• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪১ পূর্বাহ্ন
Headline
নলডাঙ্গায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত, গুরুত্ব পেল জনসচেতনতা যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী মাহমুদুল আলমের উদ্যোগে প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইল চেয়ার, সেলাই মেশিন ও ক্রাচ বিতরণ সান্তাহার পৌর যুবদলের উদ্যোগে নানা আয়োজনে ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত দুই বছরের মধ্যে স্বাস্থ্যখাতে আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্য: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের ৫ অগ্রাধিকার খাতে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে: রাষ্ট্রপতি  বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে সুইজারল্যান্ডের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী  বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে আগ্রহী জাপান উন্নত বাংলাদেশ গড়তে প্রবাসী-দেশবাসীকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে বাংলাদেশে জাতীয় ঐক্য অনুপস্থিত: দিলারা চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১৮ Time View
Update : শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬

জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে বাংলাদেশে জাতীয় ঐক্য অনুপস্থিত বলে মন্তব্য করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী। তিনি বলেন, ভারতে জাতীয় স্বার্থের (কোর ইস্যু) প্রশ্নে সব রাজনৈতিক দল অভিন্ন অবস্থানে থাকে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে বাংলাদেশে সেই জাতীয় ঐক্য অনুপস্থিত।

শুক্রবার ডেইলি স্টার সেন্টারে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘সফট পাওয়ারের মাধ্যমে জাতীয় সংহতি শক্তিশালীকরণ: জুলাই বীরদের স্বপ্নের দিকে একটি পথ নির্মাণ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শক্তির ভেতর সুপরিকল্পিতভাবে বিভাজন তৈরি করা হচ্ছে। আর এর পেছনে দেশীয় সুবিধাভোগী চক্র, ফ্যাসিবাদী নেক্সাস এবং বহিঃশক্তির বিপুল অর্থায়ন ও ষড়যন্ত্র রয়েছে। এক পক্ষ ভাবছে এতে বিএনপির লাভ হবে, অন্য পক্ষ ভাবছে তাদের লাভ হবে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, বিএনপির এক শীর্ষ নেতা গণভবনকে জাদুঘর করার প্রস্তাবকে জামায়াতের এজেন্ডা বলে নাকচ করে দিয়েছেন। অথচ এটি ছিল জুলাই আন্দোলনের সাথে যুক্ত সর্বস্তরের জনতার প্রাণের দাবি। পার্শ্ববর্তী দেশ এই রাজনৈতিক পরিবর্তনকে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না এবং একে উগ্রবাদের উত্থান হিসেবে আন্তর্জাতিক মহলে চিহ্নিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। অথচ এই আন্দোলনটি মূলত একটি গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের লড়াই ছিল।

তিনি আরো বলেন, এই অভ্যুত্থানকে নস্যাৎ করার জন্য নানামুখী শক্তি সক্রিয় রয়েছে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশই জুলাই অভ্যুত্থানকে স্বীকার করতে রাজি নয়। তারা ১৯৭২ সালের সংবিধান বহাল রাখতে চায়। কারণ এই সংবিধান মানেই হলো ভারতের আধিপত্যের প্রতিফলন। প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেছেন যে তাঁর দাদি পাকিস্তানকে দুই ভাগ করেছেন; তিনি কিন্তু একবারও বলেননি যে বাঙালিরা মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে। তিনি বলেছেন, তাঁর নিরাপত্তার জন্য দেশ ভাগ করা হয়েছে।

ড. দিলারা চৌধুরী বলেন, নানা টানাপোড়েনের ভেতর সামাজিক বিভক্তি, মানুষের লোভ ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক উচ্চাভিলাষের কারণে আমাদের দেশ এখন এক দুর্বল অবস্থায় এসে পৌঁছেছে। যেকারণে বহিঃশক্তির পক্ষে আমাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে নাক গলানো সহজ হয়ে গেছে। বাংলাদেশ এখন একটি সংবেদনশীল ও কঠিন জায়গায় অবস্থান করছে। শুধু পার্শ্ববর্তী দেশই আমাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি গুলিয়ে দিচ্ছে না, বরং বহুদূরের পরাশক্তিগুলোও এখানে তাদের অনুগত সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে। আর সেটা করতে হলে জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে পাশ কাটাতে হবে। কারণ জনগণের শক্তিতে গঠিত সরকারই সবচেয়ে শক্তিশালী হয় এবং তারা যেকোনো অপশক্তিকে সফলভাবে মোকাবিলা করতে পারে। ওই শক্ত ভিত্তি যেন গড়ে উঠতে না পারে, সেজন্য কাছের ও দূরের নানা শক্তি একসঙ্গে কাজ করছে।

জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) কামাল আকবরের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন প্রখ্যাত আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর, গীতিকবি সংঘের ভাইস প্রেসিডেন্ট বাপ্পি খান ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ভূঁইয়াসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category