• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৭ অপরাহ্ন
Headline
সরকারি বেতন দিতে ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিচ্ছে সরকার এতিমখানার ইলিশ ভাগাভাগি করে নিলেন মাদ্রাসাশিক্ষকসহ দুজন, জরিমানা ৮০ হাজার ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির বক্তব্য  সরকার-বিএনপি গ্রহণ করেনি সৌদি আরবের তেল শোধনাগারে হামলা, বিশ্ববাজারে বাড়ল তেলের দাম সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের জন্য ঢাকা-টোকিও সম্পর্ক সুদৃঢ় করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর এইচএসসির ফল প্রকাশ শনিবার, জানা যাবে যেভাবে সিপিবির কার্যালয়ে হামলার প্রতিবাদে যুক্তফ্রন্টের বিক্ষোভ আজকের নামাজের সময়সূচি (২৮ অক্টোবর) স্থলভাগে প্রবেশ করেছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, উপকূলে তাণ্ডবের শঙ্কা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না নেতানিয়াহু বা বিরোধী জোট, রেকর্ড সংখ্যক আসন পাচ্ছে আরব দলগুলো

১১ দলের ঐক্য ভাঙার ষড়যন্ত্র সফল হবে না: মামুনুল হক

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১১ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬

ছবি: বর্তমান বাংলাদেশ

১১ দলের রাজনৈতিক ঐক্য অটুট রয়েছে এবং ভবিষ্যতে এই ঐক্যের পরিসর আরও বিস্তৃত হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্র সংস্কার, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপরেখা নির্ধারণ, আধিপত্যবাদ মোকাবিলা ও ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঠেকানোর লক্ষ্য সামনে রেখেই তারা একসঙ্গে কাজ করছেন। কোনো ষড়যন্ত্র বা চক্রান্তের মাধ্যমে এ ঐক্যে ফাটল ধরানো যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। এতে জোটভুক্ত দলগুলোর শীর্ষ নেতা ও মহাসচিবরা অংশ নেন।

মামুনুল হক উল্লেখ করেন, হাজারো শহীদের রক্তের দায় নিয়ে তারা রাষ্ট্র মেরামতের আন্দোলনে নেমেছেন। এ কারণে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র বা চক্রান্তের ফাঁদে পা দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। এ ঐক্যকে শুধু সংসদে বিরোধী দলগুলোর পারস্পরিক সমঝোতা হিসেবে দেখলে চলবে না। দেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা কেমন হবে এবং বাংলাদেশের গতিপথ কোন দিকে যাবে, তা নির্ধারণের বৃহত্তর লড়াইয়ের অংশ হিসেবেই এ ঐক্য গড়ে উঠেছে। আগামী দিনগুলোয় এই পরিসর আরও বাড়বে বলে তারা আশাবাদী।

১১ দলের চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে আগামী ৩১ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা হয়ে কুষ্টিয়া পর্যন্ত লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তিনি। এর আগে চট্টগ্রাম ও রংপুর অভিমুখে কর্মসূচি পালন করেছে জোটটি। নতুন কর্মসূচির সূচনা হবে সকাল ৭টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে সমাবেশের মধ্য দিয়ে। এরপর নির্ধারিত পথে বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি পালন করে লংমার্চ কুষ্টিয়ায় গিয়ে শেষ হবে।

মামুনুল হক বলেছেন, গণভোটের রায় কার্যকর, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং নাগরিক জীবনের সংকট নিরসনের দাবিতে এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। দেশের ১৮ কোটি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই তারা মাঠে রয়েছেন। আগের কর্মসূচিগুলোর মতো এবারও সাধারণ মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণের প্রত্যাশা করছেন তারা।

লংমার্চে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ ও সারের সংকট, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি এবং বিচার বিভাগের দলীয়করণের অভিযোগসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হবে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড, জুলাই গণহত্যা ও শাপলা চত্বরের গণহত্যাসহ সব হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হবে। এসব সংকট সমাধানে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা চেয়েছেন মামুনুল হক। তার প্রত্যাশা লংমার্চ ঘিরে কোনো পক্ষ বাধা সৃষ্টি করবে না। তবে কোনো ধরনের অপতৎপরতা দেখা গেলে তা মোকাবিলা করে কর্মসূচি সফল করার কথাও জানান তিনি।

সরকারের সঙ্গে বিরোধী দলের সম্পর্ক প্রসঙ্গে মামুনুল হক বলেন, সংসদের ভেতরে ও বাইরে তারা সহযোগিতামূলক মনোভাব নিয়ে কাজ করছেন। এখন পর্যন্ত সহনশীল কর্মসূচির মাধ্যমেই নিজেদের দাবি তুলে ধরেছেন। কিন্তু সরকার বিরোধী দলের সহযোগিতাকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে আগ্রহী নয় বলে মনে হচ্ছে। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।

সরকারকে জনগণের প্রত্যাশা অনুধাবনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পর রাষ্ট্র পরিচালনায় মানুষের ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিতে হবে। অন্যথায় এর পরিণতি ভালো হবে না।

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির। তার অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের সচিব পর্যায়ে দলীয় ব্যক্তিদের নিয়োগের কারণে নির্বাচন কতটা নিরপেক্ষ হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ঠাকুরগাঁওয়ের উপনির্বাচনে কমিশনের ভূমিকা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে বলে জানান তিনি।

মামুনুল হক বলেছেন, নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষতা বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করতে হবে। জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কোনো ব্যত্যয় ঘটলে তারা নীরব থাকবেন না। প্রয়োজন হলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বড় কর্মসূচি দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হবে। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে মঙ্গলবারের বৈঠকে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে আগের অবস্থানই বহাল রয়েছে।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন মামুনুল হক। পুলিশের মহাপরিদর্শকের সাম্প্রতিক বক্তব্যে বিচারবহির্ভূত ক্রসফায়ারের প্রসঙ্গ আসায় তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তার কাছ থেকে এ ধরনের বক্তব্য আসা জনমনে আতঙ্ক তৈরি করতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বিদেশ সফরের সফরসঙ্গী নির্বাচন ও আয়োজন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি দলে অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিদের উপযুক্ততা এবং গুরুত্বপূর্ণ সফরকে ঘিরে আয়োজনের ধরন নিয়ে সংশয় রয়েছে বলে মন্তব্য করেন মামুনুল হক। এসব বিষয়ে সরকারকে আরও দায়িত্বশীল ও বিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সংসদের চতুর্থ অধিবেশন সামনে রেখে বিরোধী দলের উদ্বেগের কথাও জানান তিনি। আসন্ন অধিবেশনে সরকারের প্রস্তাব ও কর্মসূচি কতটা জনস্বার্থকে গুরুত্ব দেবে এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়ে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে তাদের মধ্যে সন্দেহ রয়েছে। অধিবেশনের আগে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে আবারও আলোচনা করে পরবর্তী অবস্থান নির্ধারণ করা হবে বলে জানান তিনি।ঢাকা থেকে খুলনা ও কুষ্টিয়াগামী লংমার্চের পথে গোপালগঞ্জ থাকায় সেখানে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির আশঙ্কা রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নে মামুনুল হক বলেন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করলে এ ধরনের পরিস্থিতির আশঙ্কা নেই। গোপালগঞ্জে ইসলামপন্থী ও দেশপ্রেমিক মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। কোনো সন্ত্রাসী তৎপরতা বা নাশকতার চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করা হবে বলেও জানান।

গোপালগঞ্জের প্রশাসনকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সেখানে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হলে তার দায় সরকার ও প্রশাসনকে নিতে হবে।

অন্যদিকে, খুলনায় লংমার্চের সমাবেশস্থল হিসেবে জেলা স্কুল নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানান মামুনুল হক। স্থানটি তুলনামূলক ছোট এবং প্রবেশপথ সংকীর্ণ হওয়ায় সেখানে বড় সমাবেশ আয়োজনের ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে ভারতের এক গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে যারা রাজনৈতিকভাবে এ ধরনের অভিযোগ তুলছেন, বৈঠকটি সম্ভবত তাদের সঙ্গেই হয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে তারাই ভালো বলতে পারবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category