• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৬ পূর্বাহ্ন
Headline
প্রাথমিকে ৯৩, মাধ্যমিকের ৫৭ শতাংশ বই ছাপা শেষ, নভেম্বরে শতভাগ সরবরাহের লক্ষ্য ৪ বছরে ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষক কার্ড দেবে সরকার ইউপি নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনে প্রার্থিতা বাতিল, সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড জাপানে টয়োটার মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী ডিএফওর বিরুদ্ধে অর্থ ছাড় না দেওয়ার অভিযোগ, পাঁচ মাস ধরে ভাতা বন্ধ লাউয়াছড়ার কর্মীদের তুরাগ নদ থেকে বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার অস্তিত্ব হারানোর পথে আড়িয়াল খাঁ, ময়নাকাটা বিশ্ববাজারে আবার কমল জ্বালানি তেলের দাম বিদায়ের ক্ষণ গুনছেন নেতানিয়াহু নওগাঁর নিয়ামতপুরে আরডিআরএস বাংলাদেশের উদ্যোগে সাড়ে ৭ হাজার গাছের চারা বিতরণ

শেকৃবির হল ক্যান্টিনে পোড়া তেল ব্যবহারের অভিযোগ

শেকৃবি প্রতিনিধি / ৩১ Time View
Update : রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শেরেবাংলা হলের ক্যান্টিন ও দ্বিতীয় গেটসংলগ্ন খাবারের দোকানে রান্নার জন্য বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ও কনভেনশন সেন্টার থেকে সংগ্রহ করা পুরোনো ও ব্যবহৃত পোড়া তেল ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে ক্যান্টিন পরিচালনাকারী হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে।

গত বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় গেটসংলগ্ন তার পরিচালিত আরেকটি দোকান থেকে ১৫ লিটার তেল জব্দ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বিভাগের সহায়তায় এসব তেল জব্দ করা হয়।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান সাংবাদিকরা। সেখানে জব্দ করা তেল ময়লাযুক্ত ছিল এবং তা থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। তেলগুলো আগে রান্নার কাজে ব্যবহৃত হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে বোঝা যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক্যান্টিনের একাধিক কর্মচারী জানান, রাজধানীর বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ও কনভেনশন সেন্টারে বিয়ে ও অন্যান্য অনুষ্ঠানে রান্নার কাজে ব্যবহৃত তেল সংগ্রহ করে পুনরায় খাবার তৈরিতে ব্যবহার করা হতো। এসব তেল দিয়ে হুমায়ুন কবিরের পরিচালিত শেরেবাংলা হলের ক্যান্টিন ও দ্বিতীয় গেটসংলগ্ন খাবারের দোকানে খিচুড়ি, কাচ্চি, তেহারি ও রোস্টসহ বিভিন্ন খাবার রান্না করা হতো বলে দাবি করেন তারা।

ক্যান্টিনে ব্যবহৃত তেলের মান নিয়ে প্রায় ৮ মাস ধরে অভিযোগ শোনা যাচ্ছিল। তবে এত দিন তেলসহ কাউকে হাতেনাতে ধরা যায়নি। এবার গোপন তথ্যের ভিত্তিতে দ্বিতীয় গেটসংলগ্ন দোকানে তেল আনার খবর পেয়ে সেখানে যান সাংবাদিকরা। পরে জব্দ করা তেল দেখে উপস্থিত সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীরা অভিযোগের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

ঘটনাস্থলে তেলের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযোগ অস্বীকার করেন হুমায়ুন কবির। তিনি দাবি করেন, তেলগুলো তার এক বন্ধু রেখে গেছেন। ওই বন্ধু বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট থেকে তেল সংগ্রহ করে বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করেন।

এর আগে একই ধরনের তেল আনার অভিযোগ ও এ-সংক্রান্ত প্রমাণের বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। পরে ভবিষ্যতে এ ধরনের তেল আর আনা হবে না বলে জানান হুমায়ুন।

তিনি বলেন, এরপরও এমন তেল আনা হলে কর্তৃপক্ষ যে শাস্তি দেবে, তা তিনি মেনে নেবেন। তার ওই বন্ধুকে ঘটনাস্থলে এসে তেল নিয়ে যেতে বলা হলেও কেউ তা নিতে আসেননি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে, দ্বিতীয় গেটসংলগ্ন দোকানে কর্মরত এক কর্মচারীর বক্তব্যের সঙ্গে হুমায়ুনের বক্তব্যে অসংগতি পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে শিক্ষার্থীরা বলেন, আবাসিক হলের ক্যান্টিনে শিক্ষার্থীদের খাবার নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অবহেলা মেনে নেওয়া যায় না। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যের সঙ্গে আপস করে কেউ ব্যবসা করার সুযোগ পেতে পারেন না। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি, ক্যান্টিনে খাবারের মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট দোকান ও ক্যান্টিন সিলগালা করতে হবে।

এ বিষয়ে শেরেবাংলা হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক মো. আব্দুল লতিফ বলেন, ‘বিষয়টি আমি এখন শুনেছি। এমন কোনো কাজে কেউ জড়িত থাকলে তদন্তসাপেক্ষে তাকে অবশ্যই শাস্তির আওতায় আনা হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে হল থেকেও বের করে দেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের খাবারের মান ও নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না।’

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আরফান আলীর মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category