• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৮ পূর্বাহ্ন
Headline
নলডাঙ্গায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত, গুরুত্ব পেল জনসচেতনতা যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী মাহমুদুল আলমের উদ্যোগে প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইল চেয়ার, সেলাই মেশিন ও ক্রাচ বিতরণ সান্তাহার পৌর যুবদলের উদ্যোগে নানা আয়োজনে ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত দুই বছরের মধ্যে স্বাস্থ্যখাতে আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্য: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের ৫ অগ্রাধিকার খাতে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে: রাষ্ট্রপতি  বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে সুইজারল্যান্ডের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী  বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে আগ্রহী জাপান উন্নত বাংলাদেশ গড়তে প্রবাসী-দেশবাসীকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

রামগতির সাবরেজিস্ট্রার ২ দিন অফিসে, সপ্তাহের বাকি ৩ দিন ‘উধাও’ সরকারি কর্মকর্তা

রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি / ৩৭ Time View
Update : রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬

সংগৃহীত ছবি
লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার কার্যালয়ে সেবা নিতে এসে চরম ভোগান্তিতে পড়ছে সাধারণ মানুষ। অভিযোগ উঠেছে, কার্যালয়টির সাবরেজিস্ট্রার ধীমান সেন সপ্তাহের পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে মাত্র দুই দিন অফিস করেন।

বাকি তিন দিন তিনি অফিসে থাকেন না। এতে দলিল নিবন্ধনসহ গুরুত্বপূর্ণ কাজে এসে দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে ক্রেতা-বিক্রেতা ও জমি-সংশ্লিষ্টদের।দলিল লেখক ও সেবাপ্রত্যাশীদের অভিযোগ, সাবরেজিস্ট্রারের অনিয়মিত উপস্থিতির কারণে দলিল সম্পাদনা ও নিবন্ধনের কাজে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হচ্ছে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষ কর্মকর্তা কখন অফিসে থাকবেন এবং কখন দলিল সম্পাদন হবে—এ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়ছেন।

এতে সময় ও অর্থ দুটিই অপচয় হচ্ছে।মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সরেজমিনে সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সাবরেজিস্ট্রারের অফিসের পাশের কক্ষে বসে আছেন মোহরার (নথি রক্ষক) জল্পনা রানী দাস ও রুনু প্রভা দাস। এ সময় তারা জানান, সাবরেজিস্ট্রার সপ্তাহে দুই দিন অফিস করেন। প্রতি সপ্তাহের মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার তিনি কার্যালয়ে আসেন।

বাকি সময় তিনি কখনো লক্ষ্মীপুর, আবার কখনো চট্টগ্রামে থাকেন।কার্যালয়ের বাইরে অপেক্ষমাণ সেবাপ্রত্যাশী ইলিয়াস ও আতর জামান বলেন, জমি কেনাবেচার দলিল সম্পাদনের জন্য অনেক আগেই প্রস্তুতি নিয়ে সাবরেজিস্ট্রার কার্যালয়ে এসেছেন। কিন্তু কর্মকর্তা অফিসে না থাকায় পুরো প্রক্রিয়া আটকে যাচ্ছে। বিশেষ করে নির্ধারিত তারিখে দলিল সম্পাদন করতে না পারায় ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে বিরোধ এবং আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। তারা জানান, তিন দিন ধরে অফিসে এসে ফিরে যেতে হচ্ছে।

আরেক সেবাপ্রার্থী ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘এভাবে আর কত দিন আসব? অফিসে এলে শুনি সাবরেজিস্ট্রার নেই, দলিল নিবন্ধন হবে না। মানুষের এই ভোগান্তি দেখার কেউ নেই?’

সেবাপ্রত্যাশী ও কয়েকজন দলিল লেখক জানান, সাবরেজিস্ট্রারের অনিয়মিত উপস্থিতির কারণে কার্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। একদিকে সরকারি সেবা নিতে আসা মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে, অন্যদিকে দলিল নিবন্ধন-সংক্রান্ত কাজেও জট তৈরি হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুইজন দলিল লেখক অভিযোগ করেন, সাবরেজিস্ট্রার তাঁর ইচ্ছামতো অফিস করেন। মন চাইলে আসেন, না চাইলে আসেন না। তাদের দাবি, সপ্তাহে যে দুই দিন তিনি অফিস করেন, ওই দুই দিনে প্রায় দুই শতাধিক দলিল নিবন্ধন করা হয়। প্রতিটি দলিলের জন্য তিনি দুই হাজার টাকা করে নেন বলেও অভিযোগ করেন তারা। কোনো দলিলে জটিলতা থাকলে টাকার অঙ্ক আরো বেড়ে যায় বলে দাবি করেন তারা।

তবে টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাব-রেজিস্ট্রার ধীমান সেন।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে জানতে একাধিকবার তাঁর মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে খুদে বার্তা পাঠানো হলে রাত ৯টা ২০ মিনিটে তিনি ফোনে কথা বলেন। এ সময় সপ্তাহে দুই দিন অফিস করার কথা স্বীকার করে ধীমান সেন বলেন, বাকি তিন দিন তিনি অফিসের কাজে ব্যস্ত থাকেন। তবে টাকা নেওয়ার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।

সপ্তাহে দুই দিন অফিস করার বিষয়টি নিশ্চিত করে রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, ‘ঘটনা সত্য। আমার জানামতে, তিনি সপ্তাহে দুই দিন অফিস করেন। বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখব।’

লক্ষ্মীপুর জেলা সাবরেজিস্ট্রার নীরোদ বরণ বিশ্বাস বলেন, ‘প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত অফিস করা বাধ্যতামূলক। তিনি কেন অনিয়মিত অফিস করছেন, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

সেবাপ্রত্যাশীদের দাবি, সরকারি কার্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা জরুরি। একজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার অনুপস্থিতির কারণে একটি উপজেলার বিপুলসংখ্যক মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category