• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫১ অপরাহ্ন
Headline
প্রাথমিকে ৯৩, মাধ্যমিকের ৫৭ শতাংশ বই ছাপা শেষ, নভেম্বরে শতভাগ সরবরাহের লক্ষ্য ৪ বছরে ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষক কার্ড দেবে সরকার ইউপি নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনে প্রার্থিতা বাতিল, সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড জাপানে টয়োটার মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী ডিএফওর বিরুদ্ধে অর্থ ছাড় না দেওয়ার অভিযোগ, পাঁচ মাস ধরে ভাতা বন্ধ লাউয়াছড়ার কর্মীদের তুরাগ নদ থেকে বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার অস্তিত্ব হারানোর পথে আড়িয়াল খাঁ, ময়নাকাটা বিশ্ববাজারে আবার কমল জ্বালানি তেলের দাম বিদায়ের ক্ষণ গুনছেন নেতানিয়াহু নওগাঁর নিয়ামতপুরে আরডিআরএস বাংলাদেশের উদ্যোগে সাড়ে ৭ হাজার গাছের চারা বিতরণ

ফ্যামিলি কার্ডের ডাটাবেজে আসবে সাড়ে ৪ কোটি পরিবার : সমাজকল্যাণমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক / ২৬ Time View
Update : সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬

  • দেশে নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা এবং স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করতে সরকারের অগ্রাধিকারমূলক ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় সারা দেশে একযোগে পরিবার বা খানা পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম আজ থেকে শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের প্রায় সাড়ে ৪ কোটি পরিবারের তথ্য একক ডিজিটাল ডাটাবেজে যুক্ত করা হবে।
আজ দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল, মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ এবং তথ্য অধিদফতরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদসহ মন্ত্রণালয় ও সমাজসেবা অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী জানান, ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আজ ১২ অক্টোবর থেকে সারা দেশে সরাসরি বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। এ কাজে ৬৬ হাজার ৮১৫ জন প্রশিক্ষিত তথ্য সংগ্রহকারী এবং ৬ হাজার ৬৮১ জন সুপারভাইজার নিয়োজিত রয়েছেন। আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে এই তথ্য সংগ্রহের কাজ শেষ হবে। ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো ডেটাবেজ প্রস্তুত করা হবে।

ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, ফ্যামিলি কার্ড পেতে সাধারণ মানুষকে কোনো সরকারি দফতর বা কোনো ব্যক্তির পেছনে ঘুরতে হবে না; সরকারের তথ্য সংগ্রহকারীরাই সরাসরি প্রতিটি পরিবারের দোরগোড়ায় যাবেন। সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক প্রক্সি মিন্স টেস্ট (পিএমটি) পদ্ধতির মাধ্যমে ডেটাবেজ থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ্য পরিবার চিহ্নিত করা হবে। ফলে এখানে কোনো রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি বা অসদুপায় অবলম্বনের সুযোগ নেই।

তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে সাড়ে ৪ কোটি (প্রতি ৫ জন সদস্য মিলে একটি পরিবার) পরিবারের মধ্য থেকে পিএমটি স্কোরের ভিত্তিতে ১ কোটি ৬০ লাখ থেকে ২ কোটি ১০ লাখ অতিদারিদ্র্য, দারিদ্র্য ও নিম্নবিত্ত পরিবারকে ভাতা প্রদানযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হবে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. জাহিদ হোসেন জানান, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে নতুন ৪১ লাখ নারী পরিবার প্রধানকে এই ভাতার আওতায় আনা হচ্ছে। আগামী চার বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে যোগ্য সকল পরিবার এই সুবিধা পাবেন। কর্মসূচি বাস্তবায়নে চলতি অর্থবছরে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার মধ্যে ১২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ভাতা হিসেবে বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, কার্ডধারী নারীদের জন্য সরবরাহকৃত ফ্যামিলি কার্ডটি হবে অত্যন্ত সুরক্ষিত। ডুয়েল চিপ, কিউআর কোড এবং নিয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন বা এনএফসি প্রযুক্তি সম্বলিত এই কার্ডটি সরকারের ‘টাকা পে’ পেমেন্ট স্কিমের সাথে যুক্ত থাকবে। এর মাধ্যমে সুবিধাভোগীরা যেকোনো ব্যাংকের এটিএম বুথ, বিপণি বিতানের পিওএস মেশিন কিংবা বিকাশ, নগদ-এর মতো মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহার করে তাদের পছন্দমতো স্থানে ভাতা তুলতে পারবেন।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং কোনো যোগ্য পরিবার যেন বাদ না পড়ে, সে উদ্দেশ্যে প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের ‘সেবা কেন্দ্র’ থেকে অনলাইন ও অফলাইনে অভিযোগ জানানো ও আপিলের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আইবাস পদ্ধতির সাথে এ তথ্য ক্রস-চেক করা হবে।

তিনি বলেন, গৃহীত এই কর্মসূচির পারিবারিক ও সামাজিক প্রভাব মূল্যায়নে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থাকে যুক্ত করে নিয়মিত গবেষণা ও রিভিউ পরিচালনা করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category