সেবাপ্রত্যাশী ও কয়েকজন দলিল লেখক জানান, সাবরেজিস্ট্রারের অনিয়মিত উপস্থিতির কারণে কার্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। একদিকে সরকারি সেবা নিতে আসা মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে, অন্যদিকে দলিল নিবন্ধন-সংক্রান্ত কাজেও জট তৈরি হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুইজন দলিল লেখক অভিযোগ করেন, সাবরেজিস্ট্রার তাঁর ইচ্ছামতো অফিস করেন। মন চাইলে আসেন, না চাইলে আসেন না। তাদের দাবি, সপ্তাহে যে দুই দিন তিনি অফিস করেন, ওই দুই দিনে প্রায় দুই শতাধিক দলিল নিবন্ধন করা হয়। প্রতিটি দলিলের জন্য তিনি দুই হাজার টাকা করে নেন বলেও অভিযোগ করেন তারা। কোনো দলিলে জটিলতা থাকলে টাকার অঙ্ক আরো বেড়ে যায় বলে দাবি করেন তারা।
তবে টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাব-রেজিস্ট্রার ধীমান সেন।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে জানতে একাধিকবার তাঁর মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে খুদে বার্তা পাঠানো হলে রাত ৯টা ২০ মিনিটে তিনি ফোনে কথা বলেন। এ সময় সপ্তাহে দুই দিন অফিস করার কথা স্বীকার করে ধীমান সেন বলেন, বাকি তিন দিন তিনি অফিসের কাজে ব্যস্ত থাকেন। তবে টাকা নেওয়ার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।
সপ্তাহে দুই দিন অফিস করার বিষয়টি নিশ্চিত করে রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, ‘ঘটনা সত্য। আমার জানামতে, তিনি সপ্তাহে দুই দিন অফিস করেন। বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখব।’
লক্ষ্মীপুর জেলা সাবরেজিস্ট্রার নীরোদ বরণ বিশ্বাস বলেন, ‘প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত অফিস করা বাধ্যতামূলক। তিনি কেন অনিয়মিত অফিস করছেন, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
সেবাপ্রত্যাশীদের দাবি, সরকারি কার্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা জরুরি। একজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার অনুপস্থিতির কারণে একটি উপজেলার বিপুলসংখ্যক মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।