ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে গত ছয় মাসে পুলিশ নিয়োগ কার্যক্রমে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব বা দলীয়করণ ছাড়াই শতভাগ স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে এ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকের শুরুতে পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। পরে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে গৃহীত পদক্ষেপ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়। মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম একটি প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে কমিটির সামনে উপস্থাপন করা হয়।
বৈঠকে মাদক ও জুয়াকে দেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এসব অপরাধ নির্মূলে কার্যকর ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন কমিটির সদস্যরা। মাদকের বিরুদ্ধে জাতীয় সংসদের সব সদস্য ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে রয়েছেন উল্লেখ করে মাদকবিরোধী জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।
বৈঠকে জানানো হয়, মাদক নির্মূলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, ট্রাইব্যুনাল ও এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত গঠনসহ বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট খাতওয়ারী বিভাজন ও ব্যয় পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে জানানো হয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্য মোট প্রস্তাবিত বাজেট ৩১ হাজার ৯৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে পরিচালন বাজেট ২৮ হাজার ৬৩৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা এবং উন্নয়ন বাজেট ২ হাজার ৪৬০ কোটি ২১ লাখ টাকা।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন সংস্থাগুলোর বাজেট ও ব্যয় বিভাজন সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যও উপস্থাপন করা হয়।
সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ, জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম, হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, মীর শাহে আলম, মো. কামরুজ্জামান, মো. মনোয়ার হোসেন, শিরীন সুলতানা, মো. নুরুল ইসলাম এবং মো. আব্দুল বাতেনসহ কমিটির সদস্যরা অংশ নেন।
এ সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন অধিদপ্তরগুলোর মহাপরিচালক, সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রধান এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।