ক্রুড অয়েল বা অপরিশোধিত তেলের তীব্র সংকটে টানা ২৩ দিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে পুনরায় সচল হয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় পর্যাপ্ত কাঁচামাল না থাকায় গত ১৪ এপ্রিল ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এরপর আলোচিত হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সৌদির ইয়ানবু বন্দর থেকে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে আসা চীনা জাহাজ ‘এমটি নাইমনিয়া’ গত বুধবার চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়।
ইস্টার্ন রিফাইনারির সক্ষমতা অনুযায়ী প্রতিদিন দুটি ইউনিটে ১৩ ধরনের প্রায় ৪ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি উৎপাদন করা সম্ভব। বর্তমানে আসা ১ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল পরিশোধন করলে ২৬ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল, ২৪ হাজার মেট্রিক টন ফার্নেস অয়েল, ১৬ হাজার মেট্রিক টন পেট্রোল, ২১ হাজার মেট্রিক টন কেরোসিন এবং ৮ হাজার মেট্রিক টন অকটেন পাওয়া যাবে।
এই পরিমাণ কাঁচামাল দিয়ে শোধনাগারটি প্রায় ২৫ দিন সচল রাখা যাবে। তবে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগামী ২০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যে তেলের নতুন চালান দেশে আনা জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
জ্বালানি সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে চলতি মাসেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দর থেকে আরও এক লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল কেনার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছে। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক জানিয়েছেন, ফুজাইরা বন্দরটি পারস্য উপসাগর বা গালফের বাইরে হওয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এর সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা নেই।
জাহাজটি ১০ মে রওনা দিয়ে ২৫ মে’র মধ্যে চট্টগ্রাম পৌঁছানোর কথা রয়েছে। দেশের সামগ্রিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে মাসে অন্তত ৪ লাখ টন তেল সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বিএসসি। বর্তমানে ইআরএল-এ মোট ২ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল মজুত রাখার সক্ষমতা রয়েছে।







