• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৫ পূর্বাহ্ন
Headline
নলডাঙ্গায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত, গুরুত্ব পেল জনসচেতনতা যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী মাহমুদুল আলমের উদ্যোগে প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইল চেয়ার, সেলাই মেশিন ও ক্রাচ বিতরণ সান্তাহার পৌর যুবদলের উদ্যোগে নানা আয়োজনে ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত দুই বছরের মধ্যে স্বাস্থ্যখাতে আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্য: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের ৫ অগ্রাধিকার খাতে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে: রাষ্ট্রপতি  বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে সুইজারল্যান্ডের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী  বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে আগ্রহী জাপান উন্নত বাংলাদেশ গড়তে প্রবাসী-দেশবাসীকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

যেভাবে গঠিত হয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৪৭ Time View
Update : শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬

 অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শপথ। ছবি : বিবিসি বাংলা
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর মাত্র তিন দিনের মধ্যে বাংলাদেশে গঠিত হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তবে এই সরকার গঠনের প্রক্রিয়া ছিল নানা আলোচনা, টানাপোড়েন ও নাটকীয়তায় ভরা। শেষ পর্যন্ত ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে নতুন সরকার শপথ নেয়।
 ৫ আগস্ট ২০২৪ দুপুরে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন, এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পরই রাজনৈতিক পরিবর্তনের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এর কিছু পর জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে চলে গেছেন।
বিকেলে সেনাপ্রধান জানান, শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেছেন এবং একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হবে। এর আগে সেনাসদরে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা এবং কয়েকজন শিক্ষক ও রাজনৈতিক ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক হয়। আওয়ামী লীগের কোনো প্রতিনিধি সেখানে ছিলেন না।
পরে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, তিন বাহিনীর প্রধান ও রাজনৈতিক নেতাদের বৈঠক হয়। সেখানে সংসদ বিলুপ্ত করে দ্রুত অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। তবে সরকারের প্রধান কে হবেন, সে বিষয়ে তখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
এদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা সেনাসদরে রাজনৈতিক নেতাদের বৈঠকে যাওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানান। তারা সেনাসমর্থিত কোনো সরকার মেনে না নেওয়ার ঘোষণা দেন। আন্দোলনের নেতারা একটি জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব নিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গেও ভার্চুয়াল বৈঠক করেন। তবে এ বিষয়ে ঐকমত্য হয়নি।
এর মধ্যেই ছাত্রনেতাদের আলোচনায় আসে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নাম। আন্দোলন চলাকালীন আগস্টের শুরু থেকেই তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে পরে আন্দোলনের নেতা ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জানান।
৫ আগস্ট রাতে ছাত্রনেতারা ফ্রান্সে চিকিৎসাধীন ড. ইউনূসের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। তারা তাকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হওয়ার প্রস্তাব দেন। দীর্ঘ আলোচনার পর তিনি দায়িত্ব নিতে সম্মতি জানান। পরে নাহিদ ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার নাম প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ঘোষণা করেন।
৬ আগস্ট বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি ও তিন বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে ছাত্রনেতাদের বৈঠক হয়। সেখানে ড. ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করার প্রস্তাব দেওয়া হলে রাষ্ট্রপতি তাতে সম্মতি জানান। পাশাপাশি সম্ভাব্য উপদেষ্টাদের একটি তালিকাও দেওয়া হয়।
পরবর্তী দুই দিনে রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ ও বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে উপদেষ্টা পরিষদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। ৮ আগস্ট ফ্রান্স থেকে দেশে ফেরেন ড. ইউনূস।
সেদিন রাতে বঙ্গভবনে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন তিনি। প্রথমে ১৩ জন উপদেষ্টা শপথ নেন, পরে আরও কয়েকজন যুক্ত হন। তাদের মধ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারাও ছিলেন।
এভাবেই শেখ হাসিনার পতনের পর প্রায় তিন দিনের সরকারবিহীন পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারের যাত্রা শুরু হয়। পরে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ সংবিধানে সরাসরি বিধান না থাকলেও বিশেষ পরিস্থিতিতে এই সরকার গঠনের পক্ষে মত দেয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category