তবে যৌথ সীমান্ত কমিশনকে প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। দিল্লি জানিয়েছে, অবৈধ দখলে থাকা ভারতীয় ভূখণ্ড সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো কোনো আইনি ভিত্তি এই কমিশনের নেই। ইসলামাবাদে পাকিস্তান-চীন যৌথ সীমান্ত কমিশনের প্রথম বৈঠকের পর নয়াদিল্লি এই প্রতিক্রিয়া এলো।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জানিয়েছে, যৌথ সীমান্ত কমিশন সংক্রান্ত বৈঠকটিতে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘সীমানা ও সমুদ্র বিষয়ক বিভাগ’-এর উপ-মহাপরিচালক লি ইয়া এবং পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘চীন বিষয়ক বিভাগ’-এর মহাপরিচালক বিলাল মাহমুদ চৌধুরী। দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক অগ্রগতি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও বাণিজ্য সহজীকরণের বিষয়ে আরও নিবিড় সমন্বয়ের পথ প্রশস্ত করবে।
নিয়মিত প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় ও আলোচনার মাধ্যমে উভয় পক্ষের যৌথ সীমান্ত-সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার জন্য এই কমিশন একটি আনুষ্ঠানিক মঞ্চ হিসেবে কাজ করবে। এটি সীমান্ত ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সহযোগিতাকেও জোরদার করবে; যার মধ্যে রয়েছে সীমান্ত এলাকায় উদ্ভূত বিভিন্ন বিষয়ে সমন্বয় এবং উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা।
নিয়মিত কারিগরি সমন্বয় ও জরিপ কার্যক্রম উভয় দেশকে সীমান্ত-সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য বজায় রাখতে এবং সীমান্ত-বিষয়ক বিষয়গুলোর কার্যকর ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করতে পারে।
এদিকে ভারত বরাবরই বলে আসছে, ১৯৬৩ সালে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে শাকসগাম উপত্যকার মতো কিছু ভূখণ্ড চীনের হাতে তুলে দেওয়া ছিল অবৈধ ও অগ্রহণযোগ্য। এছাড়া ‘চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর’ (সিপিইসি)-এরও বিরোধিতা করে আসছে নয়াদিল্লি। কারণ এর একটি অংশ পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের (পিওকে) মধ্য দিয়ে গেছে।
দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল পাকিস্তান-চীন যৌথ সীমান্ত কমিশন প্রসঙ্গে বলেন, এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট ও অটল। পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে কোনো সীমান্ত নেই। আমরা এই তথাকথিত যৌথ কমিশনকে প্রত্যাখ্যান করছি, যার কোনো আইনি ভিত্তিই নেই।
তিনি বলেন, জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ এই পুরো কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলো ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও অবিভাজ্য অংশ ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। তিনি আরও বলেন, আমরা কখনোই ১৯৬৩ সালের তথাকথিত ‘চীন-পাকিস্তান সীমান্ত চুক্তি’-কে স্বীকৃতি দিইনি এবং বরাবরই বলে এসেছি এটি অবৈধ ও অকার্যকর।
জয়সওয়াল বলেন, ভারতের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা ক্ষুণ্ণ করে এমন কোনো পদক্ষেপের মাধ্যমে এই অধিকৃত অঞ্চলগুলোর মর্যাদা পরিবর্তনের বা অবৈধ দখলকে বৈধতা দেওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টার আমরা দৃঢ় বিরোধিতা ও প্রত্যাখ্যান করি। ভারতীয় ভূখণ্ড নিয়ে চীন ও পাকিস্তানের মধ্যে যেকোনো তথাকথিত সীমান্ত সহযোগিতা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য হবে এবং এসব ভূখণ্ডের ওপর ভারতের সার্বভৌমত্বের ওপর এর কোনো প্রভাবই পড়বে না।
এ ধরনের নাটকীয়তায় লিপ্ত না হয়ে পাকিস্তানের কাছে অবৈধ ও জোরপূর্বক দখলে থাকা এলাকাগুলো খালি করে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সূত্র: এনডিটিভি।







