লিভার রোগ প্রতিরোধে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থান ও কর্মপরিকল্পনা বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। বিশ্বব্যাপী লিভার রোগের প্রাদুর্ভাব, বিশেষ করে ফ্যাটি লিভার প্রতিরোধে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারণী সম্মেলনের অন্যতম প্যানেলিস্ট হিসেবে তিনি অংশ নেন।
শুক্রবার (২২ মে) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় চলমান ৭৯তম বিশ্ব স্বাস্থ্য সমাবেশের (ডব্লিউএইচএ ৭৯) সাইডলাইনে বিশ্বব্যাপী লিভার রোগের প্রাদুর্ভাব, বিশেষ করে স্টিয়াটোটিক লিভার ডিজিজ (এসএলডি বা ফ্যাটি লিভার) প্রতিরোধে এই উচ্চপর্যায়ের আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারণী সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ‘গ্লোবাল লিভার ইনস্টিটিউট’ বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনের এই সাইডলাইন সভার আয়োজন করে।
সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য খাতের শীর্ষ ব্যক্তিরা একমত হন যে, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার পরিবর্তন, সময়মতো রোগ শনাক্তকরণ এবং সাশ্রয়ী চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও যৌথ অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।
তিনি আরও বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে ফ্যাটি লিভার ও অন্যান্য লিভারজনিত রোগ প্রতিরোধে যুগোপযোগী ডিজিটাল স্ক্রিনিং ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির সমন্বিত কর্মসূচি গ্রহণ করা প্রয়োজন।
উচ্চপর্যায়ের এই বৈশ্বিক সংলাপে বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও শীর্ষ প্রতিনিধিরা অংশ নেন। প্যানেলে ড. মুহিতের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সৈয়দ মুস্তফা কামাল, নাইজেরিয়ার স্বাস্থ্য ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক মুহাম্মদ আলী পাতে, রাশিয়ার স্বাস্থ্য উপমন্ত্রী ড. ওলেগ সালাগে, কুয়েতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আন্ডার সেক্রেটারি শেখ ড. সালমান খলিফা আবদুল্লাহ আল সাবাহ এবং কাতারের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ বিভাগের প্রধান শেখ ড. মোহাম্মদ বিন হামাদ আল থানি।
এছাড়া চীনের ন্যাশনাল হেলথ কমিশনের প্রতিনিধি লেই হাইচাও সেশনে তাদের কৌশলগত অবস্থান তুলে ধরেন।
সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ইউরোপীয় অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক ড. হ্যান্স হেনরি পি. ক্লুগে, মিসরের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. খালেদ আবদেল গাফফার এবং গ্লোবাল লিভার ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী ল্যারি আর হোল্ডেন।