(৬ দফা দাবি দাবিতে)
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য-শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ ও চিকিৎসকদের উপর আরোপিত বৈষম্য নিরশণ এবং ছয় দফা দাবিতে নওগাঁয় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (০৭ জুন) বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে ২৫০ শয্যা নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালের সামনে নওগাঁ মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন চিকিৎসক এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচি পালন করেন।
এ সময় চিকিৎসক এবং শিক্ষার্থীরা, এফসিপিএস ট্রেইনিং সংক্রান্ত স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ কর্তৃক ১৯ মে ২০২৬ তারিখে গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বাতিল করে নতুন নির্দেশনা জারি, বিসিএস স্বাস্থ্যে চাকরি প্রবেশের বয়সসীমা ৩৪ বছর, স্বাস্থ্যকর্মী নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন করতে হবে এবং এর আওতায় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান। এছাড়াও দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতি ঘোষণা করেন। ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেন নওগাঁ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা।
মানববন্ধনে নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. নাদিয়া বিনতে কাজল, ডা. হাসিবুল হাসান রাকিব, ডা. বারিউল হায়দার, ডা. মারুফ বিল্লাহ, নওগাঁ মেডিকেল কলেজের পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থী আনিসুর রহমানসহ অন্যরা বক্তব্য রাখেন।
নওগাঁ মেডিকেল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাবিত বিন আলম বলেন, যদি সেই সিদ্ধান্তগুলো যথাযথভাবে বাতিল না করা হয় তাহলে আমাদেরকেউ একদিন এগুলো ভোগ করতে হবে। মাথায় ভরণপোষণের চিন্তা থাকলে রোগীকে সঠিক সেবা দেওয়া সম্ভব না? আমার মানসিকতা ঠিক করে তাকে কি মানবিক সেবা দেওয়া সম্ভব? সম্ভব না। এই মানবিক সেবাটা দিতে ব্যর্থ হওয়ার পিছনে এই দায়টা সিস্টেমের।তাই এই সিস্টেমকে পরিবর্তন করে প্রোপার সিস্টেম বাস্তবায়ন করার জোর দাবি জানাচ্ছি। যা
নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. নাদিয়া বিনতে কাজল বলেন, স্বাস্থ্য শিক্ষা পরিবার বিভাগ থেকে আমাদের ওপর যেনিয়ম গুলো চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে একজন চিকিৎসক হিসেবে আমাদেরকে সেটি হতাশ করছে। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য সেবায় ইন্টার্ন চিকিৎসকরাই কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন। ২৪ ঘন্টা বিরামহীন ভাবে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা রোগীদেরকে সেবা দিয়ে থাকেন। আমাদেরকে সরকারের পক্ষ থেকে ভাতা দেওয়ার ক্ষেত্রে যদি কার্পণ্য করা হয় এবং কর্ম ক্ষেত্রে আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা হয় তাহলে রোগীদেরকে সেবা দেওয়া আমাদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়বে। তাই সরকারের প্রতি অনুরোধ আমাদের ছয় দফা দাবি যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে মেনে নেওয়া হয়।
ডা. হাসিবুল হাসান রাকিব বলেন, আমরা সারাদেশের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমাদের ছয় দফা কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত আমরা কর্মবিরতি পালন করব। আমাদের সুরক্ষা এবং রোগীদের সঠিক স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতের জন্য এই ছয় দফা দাবি মেনে নেওয়া প্রয়োজন। একজন চিকিৎসক নিজের ভরণপোষণ এবং আর্থসামাজিক সুরক্ষায় সুরক্ষিত না হতে পারে, তাহলে তার পক্ষে কখনো ভালো সেবা দেওয়া সম্ভব না। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।

প্রসঙ্গত, চিকিৎসক এবং শিক্ষার্থীদের ৬ দাফি দাবীসমূহ হলো –
এফসিপিএস ট্রেইনিং সংক্রান্ত স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ কর্তৃক ১৯ মে ২০২৬ তারিখে গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বাতিল করে নতুন নির্দেশনা জারি করতে হবে। বিসিএস স্বাস্থ্যে চাকরি প্রবেশের বয়সসীমা ৩৪ বছর করতে হবে। স্বাস্থ্যকর্মী নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন করতে হবে এবং এর আওতায় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। সুনির্দিষ্ট বেতন কাঠামোর আওতায় ইন্টার্ন ডাক্তারদের বেতন ৩০ হাজার, বেসরকারি ট্রেইনি চিকিৎসকগণের বেতন ৫০ হাজারে উন্নীত করতে হবে এবং বেসরকারি ডাক্তারদের সুনির্দিষ্ট বেতন কাঠামো প্রণয়ন করতে হবে (সদ্য প্রস্তাবিত পে-স্কেলের অনুরূপ কাঠামো মেনে)। বিএমডিসি ২০২৫ অধ্যাদেশের খসড়া আইনে রূপান্তর করে এই আইন অনুযায়ী বিএমডিসি বহির্ভূত সকল অবৈধ ডাক্তার পরিচয়দানকারীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। বিসিপিএস এবং বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ভর্তি পরীক্ষায় ভর্তি ফি ১০০০ টাকার বেশি করা যাবে না।