• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪২ অপরাহ্ন
Headline
দুই বছরের মধ্যে স্বাস্থ্যখাতে আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্য: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের ৫ অগ্রাধিকার খাতে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে: রাষ্ট্রপতি  বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে সুইজারল্যান্ডের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী  বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে আগ্রহী জাপান উন্নত বাংলাদেশ গড়তে প্রবাসী-দেশবাসীকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে জাপানি ব্যবসায়ীদের প্রতি তারেক রহমানের আহ্বান মিরপুরে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে বিকেলে ফের অভিযান বিএনপি-ছাত্রদলের দুর্দিনের বহু কাণ্ডারীও ভুক্তভোগী হচ্ছেন: নাহিদ ইসলাম

২০ সেপ্টেম্বরের দিকে কমবে বিদ্যুতের লোডশেডিং!

অর্থনীতি প্রতিবেদক / ৬০ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত

গ্যাস সংকটের তীব্রতা কমে আসবে আগামী সপ্তাহে, আর বিদ্যুতের লোডশেডিং ২০ সেপ্টেম্বর নাগাদ কমে আসবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা। প্রায় দুই মাস ধরে চলা গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট জনগণের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোঃ রেজাউল করিম বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, আমরা আশা করছি ২০ সেপ্টেম্বর নাগাদ লোডশেডিং কমে আসবে। চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে পেট্রোবাংলা। সেটি হলে অনেকটা স্বস্তি আসবে।

এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, বর্তমানে ৮০০ থেকে ৮৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ পাচ্ছি। আরও ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট বাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। অন্যদিকে তেলের সরবরাহও বাড়ানোর প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হয়েছে।

গতকাল (৮ সেপ্টেম্বর) দেশজুড়ে ব্যাপক লোডশেডিংয়ের খবর পাওয়া গেছে। পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী সকাল ৭টায় সর্বনিম্ন ১৩ হাজার ৩২৬ মেগাওয়াট এবং রাত ১১ টায় ১৫ হাজার ৭৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। বিপরীতে সর্বনিম্ন সন্ধ্যা ৬টায় ১৬০৩ মেগাওয়াট, আর বিকাল ৩ টায় ২৮৪৪ মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হয়েছে। ওইদিন দিনভর কমবেশি লোডশেডিং করার তথ্য পাওয়া গেছে।

তবে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) চাহিদার বিষয়ে বিষ্ময় প্রকাশ করেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেছেন, দিনের তাপমাত্রা যে লেভেলে ছিল তাতে চাহিদার পরিমাণ এতো বেশি হওয়ার কথা না। বিতরণ কোম্পানিগুলোর কোন স্ক্যাডা সিস্টেম নেই, যে কারণে ম্যানুয়ালি চাহিদার প্রাক্কলন করছে। বাস্তবে এই সময়ে এতো বেশি চাহিদা হওয়ার কোন সুযোগ নেই।

এক প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা সাধারণত সন্ধ্যা থেকে চার্জিংয়ে বসানো হয়। তথ্য অনুযায়ী কয়েক ঘণ্টায় চার্জ হয়ে গেলে ধীরে ধীরে চাহিদা কমে আসে। কিন্তু এখন যে চাহিদা দেখানো হচ্ছে তা খুবই অস্বাভাবিক। তবে হ্যাঁ এ কথা সঠিক গ্যাস সংকটের কারণে মানুষ ইলেকট্রিক চুলার দিকে ঝুঁকেছে, যে কারণে বিদ্যুতের উপর চাপ বেড়েছে।

সান্ধ্যাকালীন চাহিদা সামাল দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগকে। লোডশেডিং সামাল দিতে সন্ধ্যা ৭টায় বিলবোর্ড এবং রাত ৮টার মধ্যে দোকান ও শপিং মার্কেট বন্ধের আদেশ জারি রয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের ওই আদেশের সঙ্গে বাস্তবতার কোন মিল পাওয়া যায়নি। দেখা যাচ্ছে বিদ্যুৎ অফিসের সামনেই বিল বোর্ডে আলো জ্বলছে রাতভর।

এ বিষয়ে বিপিডিবি চেয়ারম্যান বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। দুই দিন আগে একটি সভায় কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। ওই সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে যে সব এলাকায় বিদ্যুৎ বিভাগের নির্দেশনার ব্যত্যয় ঘটবে, সংশ্লিষ্ট এলাকার বিতরণ কোম্পানির সার্কেল এবং বিভাগীয় কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বিপিডিবির তথ্য অনুযায়ী দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে ২৯ হাজার ৫৯৩ মেগাওয়াট। এর মধ্যে ১২ হাজার ৪৭২ মেগাওয়াট (৪২.১৫ শতাংশ) গ্যাসভিত্তিক এবং ৮ হাজার ৪২৩ মেগাওয়াট (২৮.৪৬ শতাংশ) কয়লাভিত্তিক (আদানিসহ), ফার্নেস অয়েলভিত্তিক ৫ হাজার ৬৪১ মেগাওয়াট (১৯.০৬ শতাংশ), ডিজেলভিত্তিক ৭৮৬ মেগাওয়াট (২.৬৭ শতাংশ), সৌর বিদ্যুৎ ৭৯৭ মেগাওয়াট (২.৭৭ শতাংশ), জলবিদ্যুৎ ২৩০ মেগাওয়াট (.৮০ শতাংশ), বায়ু বিদ্যুৎ ৬২ মেগাওয়াট (.২২ শতাংশ)। এর বাইরে রয়েছে ভারত ও নেপাল থেকে আমদানি।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিদ্যুৎ উৎপাদনে ২ হাজার ৫২৪ মিলিয়ন ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হয়েছে মাত্র ৮৬১ মিলিয়ন ঘনফুট।

অর্থাৎ দুই-তৃতীয়াংশ গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বেকার পড়ে থেকেছে। ওই ঘাটতি সামাল দেওয়ার মতো উপযুক্ত বিকল্প বিপিডিবির হাতে নেই। অতীতে এমন পরিস্থিতিতে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন বাড়ানো হতো। এবারে তেল সংকটের কারণে পুরোমাত্রায় উৎপাদন করা যাচ্ছে না। আবার ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়াকে লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অন্যদিকে পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপরেশন) প্রকৌশলী মোঃ শোয়েব বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, আগামী সপ্তাহ থেকে গ্যাস সরবরাহ পুর্বের অবস্থায় ফেরানোর চেষ্টা চলছে। ২১ জুলাই সংকটের আগে দৈনিক ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হলেও মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ২ হাজার ৩২৯ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু বাস্তবতা বলছে, সহসা ২১ জুলাইয়ের আগের পর্যায়ে সরবরাহ নিশ্চিত করার কোন পথই খোলা নেই।

আমদানি পূর্বের অবস্থানে ফিরলেও দেশীয় উৎপাদন পূর্বের অবস্থায় ফেরার কোন সুযোগ নেই। ২১ জুলাই দেশীয় উৎসের গ্যাস সরবরাহ ছিল ১ হাজার ৬৫৬ মিলিয়ন ঘনফুট, যা এখন ১ হাজার ৬২০ মিলিয়নে নেমে এসেছে। মজুদ কমে যাওয়ায় প্রতিদিনেই কমছে উৎপাদন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category