গত সোমবার বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণায় তামিলনাড়ুতে সবচেয়ে বেশি আসন পায় তামিল চলচ্চিত্রের নায়ক থেকে রাজনীতিতে এসে চমক দেখানো থালাপতি বিজয়ের দল টিভিকে। তারা পায় ১০৮টি আসন। এর মধ্যে বিজয় নিজে লড়েছিলেন দুটি আসনে। ফলে দলের মোট বিধায়কসংখ্যা ১০৭। কিন্তু ২৩৪ আসনের বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮টি আসন।

এ পরিস্থিতিতে তামিলনাড়ুতে ছয় দশকের বেশি সময় ধরে আধিপত্য ধরে রাখা দুই দল ডিএমকে ও এআইএডিএমকে নিজেদের মধ্যে বিভেদ ঘুচিয়ে জোটবদ্ধ হয়ে সরকার গঠনের আলোচনা শুরু করে। কংগ্রেস আগেই টিভিকেকে সমর্থন জানিয়েছিল।
শুক্রবার দুপুরে বিজয়ের সরকার গঠনের প্রচেষ্টাকে সমর্থন জানায় সিপিআই, সিপিএম ও স্থানীয় দল ভিসিকে। তিন দলই দুটি করে আসন জিতেছে। ফলে বিজয়ের পক্ষে ১১৮ জনের সমর্থন নিশ্চিত হয়। এরপর সন্ধ্যায় বিজয় রাজ্যপালের কাছে গেলে ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থনের প্রমাণ না পাওয়ার কথা জানিয়ে তাঁকে আবারও ফিরিয়ে দেন তিনি।
সরকার গঠনের আরজি নিয়ে বিজয় এর আগে তিনবার রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। কিন্তু রাজ্যপাল প্রয়োজনীয় সমর্থনের চিঠি দেখতে চেয়েছিলেন। তিনি জানিয়ে দেন, ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থন সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে কাউকে সরকার গড়ার সুযোগ দিতে রাজি নন। রাজ্যের রাজনীতিবিদদের অনেকের ধারণা, এ ক্ষেত্রে বিজেপি রাজ্যপালের ওপর প্রভাব খাটাচ্ছে।
টিভিকে নির্বাচনী প্রচারণায় ‘একলা চলো’ নীতি গ্রহণ করলেও সরকার গঠনের গণিতে শেষ পর্যন্ত জোটের পথে হাঁটতে হয়েছে। প্রথম বড় সমর্থন আসে কংগ্রেসের কাছ থেকে। ডিএমকে নেতৃত্বাধীন জোট ছেড়ে ৫টি আসন নিয়ে কংগ্রেস বিজয়কে সমর্থনের ঘোষণা দেয়। কংগ্রেসের শর্ত ছিল—বিজয় কখনোই ‘সাম্প্রদায়িক শক্তি’ বিজেপির সঙ্গে হাত মেলাতে পারবেন না। এতে বিজয়ের সমর্থন বেড়ে ১১২-তে দাঁড়ায়।
এরপরেও রাজ্যপাল রাজেন্দ্র আর্লেকার বিজয়কে ফিরিয়ে দেওয়ার সমালোচনা করেছেন সিপিআই নেতা ডি রাজা। রাজ্যপালের এই বিলম্বকে ‘সংসদীয় রীতিনীতির লঙ্ঘন’ বলেছেন তিনি।
বিকেলে এনডিটিভির এক খবরে বলা হয়, ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ (আইইউএমএল) থেকে নির্বাচিত দুই বিধায়কের একজনের সমর্থন পাচ্ছেন বিজয়। এ ছাড়া স্থানীয় আরেক দল আম্মা মক্কল মুনেত্রা কাজাগাম থেকে নির্বাচিত একজন বিধায়কেরও সমর্থন তাঁর পক্ষে যাচ্ছে। কিন্তু বিজয় রাজ্যপালের কাছে যাওয়ার পর এই দুই দল থেকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে তারা থালাপতি বিজয়কে সমর্থন করছে না।
তামিলনাড়ু বিধানসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে ১০ মে। তার আগে সরকার গঠিত না হলে তামিলনাড়ুতে রাষ্ট্রপতি শাসনের আশঙ্কা রয়েছে।







