• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৯ অপরাহ্ন
Headline
ঠাকুরগাঁও-১ উপ-নির্বাচন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীনের ভূমিধস জয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠক  ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের দাম অপরিবর্তিত থাকছে নোয়াখালীতে অস্ত্র তৈরির কারিগর গ্রেপ্তার, বন্দুক ও সরঞ্জাম উদ্ধার যুবদল আপনাদের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, ভাই: বিএনপি নেতাদের সহযোগিতার আহ্বান মুন্নার টয়োটার প্রথম প্রাইভেট কারে উঠলেন প্রধানমন্ত্রী মদিনার যে স্থানে নবী কারিম (সা.) তিনটি দোয়া করেছিলেন সৌদি আরবে প্রবাসী শ্রমিকদের ওপর বর্বর নির্যাতন, মৃত্যুদন্ড ও শিরশ্ছেদ বন্ধ করুন শ্রমিক বিক্ষোভ সমাবেশে সাইফুল হক উৎসবমুখর পরিবেশে ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন  ৫৫ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, দুদকের মামলায় সাবেক চেয়ারম্যানসহ ১০ জন

বন্ধ শিল্প চালু করতে তহবিল গঠন ২০ হাজার কোটি টাকার

বর্তমান বাংলাদেশ অর্থনীতি ডেস্ক / ৮৩ Time View
Update : শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬

দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি বৈচিত্র্যের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে বেসরকারি খাতকে গতিশীল করা জরুরি। তাই বন্ধ শিল্প ও সেবা প্রতিষ্ঠান পুনরুজ্জীবনে ২০ হাজার কোটি টাকার একটি প্রাক-অর্থায়ন স্কিম গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মন্থর অর্থনীতিকে গতিশীল করা এবং বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

‘বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত সহায়ক প্রাক-অর্থায়ন স্কিম’ নামে এ তহবিলের আওতায় আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ; কিন্তু পুনরায় চালু করা সম্ভব এমন শিল্প ও সেবা প্রতিষ্ঠানকে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল সহায়তা দেওয়া হবে। বিশেষ করে রপ্তানিমুখী খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

২০ হাজার কোটি টাকার এই তহবিল গঠন করা হয়েছে তফসিলি ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্য থেকে।

বাংলাদেশ ব্যাংক স্বল্প সুদে এই অর্থ ব্যাংকগুলোকে ঋণ হিসেবে দেবে এবং ব্যাংকগুলো যাচাই-বাছাই করে যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল হিসেবে ঋণ দেবে।
বাংলাদেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংক এই স্কিমে অংশ নিতে পারবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-৩-এর সঙ্গে অংশগ্রহণ চুক্তি করতে হবে। স্কিমটি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে পরিচালিত হবে এবং এর মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে তিন বছর।

ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে বৃহৎ শিল্প ও সেবা খাতের আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ প্রতিষ্ঠান কিংবা সচল থাকলেও ওয়ার্কিং ক্যাপিটালের অভাবে পূর্ণ উৎপাদনে যেতে পারছে না—এমন প্রতিষ্ঠানগুলো যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে। রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এ ছাড়া দক্ষ ব্যবস্থাপনা থাকলে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান বন্ধ শিল্প অধিগ্রহণ করে চালু করলেও তারা এ সুবিধা পেতে পারে। ঋণ দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন সক্ষমতা, বন্ধ হওয়ার কারণ, বাজার পরিস্থিতি এবং ঋণ পরিশোধ সক্ষমতা বিস্তারিতভাবে যাচাই করতে হবে। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করে প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে হবে।

বাণিজ্য সংগঠনের প্রত্যয়নপত্র থাকলে তা বিবেচনায় নেওয়া হবে, তবে না থাকলেও ব্যাংক নিজস্ব যাচাইয়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।

খেলাপি ঋণগ্রহীতা, অর্থপাচার বা জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠান এই স্কিমের আওতায় ঋণ পাবে না। একই সঙ্গে অন্য কোনো পুনরর্থায়ন স্কিম থেকে সুবিধা নেওয়া প্রতিষ্ঠানকে নতুন ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। এই তহবিলের অর্থ শ্রমিকদের বেতন-ভাতা, বিদ্যুৎ-গ্যাস বিল, কাঁচামাল সংগ্রহ, উৎপাদন ব্যয় ও রপ্তানি অর্ডার বাস্তবায়নে ব্যবহার করা যাবে। বেতন বাবদ সর্বোচ্চ চার মাসের অর্থ দেওয়া যাবে এবং তা সরাসরি শ্রমিকদের ব্যাংক হিসাবে জমা দিতে হবে। কোনো নগদ লেনদেন করা যাবে না।

ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানকে নিজ ব্যাংকের মাধ্যমেই এই ঋণ নিতে হবে এবং নির্ধারিত হিসাবের মাধ্যমে সব লেনদেন পরিচালনা করতে হবে। বিদ্যমান কোনো ঋণ সমন্বয়ের জন্য এই অর্থ ব্যবহার করা যাবে না। ঋণের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে ব্যাংক প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদে প্রতিনিধি নিয়োগ করতে পারবে।

একক কোনো প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপ সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবে। প্রতিটি ঋণের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ এক বছর। তবে সন্তোষজনক পারফরম্যান্স থাকলে তা নবায়নযোগ্য।

ব্যাংক পর্যায়ে সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ। প্রথম ছয় মাস গ্রেস পিরিয়ড থাকবে, এরপর সুদ আদায় শুরু হবে।

ঋণ অনুমোদনের পর ব্যাংকগুলোকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে প্রাক-অর্থায়নের জন্য আবেদন করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক যাচাই-বাছাই করে অর্থ ছাড় করবে।

ঋণ বিতরণ ও আদায় কার্যক্রমে কঠোর তদারকি থাকবে। ব্যাংকগুলোকে নিয়মিত প্রতিবেদন দিতে হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সরেজমিনে পরিদর্শন করা হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণ পরিশোধ না হলে অতিরিক্ত সুদ আরোপ করা হবে এবং প্রয়োজন হলে ব্যাংকের হিসাব থেকে অর্থ সমন্বয় করা হবে।

ঋণের ঝুঁকি সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ওপর বর্তাবে এবং গ্রাহক পর্যায়ে ঋণ আদায়ের দায়ও ব্যাংকের। ঋণের অপব্যবহার বা অনিয়ম প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ছাড়া ইসলামী শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলো নিজস্ব বিনিয়োগ পদ্ধতিতে এই স্কিম বাস্তবায়ন করতে পারবে। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজন অনুযায়ী স্কিমের শর্তাবলি পরিবর্তন বা সংশোধনের ক্ষমতা সংরক্ষণ করেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category