• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১৮ অপরাহ্ন
Headline
প্রাথমিকে ৯৩, মাধ্যমিকের ৫৭ শতাংশ বই ছাপা শেষ, নভেম্বরে শতভাগ সরবরাহের লক্ষ্য ৪ বছরে ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষক কার্ড দেবে সরকার ইউপি নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনে প্রার্থিতা বাতিল, সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড জাপানে টয়োটার মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী ডিএফওর বিরুদ্ধে অর্থ ছাড় না দেওয়ার অভিযোগ, পাঁচ মাস ধরে ভাতা বন্ধ লাউয়াছড়ার কর্মীদের তুরাগ নদ থেকে বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার অস্তিত্ব হারানোর পথে আড়িয়াল খাঁ, ময়নাকাটা বিশ্ববাজারে আবার কমল জ্বালানি তেলের দাম বিদায়ের ক্ষণ গুনছেন নেতানিয়াহু নওগাঁর নিয়ামতপুরে আরডিআরএস বাংলাদেশের উদ্যোগে সাড়ে ৭ হাজার গাছের চারা বিতরণ

গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের মিছিল অর্থায়ন করেছে বিপু নাসির

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৪৯ Time View
Update : সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

  • মিছিলে অংশ নিলে নেতাকর্মীরা দৈনিক নগদ টাকা ও যাতায়াত খরচ পান * মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, সংসদ-সদস্য, মেয়র ও স্থানীয় কাউন্সিলরসহ আরও কয়েকজনের নাম গোয়েন্দাদের হাতে
twitter sharing button
whatsapp sharing buttonরাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ইদানীং নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের ঝটিকা মিছিল বের হতে দেখা যাচ্ছে। দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় বেআইনিভাবে তারা মহড়া দিয়ে জনমনে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। তাদের এ ধরনের ঝটিকা মিছিল দেশে বিরাজমান রাজনীতিকে অস্থির করার গোপন ষড়যন্ত্র কিনা তা খতিয়ে দেখতে গিয়ে পাওয়া গেছে ভয়ংকর তথ্য।

সূত্র জানায়, অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য এ ধরনের কার্যক্রমের নেপথ্য অর্থায়ন ও ইন্ধনদাতা হিসাবে পতিত সরকারের এমন কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে যাদের কেউ আছেন জেলে, কেউ দেশে আত্মগোপনে, কেউ বিদেশে থেকে অর্থায়ন করছেন। এই তালিকায় রয়েছেন সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর নাসির উদ্দিনসহ আওয়ামী লীগের একাধিক প্রভাবশালী নেতা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত ও গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

এদিকে গুলশানে বড় ধরনের ঝটিকা মিছিলের ঘটনা ভাবিয়ে তুলেছে পুলিশ প্রশাসনকে। এ ঘটনায় পুলিশের ব্যর্থতা ও দায়দায়িত্ব নির্ধারণে ডিএমপির পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে এরই মধ্যে আওয়ামী লীগের ৭২ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গত ১১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গুলশানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বড় ধরনের ঝটিকা মিছিল করে এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। ঘটনার দিন ১১ সেপ্টেম্বর ও তার পরদিন (১২ সেপ্টেম্বর) অভিযান চালিয়ে সরাসরি মিছিলে অংশ নেওয়া ৩২ জনকে গ্রেফতার করা হয়। ১৩ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বিশেষ অভিযানে আরও ৪০ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত আগস্ট মাসে সারা দেশে নিষিদ্ধ ছাত্র লীগের পক্ষ থেকে ১৪৩টি ঝটিকা মিছিল করা হয়। এসব ঘটনায় মামলা হয়েছে ৪৩টি এবং গ্রেফতার হয়েছে ২০৫ জন। চলতি মাসের প্রথম ৯ দিনে ছাত্রলীগের ৩১টি ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় সাতটি মামলা হয়েছে এবং গ্রেফতার হয়েছেন ৫০ জন। অন্যদিকে চলতি মাসের প্রথম ১০ দিনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ২২টি ঝটিকা মিছিল এবং একটি গোপন বৈঠকসহ আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নসংক্রান্ত ৩৬টি ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

গোয়েন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নগরীতে হঠাৎ ঝটিকা মিছিল বের করে জনমনে আতঙ্ক ছড়ানোর কৌশল হিসাবে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের নগদ অর্থ দিয়ে সংগঠিত করা হচ্ছে। এসব অর্থের জোগান আসছে সাবেক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, সংসদ-সদস্য, মেয়র ও স্থানীয় কাউন্সিলরদের তহবিল থেকে। মিছিলে অংশ নিতে আসা কর্মীদের দৈনিক নির্দিষ্ট পরিমাণ নগদ টাকা ও যাতায়াত খরচ দেওয়া হয়। নেপথ্যে থাকা পলাতক নেতাদের প্রতিনিধি ও সহযোগীরা ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকার অর্থ লেনদেন তদারকি করছে। এ বিষয়ে হুন্ডি, বিকাশ ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে দেওয়া অর্থের লেনদেন রেকর্ড পর্যালোচনা করছে গোয়েন্দারা।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান শফিকুল ইসলাম বর্তমান বাংলাদেশকে বলেন, সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল বের করার সময় হাতেনাতে আটক হওয়া ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অর্থায়ন ও পরিকল্পনার বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য মিলেছে। গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে আমরা কিছু নাম পেয়েছি। তাদের উদ্দেশ্য অনেক বড়। প্রাপ্ত তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সব বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী ও তাদের পেছনে থাকা অর্থদাতাদের আইনের আওতায় আনতে ডিবি ও থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারের উপকমিশনার (ডিসি) আকতার হোসেন বর্তমান বাংলাদেশকে বলেন, ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। গুলশানে ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে তথ্য জানার চেষ্টা করেছি। কিন্তু সিনিয়ররা আমাকে কোনো তথ্য দেননি। তাই এ বিষয়ে কিছু বলতে পারছি না।’ তবে ডিসি (সদর দপ্তর) শাহরিয়ার আলী বলেন, ‘দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি হয়েছে। প্রশাসনিক বিষয় হওয়ায় কমিটি সদস্যদের নাম বা এ সংক্রান্ত অন্য কোনো তথ্য জানানো যাচ্ছে না।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category