বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় কার্যালয় মুক্তিভবনে হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট। মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এ সমাবেশ থেকে হামলাকারীদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের সমন্বয়ক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন বলেন, সিপিবির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা শুধু একটি রাজনৈতিক দলের ওপর আক্রমণ নয়, এটি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম, মুক্ত রাজনৈতিক চর্চা ও ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতার ওপর নগ্ন আঘাত। রাজনৈতিক পরিচয় ও মতপার্থক্যের কারণে কোনো দল বা সংগঠনের কার্যালয়ে হামলা, নেতাকর্মীদের ওপর আক্রমণ কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শনের অধিকার কারও নেই। এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা দমন করা যাবে না।
বিকেল সাড়ে ৪টায় শুরু হওয়া সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ক্বাফী রতন। সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ-মার্কসবাদী)-এর কেন্দ্রীয় নেতা ডা. জয়দেব ভট্টাচার্য।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, বাংলাদেশ জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. মুশতাক হোসেন, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আলী, সোনার বাংলা পার্টির সভাপতি সৈয়দ হারুন অর রশীদ এবং বাসদ (মাহবুব)-এর কেন্দ্রীয় নেতা মইনউদ্দিন চৌধুরী লিটন।
সমাবেশে অভিযোগ করা হয়, গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে লাঠিসোঁটা নিয়ে একদল উগ্র ও উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি মুক্তিভবনের সামনে জড়ো হন। নিজেদের সরকারদলীয় কর্মী পরিচয় দিয়ে সিপিবির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলের সদস্যরা অবস্থান করছেন বলে দাবি করেন তারা। একপর্যায়ে প্রধান ফটক ভেঙে তারা ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন।
সিপিবির নেতাকর্মীরা বাধা দিলে ওই ব্যক্তিরা সহিংসতা শুরু করেন। তাদের হামলায় কয়েকজন আহত হন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে সিপিবির কার্যালয়ের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেয়। তবে এরপরও হামলাকারীরা দীর্ঘ সময় কার্যালয়টি অবরুদ্ধ করে রাখেন বলে সমাবেশে অভিযোগ করা হয়।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি পল্টন মোড়, নূর হোসেন স্কয়ার ও বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট এলাকা প্রদক্ষিণ করে।