• বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০১:১৪ অপরাহ্ন
Headline
ঝিনাইদহে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে টায়ারে আগুন, ছাত্রলীগ কর্মী আটক নির্বাচনে ভরাডুবির জন্য ইরানকে দায়ী করলেন ট্রাম্প নির্বাচনে হেরে ট্রাম্প বললেন, আমি কাউকে দোষ দিতে চাই না হেমায়েতপুরে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ, মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ ট্রাম্পকে ছুড়ে ফেলে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটিতে ডেমোক্র্যাটদের জয় নিরাপদ সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহারে জোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাভার-আশুলিয়ায় কারখানা ভাঙচুরের ঘটনায় তিন মামলা, গ্রেফতার ১১ মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদে এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা কাজ না করেই হরিলুট, দুদকের তদন্তে গোমর ফাঁস জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবরে চীনা মন্ত্রীর শ্রদ্ধা

কাজ না করেই হরিলুট, দুদকের তদন্তে গোমর ফাঁস

দুমকি (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি / ৬ Time View
Update : বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬

অনিয়ম তদন্তে দুদক
পটুয়াখালীর দুমকিতে কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) এবং টিআর (টেস্ট রিলিফ) প্রকল্পের আওতায় ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে উঠেছে নজিরবিহীন দুর্নীতির অভিযোগ। নামমাত্র কাজ বা সম্পূর্ণ অস্তিত্বহীন প্রকল্প দেখিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর ও সুনির্দিষ্ট তথ্য উদ্ঘাটন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই ভয়াবহ দুর্নীতির সত্যতা নিশ্চিত করেছে দুদক।
তদন্তে জানা যায়, উপজেলা পরিষদের গাড়ি ধৌত করার র‌্যাম্পের সামনের স্থানে মাটি ভরাট ও ইট সোলিংকরণের কথা বলা হলেও বাস্তবে সেখানে কোনো মাটিই ফেলা হয়নি। কেবল নামমাত্র ৮২৫টি ইট ব্যবহার দেখিয়ে ২ লাখ ৩শ ৭৪ টাকা (বরাদ্দকৃত ২ লাখ টাকা) আত্মসাৎ করা হয়েছে। একইভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনের ফুলবাগান এবং পরিষদের মাঠে মাটি ভরাটের কোনো অস্তিত্বই খুঁজে পায়নি দুদক টিম।
শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে কুলসুম বেগমের বাড়ির আঙিনায় গভীর নলকূপ স্থাপন এবং চরবয়রা রাজীবেরি থেকে কুইজঘাট পর্যন্ত রাস্তা মেরামতের কোনো বাস্তব অস্তিত্বই নেই। সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের সভাপতি নিজেই এ বিষয়ে কিচ্ছু জানেন না!
লেবুখালী ইউনিয়নের মকবুল শরিফ থেকে সিদ্দিক শরিফের দোকান পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারে ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে প্রায় ১০ বছর আগের পুরোনো রাস্তায় কেবল নামমাত্র কাজ করা হয়েছে। এছাড়া মহাসড়ক থেকে শরিফ বাড়ি পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে মাটি ভরাটের কোনো কাজই করা হয়নি; বরং ওই স্থানে ইতোমধ্যে এলজিইডির কার্পেটিং কাজ চলমান রয়েছে।
এদিকে, ৫টি নির্বাচন কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেখানো হলেও সংশ্লিষ্ট ৫ জন ইউপি চেয়ারম্যান এ বিষয়ে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রয়েছেন। তাদের দাবি, তারা এ সম্পর্কে কিছুই জানেন না এবং কোনো ধরনের বরাদ্দও পাননি। পাশাপাশি সাতানী আমিনুদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং কার্তিকপাশা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে নামমাত্র কাজ দেখিয়ে লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের প্রাথমিক প্রমাণও মিলেছে।
দুদক তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, টিআর ও কাবিখার প্রকল্পগুলো আপাতদৃষ্টিতে আকারে ছোট ও বরাদ্দ কম মনে হলেও এর সামগ্রিক দুর্নীতির জাল অত্যন্ত বিস্তৃত। অনেক ক্ষেত্রে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিজের নামে প্রকল্প নিয়ে নিজেই টাকা উত্তোলন করলেও অনেকে আবার এ বিষয়ে সম্পূর্ণ অন্ধকারে থেকে গেছেন।
এ বিষয়ে দুদকের পটুয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. তাপস বিশ্বাস জানান, প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন ও দেখভালের মূল দায়িত্বে রয়েছেন পিআইও (প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা) এবং সংশ্লিষ্ট সভাপতিরা। মূলত তাদের পারস্পরিক যোগসাজশেই এই ব্যাপক দুর্নীতি সংঘটিত হয়েছে। তদন্ত কাজ শেষ হলে প্রধান কার্যালয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে এবং পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category