হয়েছে। তার দাবি, সরকারি হাসপাতালে এসেও সরকারি ওষুধ না পেয়ে হতাশ হয়েছেন তারা।
আরেক ভুক্তভোগী বলেন, কয়েকবার হাসপাতালে আসলেও একটি ওষুধও পাননি। চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন নিয়ে বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হয়েছে। হাসপাতালে ফার্মেসি থাকলেও প্রয়োজনীয় ওষুধ না থাকায় বাড়ছে দুর্ভোগ।
খামারিদের অভিযোগ, লাম্পি স্কিন রোগের উপসর্গ নিয়ে গরু হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসক রোগ শনাক্ত করে ইনজেকশন দেন এবং ৬ থেকে ১৪ দিনের ওষুধ লিখে দেন।
এদিকে হাসপাতালের ভেতরে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা দ্রুত সেখান থেকে সরে যান।
তবে এ বিষয়ে ভেটেরিনারি হাসপাতালের কম্পাউন্ডার সুশিপ্তা দাশ জানান, হাসপাতালে থাকা ওষুধ ও ইনজেকশন দিয়েই সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে কোনো ওষুধ মজুত না থাকলে বাধ্য হয়েই বাইরে থেকে কিনতে পরামর্শ দেওয়া হয়। এদিকে হাসপাতালে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা আছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর কর্মকর্তা ডাঃ রমা পদ দে জানান, হাসপাতালে যেসব ওষুধ সংগ্রহ থাকে সেগুলো হাসপাতালের ভেটেরিনারি সার্জন, কম্পাউন্ডার রয়েছে, স্টক রেজিস্টার মেইনটেইন করা হয়। সরকারি ভাবে যেসব ওষুধ হাসপাতালে আসে সেগুলোই রোগাক্রান্ত প্রাণীর চিকিৎসায় বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ডাঃ মোঃ আশরাফুল আলম খান, বলেন, বলছে, বছরে একবার জেলায় ওষুধ সরবরাহ আসে এবং মজুত থাকা ওষুধ নিয়মিত রোগীদের দেওয়া হচ্ছে। কোনো নির্দিষ্ট আইটেম না থাকলে রোগীর প্রয়োজন অনুযায়ী বাইরে থেকে কিনতে হয়। এছাড়া হাসপাতালে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা প্রেসক্রিপশন পর্যবেক্ষণ করছেন এমন অভিযোগের বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।