সম্প্রতি এক ভিডিওতে এ প্রশ্ন তোলেন তিনি।
মঞ্জুরুল আলম পান্না দাবি করে বলেছেন, বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তের সঙ্গে আসিফ নজরুলের সম্পৃক্ততা নিয়ে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে যে তথ্য উঠে এসেছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে এখন নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আসিফ নজরুল পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিচ্ছেন।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির ২২ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনের ১৯ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত কোনো একজন ব্যক্তির নেওয়া উচিত নয়। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তদন্ত কমিটির অন্যতম সদস্য ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর ওই ব্যক্তির নাম হিসেবে আসিফ নজরুলের কথা উল্লেখ করেন বলে দাবি করেন পান্না।
তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর আসিফ নজরুল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে বলেন, ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলতে যাওয়ার সিদ্ধান্তটি তৎকালীন ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি হিসেবে মূলত তারই ছিল। তিনি আরো দাবি করেন, এ কথা তিনি একাধিকবার প্রকাশ্যে বলেছেন। তবে এই বক্তব্যের সঙ্গে তার আগের অবস্থানের পার্থক্য রয়েছে বলে দাবি করেন মঞ্জুরুল আলম পান্না।
সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্না ওই ভিডিওতে বলেন, ৪ জানুয়ারি সিলেটে বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের সভায় ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ওই সময় আসিফ নজরুল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছিলেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডই ভারতে বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভারতের ক্রিকেট বোর্ডের নীতির প্রেক্ষাপটে তিনি বিসিবির ওই সিদ্ধান্তকে স্বাগতও জানিয়েছিলেন।এ কারণে এখন আসিফ নজরুলের ‘সিদ্ধান্তটি মূলত আমারই ছিল’—এমন বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পান্না।
এদিকে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনে নিরাপত্তার বিষয়টিও আলোচনায় ছিল। সে সময় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও আইসিসির মধ্যে এ নিয়ে যোগাযোগ এবং বিভিন্ন পর্যায়ে বৈঠক হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে বিসিবির সাবেক সভাপতি ও সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুল এক সাক্ষাৎকারে বলেন, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্তটি ছিল সরকারের এবং নিরাপত্তার বিষয়টি এতে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল।
মঞ্জুরুল আলম পান্না আরো বলেন, আসিফ নজরুল তার সাম্প্রতিক বক্তব্যে বাংলাদেশের অবস্থানের প্রতি বিভিন্ন দেশের সমর্থনের বিষয়টিও তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে পাকিস্তানের সমর্থনের বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশ বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের দাবি জানিয়েছিল এবং সে সময় পাকিস্তান বাংলাদেশের অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিল বলে পান্না উল্লেখ করেন।
তবে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ বিশ্বকাপে অংশ নেয়নি, যদিও পাকিস্তান টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করে।
সব মিলিয়ে বাংলাদেশের বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্তটি আসলে কার ছিল—বিসিবি, সরকার নাকি তৎকালীন কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তির—এ প্রশ্নই এখন নতুন করে সামনে এসেছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং সে সময়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া ঘিরে তৈরি হওয়া এই বিতর্কে এখন পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেটিই দেখার বিষয়।