“দিনাজপুরে এক টুকরো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়”এই অনুভূতিকে ধারণ করে উৎসবমুখর পরিবেশে দিনাজপুরে উদযাপিত হয়েছে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে দিনটি পরিণত হয় স্মৃতিচারণ, মিলনমেলা ও গৌরব উদযাপনের এক অনন্য আয়োজনে।
শনিবার (৪ জুলাই) বিকেল ৫ টায় দিনাজপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মাঠ প্রাঙ্গণে ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন দিনাজপুর(ডুয়াড) এর উদ্যোগে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদ্বোধন করা হয়। পরে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে দিনাজপুর ইনস্টিটিউট মাঠে এসে শেষ হয়। সেখানে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা, কেক কাটা এবং মিলনমেলা।
আলোচনা সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও দিনাজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোফাজ্জল হোসেন দুলাল বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয় এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, ভাষা আন্দোলন ও সামাজিক পরিবর্তনের সূতিকাগার। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থী দেশের উন্নয়ন ও মানবকল্যাণে অবদান রাখার অঙ্গীকার নিয়ে এগিয়ে যাবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন দিনাজপুর সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. বোরহান উদ্দিন, সংগঠনের সভাপতি মো. মেহেরুল্লাহ বাদল, সাধারণ সম্পাদক মো. শরিফুল ইসলাম এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও দিনাজপুর জিলা স্কুলের সহকারী শিক্ষক মো. শাহজাহান সাজু।
বক্তারা বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫ বছরের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস জাতির আত্মপরিচয় ও প্রগতির ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ভাষা আন্দোলন থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধ, গণতান্ত্রিক আন্দোলন থেকে রাষ্ট্র গঠনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অবদান চিরস্মরণীয়। সেই ঐতিহ্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে ধারণ করে নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম, মানবিকতা ও নেতৃত্বের আদর্শে গড়ে তুলতে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।
রাজধানীর বাইরে বসবাস করলেও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি ভালোবাসা অটুট রয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে এবং সমাজ ও দেশের কল্যাণে সম্মিলিত উদ্যোগ জোরদার হবে। পরে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটা, শুভেচ্ছা বিনিময় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।