• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫০ পূর্বাহ্ন
Headline
নলডাঙ্গায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত, গুরুত্ব পেল জনসচেতনতা যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী মাহমুদুল আলমের উদ্যোগে প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইল চেয়ার, সেলাই মেশিন ও ক্রাচ বিতরণ সান্তাহার পৌর যুবদলের উদ্যোগে নানা আয়োজনে ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত দুই বছরের মধ্যে স্বাস্থ্যখাতে আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্য: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের ৫ অগ্রাধিকার খাতে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে: রাষ্ট্রপতি  বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে সুইজারল্যান্ডের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী  বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে আগ্রহী জাপান উন্নত বাংলাদেশ গড়তে প্রবাসী-দেশবাসীকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

শিশু হাবিবকে হত্যা করে মাদকাসক্ত বাবা, কথা বলতে পারছে না মা

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১০৩ Time View
Update : শনিবার, ৯ মে, ২০২৬

তিন বছর বয়সি ছেলে ঘুমিয়েছিল। সন্তানকে স্বামীর কাছে রেখে নিজের জন্য ওষুধ আনতে ফার্মেসিতে গিয়েছিলেন মা শিল্পী খাতুন। কিছুক্ষণ পরে ফিরে এসে পান ছেলে হাবিবের মরদেহ।

গত ২৭ এপ্রিল ঢাকার বেরাইদ থেকে শিশু হাবিবের মরদেহ উদ্ধার করার পাশাপাশি তার বাবা শাহিনকে আটক করে। এ ঘটনায় পরদিন বাড্ডা থানায় হত্যা মামলা করেন শিল্পীর খালা বালিকা বেগম। এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে শাহিনকে আদালতে হাজির করা হয়।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, বেরাইদ এলাকায় দুই ছেলেকে নিয়ে ভাড়া থাকতেন শাহিন ও শিল্পী। ২৭ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯ টার দিকে শিল্পী ওষুধ কিনতে বাইরে যায়। শিল্পী বাসা থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর শাহিন দরজা বন্ধ করে রুমে ছেলে হাবিবকে গলাটিপে হত্যা করে।

ওষুধ কিনে বাসায় ফিরে শিল্পী বাসার দরজা ধাক্কাধাক্কি করে। অনেক সময় ধাক্কাধাক্কির পর শাহিন দরজা খুলে দেয়। ঘরে ঢুকে শিল্পী তার ছেলে হাবিবকে মেঝেতে মৃত অবস্থায় পায়।

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই কামাল হোসেন জানিয়েছেন, শাহিন হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা, বাড্ডা থানার এসআই জামাল হোসেন বলেন, দাম্পত্য কলহের কারণে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া আসামি শাহিন মাদকাসক্ত ছিল। মায়ের সাথে আসামি দেখা করতে যাবে, এজন্য তার স্ত্রীর কাছে টাকা চায়। কিন্তু তার স্ত্রী তাকে টাকা দেয়নি। এটা নিয়ে তাদের মাঝে ঝগড়া হয়।

পুলিশ কর্মকর্তা জামাল বলেন, শিশুটিকে তার মা ঘুমিয়ে রেখে বাইরে ওষুধ আনতে যায়। আসামি ভেতর দিয়ে রুমের ছিটকিনি লাগিয়ে দেয়। পরে বাচ্চাকে গলা টিপে হত্যা করে।

নিহতের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা।

মামলার বাদী মোছা. বালিকা বেগম বলেন, শাহিন নেশা করতো, আমার ভাগ্নিটাকে অত্যাচার করতো। অত্যাচার করতে করতে বাচ্চাটাকে খুন করলো। আগের দিনও টাকা নেয়। পরদিন আবার টাকা চায়। টাকা না দেয়ায় নিজের ছেলেটাকে খুন করল।

গাইবান্ধার সাঘাটার হাসিলকান্দি গ্রামের শাহিন জীবিকার তাগিদে ঢাকায় আসে জানিয়ে বালিকা বেগম বলেন, কর্ম করতে ঢাকায় আসে। কর্ম করতে গিয়ে নেশায় ডুবে যায়। শিল্পী অসুস্থ, ঘাড় ব্যথা। আর ও একটু পান খায়। ২৭ এপ্রিল শিল্পী ওষুধ আনতে যায়। সাথে করে নিয়ে যায় পাঁচ বছরের বড় ছেলেকে। হাবিব ঘুমিয়ে ছিল। এজন্য তাকে তার বাবার কাছে রেখে যায়।

বাদী বালিকা বলেন, শিল্পী বাসায় ফিরে এসে দরজা পেটায়। অনেক পেটানোর পরও দরজা খোলে না। মানুষজন জড়ো হতে থাকে। পরে শাহিন দরজা খুলে দেয়। শিল্পী রুমে ডুবে হাবিবকে মৃত অবস্থায় পায়। ছেলেকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে শাহিন।

বালিকা বেগম বলেন, এ দৃশ্য দেখে শিল্পী জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। মানসিকভাবে অনেক অসুস্থ হয়ে পড়ে। এরপর থেকে সে আর কথা বলতে পারছে না। সেভাবে জ্ঞানও ফেরেনি। ওকে ওর মায়ের কাছে রেখে আসছি। সেখানে ওর চিকিৎসা চলছে।

মানসিকভাবে অসুস্থ থাকায় শিল্পীর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category