• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫১ পূর্বাহ্ন
Headline
প্রাথমিকে ৯৩, মাধ্যমিকের ৫৭ শতাংশ বই ছাপা শেষ, নভেম্বরে শতভাগ সরবরাহের লক্ষ্য ৪ বছরে ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষক কার্ড দেবে সরকার ইউপি নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনে প্রার্থিতা বাতিল, সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড জাপানে টয়োটার মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী ডিএফওর বিরুদ্ধে অর্থ ছাড় না দেওয়ার অভিযোগ, পাঁচ মাস ধরে ভাতা বন্ধ লাউয়াছড়ার কর্মীদের তুরাগ নদ থেকে বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার অস্তিত্ব হারানোর পথে আড়িয়াল খাঁ, ময়নাকাটা বিশ্ববাজারে আবার কমল জ্বালানি তেলের দাম বিদায়ের ক্ষণ গুনছেন নেতানিয়াহু নওগাঁর নিয়ামতপুরে আরডিআরএস বাংলাদেশের উদ্যোগে সাড়ে ৭ হাজার গাছের চারা বিতরণ

২৮ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ছয়টি বন্ধ, সাতটি বন্ধ হওয়ার পথে ভয়াবহ জ্বালানি সংকট

চট্টগ্রাম ব্যুরো / ৫৪ Time View
Update : শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬

২০০ মেগাওয়াট লোডশেডিং পিডিবি দেখাচ্ছে শূন্য * ইউরিয়া কারখানা বন্ধ সাড়ে পাঁচ মাস

এদিকে গ্যাস সংকটের কারণে বিগত পাঁচ মাস বন্ধ রয়েছে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডের (সিইউএফএল) উৎপাদন। সার কারখানাটি চালু রাখতে দৈনিক প্রায় ৪৫ এমএমসিএফডি গ্যাস প্রয়োজন। কিন্তু প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ না পাওয়ায় উৎপাদন চালু রাখা যাচ্ছে না। কাগজে-কলমে লোডশেডিং না থাকলেও প্রকৃতপক্ষে লোডশেডিং চলছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) মঙ্গলবারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চট্টগ্রামের ২৮টি বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রের মধ্যে ছয়টিই বন্ধ রয়েছে। ৯টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন তিন ভাগের এক ভাগে নেমে এসেছে।

 নগরীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে পিডিবি। আর বিভিন্ন উপজেলায় বিদ্যুৎ যায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (পবিস) মাধ্যমে। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বন্ধ হয়ে যাওয়া কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে হাটহাজারী বিদ্যুৎকেন্দ্র, কাপ্তাই সোলার (৭ দশমিক ৪ মেগাওয়াট), রাউজান-১ ও রাউজান-২ (দুটি ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র), টেকনাফ সোলার (২০ মেগাওয়াট) ও ইউনাইটেড পাওয়ার (৫০ মেগাওয়াট)।

বিদ্যুৎ উৎপাদন তিন ভাগের এক ভাগে নেমে এসেছে সাতটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে। সেগুলো হলো আনলিমা এনার্জি লিমিটেড (১১৬ মেগাওয়াট), আনোয়ারা ইউনাইটেড (৩০০ মেগাওয়াট), বারাকা (৫০ মেগাওয়াট), বারাকা কর্ণফুলী, জুলদা-১ ও জুলদা-২ বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং জুডিয়াক (৫৪ মেগাওয়াট) বিদ্যুৎকেন্দ্র। তবে পিডিবির হিসাব অনুযায়ী, চট্টগ্রামে বিদ্যুতের কোনো সংকট নেই, চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন রয়েছে। চট্টগ্রামে বিদ্যুতের চাহিদা দৈনিক পিক আওয়ারে ১ হাজার ৬৮ দশমিক ৭৯ মেগাওয়াট। সরবরাহও সমপরিমাণ। আর অফ পিক আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা ৯৫৮ দশমিক ৮৭ মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ সরবরাহও সমপরিমাণে। অর্থাৎ তাদের দাবি, এখন কোনো লোডশেডিং নেই। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। প্রতিদিনই ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং করা হচ্ছে।

বুধবার কল্পলোক আবাসিক এলাকায় সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ১০টা পর্যন্ত লোডশেডিং করা হয়। পিডিবি কাগজে-কলমে শূন্য মেগাওয়াট লোডশেডিং দেখানো হলেও প্রকৃতপক্ষে লোডশেডিং ২০০ মেগাওয়াটের বেশি। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে আরও কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ভুক্তভোগীরা জানান, নগরীর পাথরঘাটা, আসকারদিঘির পাড়, হালিশহর, কালুরঘাট ও বায়েজিদ বোস্তামীসহ শিল্পাঞ্চলে কয়েকদিন ধরে ঘনঘন লোডশেডিং হচ্ছে। দিনে গড়ে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। বায়েজিদ বোস্তামী শিল্পাঞ্চলসহ বিভিন্ন শিল্পকারখানায় উৎপাদন ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। শিল্পকারখানা, ফ্ল্যাটবাড়িসহ বড় বড় অফিস-আদালতে জেনারেটর চালিয়েও সংকট সামাল দেওয়া যাচ্ছে না।

সাড়ে ৫ মাস বন্ধ রয়েছে ইউরিয়া সার কারখানা সিইউএফএলের উৎপাদন। সর্বশষ ৩ মার্চ কারখানাটি উৎপাদনে ছিল। পরদিন থেকে গ্যাস সংকটে কারখানাটি বন্ধ হয়ে যায়। এতে কারখানাটি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির এক হাজারের বেশি শ্রমিক-কর্মচারীর জীবন-জীবিকা নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। তবে চলতি মাসের শেষের দিকে গ্যাস সরবরাহ পেতে পারে প্রতিষ্ঠানটি।

 সিইউএফএলের উপব্যবস্থাপক (প্রশাসন) সমীরন মারমা যুগান্তরকে জানান, গ্যাস সংকটের কারণে ৪ মার্চ থেকে সার উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। চলতি মাসের শেষের দিকে গ্যাস সরবরাহ পাওয়ার কথা আছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category