শিল্পকারখানায় নিরাপত্তা, শ্রম আইন বাস্তবায়ন ও তদারকি কার্যক্রম আরো কার্যকর করতে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর-ডিআইএফই’র শীর্ষ পর্যায়ে রদবদল করেছে সরকার। নতুন মহাপরিদর্শক নিয়োগের পাশাপাশি ঢাকা ও চট্টগ্রাম কার্যালয়ের শীর্ষ পদেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।
সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক ফরহাদ সিদ্দিক ডিআইএফইর নতুন মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছেন। একই সঙ্গে বর্তমান মহাপরিদর্শক ওমর ইমরুল মহসিনকে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে।
অন্যদিকে ঢাকা কার্যালয়ের উপমহাপরিদর্শক আতিকুর রহমানকে চট্টগ্রামে এবং চট্টগ্রামের উপমহাপরিদর্শক মোহাম্মদ মাহবুবুল হাসানকে ঢাকায় পদায়ন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে সমন্বয় ও তদারকি জোরদার করতেই এই প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি শিল্পকারখানার নিরাপত্তা, শ্রম আইন বাস্তবায়ন এবং পরিদর্শন কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রশাসনিক পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর নির্দেশনায় মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে তদারকি বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
নিয়োগ পরীক্ষার খাতা জালিয়াতি ও কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে ডিআইএফইর সদ্য সাবেক মহাপরিদর্শক ওমর ইমরুল মহসিনের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে একাধিক প্রকাশিত হয়। মহাপরিদর্শক ওমর ইমরুল মহসিনের দুর্নীতির সাম্রাজ্য পরিচালনায় প্রধান ভূমিকা পালন করেছেন তার স্ত্রী মুনা চৌধুরী এবং মাহবুব নামক এক রহস্যময় ব্যক্তি। মুনা চৌধুরী নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের পদধারী নেত্রী।
এদিকে, কেরানীগঞ্জে একটি গ্যাস লাইটার কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ছয় শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় ডিআইএফইর ঢাকা কার্যালয় থেকে চট্টগ্রামে ০৭ মে ২০২৬ বদলি হওয়া উপমহাপরিদর্শক আতিকুর রহমানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। গত ১৬ এপ্রিল মন্ত্রণালয়ের সংস্থাপন-১ শাখা থেকে এ নোটিশ জারি করা হয়।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, গত ৪ এপ্রিল কেরানীগঞ্জ উপজেলার আগানগরে অবস্থিত “এম/এস ইএসএআর গ্যাসজ প্রো” নামের একটি গ্যাস লাইটার প্রস্তুত ও ফিলিং কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ছয় শ্রমিক নিহত ও তিনজন গুরুতর আহত হন। ঘটনার পর গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এটিকে প্রতিরোধযোগ্য শিল্প দুর্ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে তদারকির ঘাটতি ও অব্যবস্থাপনার বিষয়ও উঠে আসে।
শোকজ নোটিশে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট কারখানায় যথাযথ পরিদর্শন ও তদারকি কার্যক্রম পরিচালনায় দায়িত্বে অবহেলার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে আতিকুর রহমানকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। এছাড়া তার দায়িত্বাধীন এলাকায় সংঘটিত দুটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় চারজন শ্রম পরিদর্শককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, এসব ঘটনার পর তার দাপ্তরিক তদারকি ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠে।